কবিতা

দ্রোহের স্বর (ম্যাগাজিন)

আমি তো ধ্রুপদী আকাশ দেখে
গুটিয়ে রাখা পা বাড়ানোর পথে।
শামুক শামুক চিৎকার শুনে
কচ্ছপ গতির মানবিক আমি বুনে,
আবারো গুটিয়ে ফেলেছি।
শামুক শামুক!

আমি তো হিমেল হাওয়া দেখে
পোড়ানো একটুকরো মাংস নিয়ে।
ছাই ছাই চিৎকার শুনে
আদ্র ন্যাংটো ঝরা-পাতার মত,
তলিয়ে গিয়েছি আমি।
ছাই ছাই!

মোমের আলো জ্বালাতে গিয়ে
চৈত্রের “আমি এডাল্ট হয়ে গেছি
তাই বোশেখের ঝড় চুরি করে
নিয়ে এসে গেছি”। কবিতা শুনে,
আমি আমার মত করে চুপসে গেছি।
আহা! আলো।।

ক্যাকটাসে কাটা দেখি না, খুঁজি
তিক্ত রসালো পানীয়, যাহা আমার
ভালবাসাটুকু টাইম মেশিনের
ভিতরে ফেলে আবর্তনের মধ্য দিয়ে
এনে দিবে হাতের মুঠোয়! জ্বলন্ত অঙ্গার
হলেও আগলে রাখিব বুকে।

তালার মত চাঁদ উঠেছে?
নাকি জ্বলসানো রুটির মত?
সাথে কি উঠেছে তারা?
হুম! একটি মাত্র?
তিলের মত লাগছে তারে?
ইস! আজ সে বড্ড একা!

গল্প
কিছু গল্প (ম্যাগাজিন)

এমসি কলেজের বাংলা ২য় বর্ষের ছাত্র। ব্যাকডেটেড, ক্ষ্যাত জাতীয় যত তকমা আছে সব আমার উপর। বন্ধুরা দিয়েছে এসব তকমা। সারাক্ষণ বাসায় থাকি। সকাল শুরু হয় ১২.৩০ মিনিটে। ঘুম থেকে উঠে দেখি মা চলে গেছে কলেজে, বাবা অফিসে আর আমি বাসায় একা। টেবিলের উপর নাস্তা রেডি করা থাকে নাস্তা সেরে টিভি দেখি মাঝে মাঝে বই পড়ি, সময় পেলে চলে যাই ছাদে। বানরের সাথে খেলি। আমাদের বাসার পাশেই একটি মাজার। হযরত শাহ চাষণী পীর (র) এর মাজার। তিনি ছিলেন নৃ-বিজ্ঞানী, ৩৬০ আওলিয়ার একজন। হজরত শাহ জালাল (র) সুদূর ইয়েমেন থেকে যখন সিলেটে আসলেন তখন চাষণী পীর (র) শাহজালাল (র) এর সাথে থাকা মাঠি পরীক্ষা করে সিলেটের মাঠির সাথে মিল পেলেন। যাক সে কথা। মাজারটি অবস্থিত টিলার উপর, আশপাশে ঘন জঙ্গলের মত। কবে থেকে বানরেরা এসে বসতি গড়েছে তা আব্বুও বলতে পারেনা। হাজারের উপর বানর আছে। মানুষেরা অসহ্য এদের জ্বালায়। একবার একজনে চারটা বানর মেরেছিল বলে ছয়মাস জেল খেটেছে। বানর থাকা না থাকা নিয়ে এলাকায় দু-পার্ট আছে। একবার মারামারি পর্যন্ত হয়েছিল, প্রশাসন এসে এক হাত করেছে।
বিকেল বেলাটুকু কাটিয়ে দেই ছাদে। বানরের লাফালাফি দেখতে ভালই লাগে। ইয়া বড় বড় একেকটার ওজন ৬০/৭০ কেজি হবে। দেখতে অবিকল মানুষের মত। এদের নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ নেই। ছোটবেলায় আমি খুব চঞ্চল ছিলাম। একবার আম্মু এবং আব্বু ছাদের একপাশে বসে চা খাচ্ছিল আর আমি হাঁটতে হাঁটতে পা পিছলে পড়ে যাই নিচে।  আমাদের বাসাটি তিন তলা। নিচে কাঁঠালগাছে কাঁঠাল বেড়া দেয়ার জন্য রাখা নেটে গিয়ে আটকে যাই। এবং কোথা থেকে একটি মস্ত বড় বানর এসে আমায় ধরে নিয়ে ছাদে রেখে আসে। আব্বু-আম্মু দেখে তো অবাক। সেই থেকে আমরা বানর দেখলে তাড়াইনা। কিছু একটা খেতে দেই ওরা চলে যায়। আমাদের ছাদের উপর শুকানর জন্য রাখা কাপড়ের উপর তারা কখনো হামলা করে না। উল্টো পাশের বিল্ডিং থেকে কাপড় নিয়ে এসে আমাদের ছাদে রেখে দেয়। বানর সম্পর্কে বিস্তর জানার জন্য নেট ঘাটাঘাটি এবং যত রকমফের বই আছে সংগ্রহ করার চেষ্টা করলাম। আম্মুর কাছ থেকেও অনেক কিছু জানলাম। বিবর্তনবাদে কাইত হতে যেয়েও হঠাৎ মাথা নাড়া দিয়ে উঠিল বিবর্তনবাদের উল্লেখযোগ্য সূত্র ফসিল নিয়ে ডাহামিথ্যে রটনা। এবং যে লজিক গুলো তুলে ধরা হয়েছে তা খুব লেইম লজিক।
আম্মু কলেজে বাংলার অধ্যাপিকা। চরম পর্যায়ের নাস্তিক। একই কলেজে আমিও পড়ি। আব্বু-আম্মু প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক করেন। আব্বু সব সময় হারেন। আম্মুর যুক্তির কাছে আব্বু বড় অসহায়। একবার আমি আব্বুর হয়ে দু-চারটি যুক্তি তুলেছিলাম। আম্মু প্রায় হেরেই গেছিল। রেগে আমাকে বলে “এতই যদি বিশ্বাস তবে সুইসাইড করতে গেলি ক্যান? ” আমি আর আব্বু চুপ হয়ে যাই। রাগলে আম্মু লাল হয়ে যায়,  সেদিন এমনই হয়েছিল।
চারদিন পর সূর্য্যের আলো মেঘ নামক কারাগার থেকে বেখসুর খালাস পেয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নগরীতে শান্ত-শীতলতা ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চারদিকে সবুজের সমারোহ, অঙ্কুরিত পাতায় মিষ্টি রোদ এসে পড়ে অন্যরকম শহরের জানান দিচ্ছে।
ইফতি ফোন দিয়েছে। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে..
-হ্যালো!  ফারহান, কইরে তুই?
-বাসায় আছিরে।
-কলেজে আয় না, আশরাফ, শামছ আইছে। রাজুও আইতাছে। বহুদিন আড্ডা দেয়া হয় না।
-ওকে! আইতাছি।
এদিকে আম্মু ডাকে।  নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। তাদের সব বুঝিয়ে দিতে হবে। কাজ সেরে কলেজে রওয়ানা।
২/
বন্ধ নিশ্বাস…। জীবন? সে তো একটু বাতাসের দোলের খোঁজে। সবাই বলে মরতেই নাকি আমার জন্ম। । আমার বয়স যখন একদিন তখনই আমার আব্বুর মৃত্যু হয়। মানে আমার জন্মদিনে আব্বুর মৃত্যুবার্ষিকী। কখনো জন্মদিন পালন করা হয় নাই।  তার বদলে আব্বুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করি। আব্বু মারা যাওয়ার পর চাচাদের ভয়ঙ্কর রূপ বের হয়ে আসে। আমাদের সব জমিজমা হাতিয়ে নেয়।গ্রামের মুড়লদের নিয়ে এসে বলে আব্বু-আম্মুর চিকিৎসার সময়ে তাদের নাকি অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সব মেনে নিতে হল, মেনে নিলাম। তারা কখনো আমাদের মা-মেয়েকে সুনজরে দেখেনি। পরামর্শ দেয় আমরা যেন বাড়ি ছেড়ে চলে যাই নানু বাড়িতে। আম্মু ছাড়তে নারাজ। শেষে বাধ্য হয়ে গ্রামের বাড়িটি ছেড়ে দিয়ে শহরে মামাদের বাসায় উঠি। মামার বাসাতে রুম স্বল্পতার কারণে আমাদের কখনো এক রুমে, কখনো ডাইনিং রুমের মেঝেতে থাকতে হল। আম্মুর ডিপজিটে অল্প কিছু টাকা জমা ছিল। আম্মু মামাকে বলে, অল্প ভাড়ায় কোন বাসার খোঁজ নিতে। ভাগ্য ভালো দুই রুমের একটি বাসা পেয়েছি। ভাড়া কম, এটাচ বাতরুম আছে। আম্মু সেলাই মেশিন নিয়ে আসে টুকটাক কাজ খোঁজে । তবে বানরেরা একটু জ্বালাতন করে, কিন্তু মেনে নিতে হবে। এই অল্প ভাড়ায় এর চেয়ে ভালো পাওয়া যাবে না। আরো ভাল লাগল যখন জানলাম বাসার মালিক সাদিয়া ম্যাম আমাদের কলেজের অধ্যাপক। যদিও আমার বিভাগ অর্থনীতি। কিন্তু লেখালেখির একটু বাতিক থাকায় ম্যামকে কাছে পেয়ে সুবিধেই হল। অনার্স লাইফে আজ আমার প্রথম ক্লাস। জানিনা কি রকম লাগবে। দোয়া করি ক্লাসমেটরা যেন ভাল হয়।
সাস্টে ওয়েটিংয়ে ৩৩ নাম্বার ছিলাম। ৩২ নাম্বার পর্যন্ত নিছে শুধু আমিই কপালপোড়া। মরতেই যে আমার জন্ম। কতবার যে নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছি। পরমুহূর্তেই চিন্তা করি আমি চলে গেলে আমার আম্মুর কি হবে? শুধুমাত্র এইজন্য বেচে থাকা। শীর্ষেন্দু বলেছিলেন, স্রেফ বেচে থাকলেই নাকি অনেক কিছু দেখা যায়। আমি এই কিছু দেখার জন্য বেচে আছি। একবার আত্মহত্যা করতে গিয়ে এত বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলাম যে, মায়ের কথা ভুলে যাই।  গল্পটি ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারের। প্রথম যখন কলেজে যাই সে মুহূর্ত ছিল অসাধারণ। হরেক রকম ছেলে পিছু ঘুরতে লাগল। তেমনি একজন রাকিব। স্মার্ট ছেলে, প্রথম দেখাতেই আমি ওর উপর ক্রাশ খাই। পরিচয় থেকে..  “আই য়্যাঁম ইন লাভ” পর্যন্ত।
পহেলা বৈশাখের দুদিন আগে আমাকে বলল, “চল না ঢাকায় যাই, সেখানে রমনাবটমূলে কত রকম আমোদফুর্তি হয়।”
ওর কথায় আমি চলে যাই কল্পনার রাজ্যে। করি কিছুক্ষণ বিলাসিতা। কেউ একজন আমার হাত ধরে হাঁটছে। দেখছি চারদিকে চলছে রঙের খেলা। সে খেলায় ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছি আমি আর সে..।  ঠিক তখনি মনে পড়ল মায়ের কথা, আমার বর্তমান অবস্থান। মামার বাসায় থাকি, এর মাঝে যদি কোন অঘটন ঘটে তবে তো রেহাই নেই। আমি ঝটপট ‘না’ বলে দিলাম।
রাকিবের মুখে ঘন কালো মেঘের ছায়া দেখিতে পাইলাম। বলিলাম চিন্তা কর না। সিলেটে আমরা সারাদিন ঘুরব। এখানেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, আমরা যাব। ফুচকা খাব, চটপটি খাব। তারপর অনেকক্ষণ রিকসায় ঘুরব।
রাকিব এমনভাবে মাথা নাড়ল যেন সব ঠিক আছে।
তারপর আসল সেই শুভক্ষণ।  সারাদিন অনেক ঘোরাঘুরি হল। বিকেলে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গেলাম। খাওয়াদাওয়ার একফাকে রাকিব হাতের উপর হাত রাখল। আরো কাছে আসল, সে এক অন্যরকম শিহরন।
হঠাৎ বলে, চলনা আমরা আজকে একটা রাত ফাইভ-স্টার হোটেলে থাকি। নিজেদের আরো কাছাকাছি আরো একটু চেনা হল।
হ্যাঁ হ্যাঁ! সেদিন ছিল বৈশাখ। বোশেখের প্রথম প্রহর। আমার মাথায় প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়। কি করব কি বলব ভেবে পাইনা।
বলি, কি বলছ তুমি?
নির্লজ্জের মত উত্তর “আমাদের একে অপরকে জানার জন্য কাছাকাছি আসাটা খুবই জরুরী। আর তা ছাড়া ভালবাসা মানে শরীর..!”
চৈত্র মাসের খাঁ খাঁ করা খরার শেষে বোশেখের প্রথম প্রহরে হঠাৎ বলিয়া উঠিলাম। ওঁ! ভালবাসা মানে শরীর!! ভালবাসা মানে শরীর!!!

৩/
সাহিত্যের কিছুই বুঝিনা অথচ কপালের লিখা সেই বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স পড়তেছি। ক্লাসে আম্মু একবার সবাইকে তাদের পছন্দের লেখকের নাম বলতে বললেন। আমাকে প্রশ্ন করলে বলিলাম “শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায় “!! এই হলাম সাহিত্যিক আমি।
আম্মুর ক্লাস আমার কাছে সবসময় বিরক্তিকর। ক্লাসের মাঝে ধর্মীয়, নাস্তিক-আস্তিক, রাজনীতি নিয়ে মাতিয়ে তোলেন। আজ ক্লাসের ফাকে প্রশ্ন করলেন “তোমরা নামাজ কেন পড়?”
“স্রষ্টাকে সন্তুষ্টির জন্য, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য” ইত্যাদি ইত্যাদি উত্তর আসিল।
“আমরা নামাজ পড়ি মনের প্রশান্তির জন্য” আমি বলিলাম।
-মনের প্রশান্তির জন্য? কি রকম একটু এক্সপ্লেইন করতে পারবা?
-জ্বী ম্যাম। আমরা বৃষ্টিতে কেন ভিজি?
-কেন? মনের আনন্দে ভিজি।
-ইয়েস ম্যাম! আপনি এর আগেও একদিন বলেছিলেন, বৃষ্টি আমাদের আত্মার খাদ্য। তেমনি যারা নামাজ পড়ে তাদের কাছে সেটি আত্মার খাদ্য। মনকে প্রফুল্ল রাখার এক অন্যরকম অনুভূতি।
উত্তরটি আম্মুকে সন্তুষ্টি করতে পারে নাই।

সেই মেয়েটা না? হ্যাঁ আমাদের নতুন ভাড়াটিয়াই তো। সকালে পরিচয় হয়নি।
-হ্যালো! আমি ফারহান। কলেজে বাংলা ডিপার্টমেন্ট।
-ও! আমি ইফাত, ইফাত আরা জাহান। অর্থনীতি বিভাগ। আজকেই প্রথম ক্লাস।
-আপনি বোধহয় আমাদের বাসায় উঠেছেন?
-হুম্ম। আপনাকে সকালেই দেখেছি।
-চলেন না বাসায় যাই। ক্লাস তো শেষ।
-ম্যামের অপেক্ষা করতেছি, একসাথে যাব।
-উনার তো অনেক দেরি হবে আর তা ছাড়া বাসায় গিয়েও তো দেখা করতে পার।
-ওকে, যাওয়া যায়।
-ক্লাস কেমন লাগল?
-বেশ ভাল। আমি চিন্তাও করিনি সবাই এত বন্ধুসুলভ হবে। আর তাছাড়া ক্যাম্পাস আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে।
-হুম! আমাদের ক্যাম্পাস টা অসাধারণ।

৪/
ভরা পূর্ণিমায় যদি আকাশে মেঘ না থাকে ফারহান টেলিস্কোপ হাতে চলে যায় ছাদে জোৎস্নায় হাবুডুবু খেতে।
ছাদের উত্তর-পশ্চিম কোণে ফারহান দাঁড়িয়ে আছে টেলিস্কোপ হাতে নিয়ে। আজ বড্ড জঙ্গ ধরেছে টেলিস্কোপে, কিছুই লাগছেনা চোখে। কিভাবে কি লাগবে চোখে? আজ যে নক্ষত্ররাজ ভর করেছে ছাদের দক্ষিণ দিকে। দুঃখিত! নক্ষত্ররাণী। সাথে চাঁদের দুদন্ড জোৎস্না আছাড় খেয়ে পড়তেছে নক্ষত্ররাণীর উপর। এই তো কদিন আগে আসিল সে, দেখতে দেখতে কিভাবে করে ছয়টি মাস কেটে গেল।
এমনভাবে হাসিতে হাসিতে ইফাত আসিতে লাগিল উত্তরের দিকটায়। ঠিক যেন ফারহানের কাছে। ফারহান নিচে কাঠাঁলগাছটায় থাকায়। কাঠাঁল বেড়া দেয়ার জন্য এখনো নেট আছে। কিন্তু বানর কোথায়? ফারহান আরেকটু নিচে থাকায়, পাশের বাসার একতলা ভবনের ছাদে। শতশত বানর বসে আছে আর একটা মস্ত বড় বানর কখনো দাঁড়িয়ে কখনো নাচিয়ে অদ্ভুত রকমের বিনোদন যেন দিতেছে সবাইকে। ইফাত আরো কাছে আসে, ফারহান রেলিংয়ে হাত শক্ত করে ধরে আছে।
“কাল তো পহেলা বৈশাখ। নিবে আমায় সাথে? অনেকদিন নাগরদোলা চড়া হয় না।” ইফাত বলিয়া উঠিল।

…..সমাপ্ত……

কুড়ি বসন্ত পেরিয়ে একুশে পা (নন ম্যাগাজিন)

আঠারো, উনিশ কিংবা কুড়ি। বয়ঃসন্ধিকালের সময়টুকুন কিভাবে কাটাইতেছি তাহা আজ অবধি ভাবি নাই। গেছে তিন বসন্তে কতশত চৈত্রের খাঁ খাঁ করা খরা কাটিয়েছি কিংবা হাজারো বোশেখের ঝড় এসে এমনভাবে লন্ডবন্ড করে দিয়েছে চারপাশ যেন এজন্মে তার সমাধানকরা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।
নির্ঘুম কত রাতের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়েছি। পটাশিয়াম সায়ানাইড কে সঙ্গী করে কত হাজারো অবৈধ চিন্তা এসে নিজেকে শেষ না করে দিয়েও যেন বড্ড শাস্তি দিতেছে। একসময়ের ধার্মিক আমি আজ স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কাঠি দোলাচল করে অবিশ্বাসের পাল্লা বারংবার ভারী করে দিয়ে যাচ্ছে।
গেছে ঈদের রাতে ভাবলাম আমার কোন ঈদ আনন্দ থাকতে নেই। একসাথে চারটি ঘুমের ঔষধ খেয়ে পরেরদিনের ঈদের আনন্দ পরিবারের সহ মাঠি করে দিলাম। তখন আমি ঘোর বিষাধে ডুবে থাকা এক সদ্য যুবা। ঠিক পরের রাতে মৃত্যুর সব মঞ্চ প্রস্তুত করে আরো সাতটা ঘুমের বড়ি একসাথে খেয়ে ঘোরটাকে আরো সহস্রগুন বাড়িয়ে দিয়েছি। মরেই যেতাম, কিন্তু কিছুক্ষণ আগে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে ছাড়া স্ট্যাটাসটি আমাকে নতুন জন্ম দিল। হাসপাতাল পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি এবং মৃত্যুর সাথে পাঁচদিন পাঞ্জা লড়ে আবারো বেচে ওঠা।
বয়ঃসন্ধির কঠিন সময় এভাবেই কাঠিয়ে অসহায় মনকে শান্তনা দিচ্ছি “বেচে থাক না”।
অল্প কিছুক্ষণ পরেই বিষাধে মাখা কুড়ির কোঠা পেরিয়ে একুশে পা দিব। এভাবে হয়ত আরো কাহিনী হবে। বেচে থাকার জন্য অবৈধ রকমের যত চেষ্টা আছে চালিয়ে যাব। একুশের কাছে আমার প্রার্থনা, ভুলে যাক কুড়ি অবধি আধারের হাবুডুবু খেলা। শুভ কামনা প্রিয় একুশ!!

২৩৮জন ২৩৮জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ