একদিন

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে ১৯ জানুয়ারী ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ১২:১৪:৪৯পূর্বাহ্ন গল্প ৩৪ মন্তব্য

ব্যাগ হাতে স্টেশনের বাইরে আসা মাত্র সিএনজি ওয়ালারা যেভাবে ডাকা শুরু করলো যেন পারলে ঘার ধরে সিএনজিতে উঠিয়ে নেয়। কই যাবেন? কই যাবেন? আসেন, ব্যাগ দেন, এমন অত্যাচারে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। আরে ভাই আমি যাবনা, আমার সিএনজি দরকার হলে আমি নিজেই তো ডাকবো আপনাদের। না আমি হেঁটে যাবো, সিএনজি দরকার নেই, আমি রিক্সায় যাবো। ভাই, মামা সিএনজি লাগবে শুনতে শুনতে মহা বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত এক সিএনজিতে উঠেই গেলাম। শালার সিএনজি এবার তোমাকে দেখতে হয়।
কই যাবেন?
এইত সামনে নাক বরাবর।
নাক বরাবর তো শেষ, এখন ডান না বামে?
জানিনা কোনদিকে।
মানে কি?
আমি আপনার বাসায় যাবো, আমি কি আপনার বাসা চিনি?
এই মিয়া মশকারা করেন?
না কিসের মশকরা? আমি আপনার বাসায় যাবো, এত আদর করে ডেকে যখন সিএনজিতে উঠিয়েছেন, আপনার বাসায়ই নিয়ে যান।
খ্যাস করে ব্রেক করে উচ্চস্বরে ড্রাইভার, আপনি আসলে কই যাবেন মামা?
বলেছিনা আমি আপনার বাসায় যাবো। ঢাকায় নতুন এসেছি, আপনার বাসায় গিয়ে খেয়ে দেয়ে থাকার স্থান খুঁজতে যাবো।
ড্রাইভার সামনের বাম পাশের দরজা খুলে নেমে এলেন, নামার পূর্বে খটখট করে পিছনের দরজার সিটিকানি খুলে ফেলে দরজা খুলে চিৎকার করে বলতে থাকলেন, নামেন আপনি এক্ষুনি নামেন। চিৎকারে পথচারীদের হালকা ভীড়। তাঁদের শুনিয়ে বললাম’ চাচা এইটা তুমি কি বলছো? আমাকে যেন চিনছ না তুমি। আরে আব্বা তোমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে তো, চাচীকে সহ তোমাকে আজকেই নিয়ে যেতে বলেছে। আমাকে নিতে পাঠিয়েছে। তোমার জমি তোমাকে ফিরিয়ে দেবে।” উৎসুক লোক কমে যেতে লাগলো। চাচা ভাতিজার কথার মধ্যে তারা থেকে কি করবে? অসহায় সিএনজি ওয়ালা উঠে বসলেন তার আসনে। উল্টো দিকে ফিরে অনুনয় বিনয় করলেন, মামা মাফ করে দেন, আমি তো কোন ক্ষতি করিনি।
চোখের ইশারায় তাঁকে এগিয়ে যেতে বললাম। আমার মুখের সারল্য বা যে কোন কারনেই হোক তিনি সত্যি সত্যি নিয়ে গেলেন তার বাসায়। মজা লাগছিল আমার, শেষ দেখেই ছাড়ব এর। দরজায় করা ঝাঁকুনি দিয়ে ডাক দিলেন ময়না,দরজা খোল।
দরজা খুলে গেলো, খোলা দরজা যেন হাসছে। অপুর্ব সুন্দর এক মুখ, ময়না…………

৩৫৮জন ৩৫৮জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ