একদিন//-২

বন্যা লিপি ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০৩:১৫:৪৯পূর্বাহ্ন গল্প ১৯ মন্তব্য

জীবনের অনেক প্রশ্ন থাকে উত্তর জানতে চাওয়া যেমন উচিত না।তেমনি কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর থাকেও না। হাসির প্রতি এমন অনেক প্রশ্ন থাকলেও, কতটা জানি,কতটা কখনো জানতে চাইনা। হাসু স্বাধীনচেতা, একরোখা, জিদ্দি, সবার থেকে নিজেকে আলাদা ভাবনা বিশিষ্টা একজন কর্মজীবী নারী। জীবনের সংঘাতগুলোকে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি দুর্বলতার অজুহাত মনে করে। যখন যেখানে যেমন পেরেছে নিজেকে শিং মাছের মতো পিছলে কেটে বের করে নিয়েছে, শিংএর কাঁটা উঁচিয়ে। মজার ব্যাপার হলো শিংমাছ মোটেই পছন্দ করেনা খেতে হাসু। ২২ বছর ধরে অযথা অন্যায় অনুশাসন মেনে নেবেনা বলে একা জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে। আবার একাই বা বলি কি করে? ছেলে লাবিব আছে তো! আছে। সেও সেই তাঁর মতো করেই আছে। মাঝে মাঝে আসে মায়ের কাছে! বেশিই থাকে মামা বাড়ি।আর আছে লাবিবের একপাল বন্ধুবান্ধব! ছেলেটার কোনো বদঅভ্যাস নেই,এতেই শান্তি পায় হাসু। মায়ের কাছে এলে, মায়ের পিঠের সাথে পিঠ লাগিয়ে ঘুমাবার অভ্যেস ছেলেটার।মায়ের খুঁটিনাটি সবকাজে সাহায্য করার মানসিকতা বজায় রাখে। তবুও ছেলেটার মধ্যে কি যেন নেই।নেই যেন দায়বদ্ধতা, যতটুকু মায়া হাসু আশা করে হাসুর প্রতি, হয়তো ততটুকু পায়না। পায়না বলে হাসুর অভিযোগও নেই,নেই
কোনো হায়আফসোস।

ডাক্তারও অনেকবার বলেছে, আপনার আবার জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত নিজের জন্যই। হাসুর ওই এক কথা……সম্ভব না আর।অনুশাসন মানতে পারবোনা আর নতুন করে। এমনিই অনেক ভালো আছি। একজন পিছু পিছু ঘুরেছিলো বেশ কিছুদিন। ইনবক্সেও অনেক রিকোয়েস্ট করতো।পারিবারিক ভাবেও চেষ্টা চালাতে ছাড়েনি। কাজ হয়নি।হাসু এক কথায় অনড়। বিশ্বাসটাই নেই হয়ে গেছে পুরুষ মানুষের প্রতি।ওটা ইহজীবনে আর ফেরার সম্ভাবনা নেই। আমিও বোঝাবাবার চেষ্টা করে বুঝে গেছি, হাসু’কে বোঝানো পৃথিবীর কারো পক্ষে সম্ভব না। থাক তুই এমনেই থাক।
তারপর একদিন একাঘরে মরে পরে থাক।
–ময়না? তুই কি ভাবছিস?
হঠাৎ খেয়াল হলো মগের কফি ঠান্ডা হয়ে গেছে।
–না,তেমন কিছুনা। বললি নাতো কি রান্না করবো?
— বেশি কিছু লাগবেনা।লাউ আছে, ডিম ভেঙে ভাজি করবি আর রুই মাছ ভাজবি। আমি তোকে সব জোগাড় করে দিচ্ছি।
বলতে বলতেই চলছে আমাদের গসিপিং।
— সেদিন মীরা দি ছবি পোস্ট করলো দেখেছিস মৌসুমীর সাথে? মীরা দি কি লিখলো? মৌসুমীর আমন্ত্রনে ওর বাসাতে গিয়েছে! ময়না,আমার কি জানিস?
রসুন পেঁয়াজ চপিংবোর্ডে কাটতে কাটতে মুখে কোনো কথা না বলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম হাসুর চোখে।
মৌসুমীর কোনো সমস্যা আছে হয়তো! যার জন্য হয়ত গুটিয়ে রাখে সবার থেকে আলাদা করে নিজেকে,নইলে দেখ আমরা তো একই সাথের বন্ধু ছিলাম একসাথে একই স্কুলে।অথচ আমার সাথে কেন, কারো সাথেই মনে হয় তেমন কোনো ভালো যোগাযোগ রাখেনা।
— কি জানি? হতেও পারে! কি দরকার মৌ’কে নিয়ে এত চিন্তা করার?
–না, ঠিক চিন্তা না! ভাইয়া ওকে খুব পছন্দ করতো জানিস?
—হুম,বলেছিলি একবার তুই।
–আম্মাকেও বলছিলো ভাইয়া, যদি বিয়ে করতে হয় তবে কোনো হিন্দু মেয়েকেই বিয়ে করবো।
—মৌসুমীতো প্রেম করেই বিয়ে করলো! গিয়েছিলাম একবারই ওদের বাসায়।সেই তখন। যখন শুনেছিলাম মৌ বিয়ে করেছে হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না জানিয়ে একা একা। বলেছিলো তখন, মাত্র একঘন্টার সিদ্ধান্তে মৌ তাঁর প্রেমিককে নিয়ে কোর্টম্যারেজ করলো। অবশ্য ওর শিক্ষিকা মা প্রফেসর বাবার রিআ্যকশন জানা যায়নি। যাই করুক। ভালোই তো আছে এ পর্যন্ত!
—আমার মনে হয় কেন যেন……
— বাদ দেতো মীরাদি আর মৌসুমীর কথা!
—–আসলে কি জানিস তো?
মীরা দি বল আর মৌসুমী! এরা এরাই মেলে ভালো।
অর্থাৎ যতই মননশীলতার কথা মুখে আওড়াক না কেন! মনে মনে এরা সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছাড়তে পারেনা।
— এটা আমারো মনে হয় রে হাসু। ফেসবুকে ফাটাইয়া ফালায় ভালবাসা দিয়া।আর মনে মনে দূরত্ব বজায় রেখেই চলে।হেপোক্রেটের দল।
–যাক বাদ দে। এই দ্যাখ, পিঁয়াজ কিন্তু দুইটা, তাও সাইজ দেখ!! পিঁয়াজ ছাড়া তুই কেমনে কি রানবি?
আমি হেসে ফেললাম। — তুই দেখ খালি এইটুকু পিঁয়াজ দিয়াই কেমনে রান্না করি?
আর কি করা লাগবে বল।
– ডাক্তারের কাছে গেলে কিছু খাওয়ার পর ইঞ্জেকশন দেয়। এক প্যাকেট নুডুল আছে, করে দিবি?
আচ্ছা ময়না! তুই একবার আমাকে ব্রকলি গোল মরিচ, নুন দিয়ে টস করে খাইয়েছিলি না? একটা ব্রকলি আছে। দিবি টস করে? ওটাই নিয়ে যাবো বক্সে করে? নাকি ব্রকলি দিয়ে নুডুল রান্না করে দিবি গাজরও আছে?
— তাই করি,নুডুল ব্রকলি দিয়ে রান্না করে দেই। ওটাই ভালো হবে তোর জন্য।

বেশি সময় লাগলো না আমার পুরো রান্না শেষ করতে। হাসুকে বললাম খাবার রেডি করতে।আমি নুডুলটা রেডি করে আসছি।হাসু নামাজ আদায় করে। বিছানাতেই খাবার নিয়ে বসলো। আমি হাতমুখ ধুয়ে এসে বসতেই দেখি পাশেই একটা বই রাখা।বইয়ের নামটা বেশ আকৃষ্ট করলো আমাকে। হাসু বললো এটা পড়! আমি অবাক হলাম। এখন ভাত খাবার সময় আমাকে বই পড়তে বলছে কেন? বইটা হাতে নিলাম….
শিরোনামঃ– গণকবিতাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

চলবে……….

একদিন// প্রথম পর্ব

১৬২জন ৩৩জন
20 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য