একফোঁটা নীরদের অপেক্ষা

খাদিজাতুল কুবরা ৮ ডিসেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ০৩:২৯:৫২অপরাহ্ন গল্প ৬ মন্তব্য

 

অপেক্ষা ও আজকাল ক্লান্ত! হ্যাঁ একদম তাই। আমি শুধু অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টায় নিরন্তর হেঁটে চলছি। কখনো সখনো হয়ত অনিমেষের নম্বর বেজে উঠে ফোন স্ক্রিনে, বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম শব্দ স্থির হওয়ার আগেই কথোপকথন শেষ! এটাকে ঠিক কথোপকথন বলা যায়না। হ্যালো বলতে বলতেই সে ব্যস্ত ত্রস্ত হয়ে জানতে চায়,

__এই কি অবস্থা তোমার? কেমন আছ?

 

আমি ও পড়ি কি মরি করে উত্তর দেই।

 

__এইতো ভালো আছি।

 

অথবা প্রকৃত অবস্থা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছি হয়ত, ততক্ষণে অনিমেষ….

 

__ওকে বাই।

 

আমার আর জানতে চাওয়া হয়না সে কেমন আছে? বলা হয়না দিনটা ভালো কাটুক! জানা হয়না সময়মতো খেয়েছে কিনা? বোঝাই যায় এসব নিষ্প্রয়োজনীয় আলাপ। ভরা পেটে অমৃত ও বিষাদ।

আমি কিছুই খতিয়ে দেখিনা বা বোঝার চেষ্টা করিনা। শুধু জানি তাকে প্রচন্ড রকম ভালোবেসে যে গভীর গর্ত আমি নিজের জন্য খুঁড়েছি তার গভীরতা মাপার চেষ্টা না করাই ভালো। থাকুকনা মানুষটা নিজের মতো, গল্প করতে ভালো লাগলে নিশ্চয়ই করত। আমার জংধরা গল্পগুলো যে সময় অপচয় করে তা আমি ও জানি। বাকি থাকে প্রয়োজনীয় সংলাপ, আমাদের তেল নুনের মাসকাভারী ফর্দ নেই, মাস শেষে বিল পরিশোধের তাড়া নেই, সংযোগ স্থাপনের জন্য শব্দের সেতু বাঁধা হয়না তাই।কর্পোরেট দুনিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার ইঁদুর দৌড়কে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অর্থবিত্তের চেয়ে ও সময়ের কড়ায় গন্ডায় হিসেব রাখতে হয় এখনকার দিনে। যুগ যুগ ধরে ভালোবাসা বরাবরই হেরে যায় শ্রেনিবিভেদের কাছে। চার দশকে কতজনের ভালোবাসাকে পায়ে মাড়িয়ে এসেছি তবুও নিঃসঙ্গতার সাথে আপোষ করিনি। আসলে করতে পারিনি। মনে আছে প্রথম কৈশোরে এক দীনহীন এতিম তরুণের পানি পার্থনার জবাব কি নির্মমভাবে দিয়েছিলাম।সেদিন শ্রেনিবিন্যাসের অংকটা মেলাতে আমার একটু ও সময় লাগেনি। আজ মধ্যগগনে সূর্যের তাপে অসহ্য হয়ে আমি ও হাত বাড়িয়েছি চাঁদের দিকে!বাস্তবতা তার প্রকৃতি ভোলেনি একটুও। ভালোবাসার বিনিময়ে সে হয়ত করুনার চোখ মেলে তাকায়, আমি তাতেই এলোমেলো হয়ে যাই, ভেতরে ভেতরে ভয়ে ক্ষয়ে যাই! ঐটুকুন হারানোর ক্ষমতা আমার আর নেই। হ্যাঁ আমি আত্মসম্মানের মুকুট খুলে আত্মসমর্পণ করি একটি অনিন্দ্য সুন্দর মিষ্টি সকালের কাছে, যেদিন সে লিখে রাখে ইনবক্সে

 

__শুভ সকাল সূচি

 

আর যখন খাঁ খাঁ দুপুরে এসএমএস করে

 

__কি করো সূচি?

 

আমার দিনটা সম্পূর্ণ হয় এই ছোট্ট প্রশ্নে!

 

আর যেদিন রাতে শোবার আগে লিখে রাখে

 

__ভালোবাসি সূচি! অনেক অনেক।

 

আবেশে আমার দুচোখে সুখের ঘুম জড়িয়ে আসে! গভীর ঘুমে রাত পার হয়ে যায়। ভালোবাসার সংজ্ঞা মেলানোর চেষ্টা করিনা আর। হিসেব করে আর যা-ই হোক ভালোবাসা যায়না। আত্মঅহম আমাকে কেবল নিঃসঙ্গতার শেকলে বেঁধে নৈঃশব্দের অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। তাই আমি এখন আর সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করিনা। অপেক্ষায় থাকি একফোঁটা সুখের নীরদের! সুশীল কুশীলবদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই অভিমান অভিযোগের রুক্ষ উপত্যকায় আদৌ কি প্রেম আছে? আমি বলব আছে বন্ধু আছে! এক নিরাকার প্রেম আছে আমাদের মধ্যে! যা শ্রেনিবিভেদের গরাদ এড়িয়ে আকার পায়না। যদি প্রেম নাইবা থাকবে তাহলে ছোট ছোট শব্দগুলো বাক্য হতোনা, কেউতো কাউকে  মামলা ঠোকার দিব্যি দিইনি। হ্যাঁ স্বীকার করছি যে, মামা বাড়িতে পালিত এতিম শিশুটির মতো অনাদরে বেড়ে উঠে আমাদের ক্যাকটাস ভালোবাসা! তবুও প্রেম বেঁচে থাকুক, উহ্য বা অনুহ্য যেভাবেই হোক! ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষ!

৩৬৫জন ১১৯জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ