একটি বেসম্ভব গল্প…

সিহাব ৩০ আগস্ট ২০১৩, শুক্রবার, ১০:৫৬:০৬অপরাহ্ন বিবিধ ১৩ মন্তব্য

দিনের শেষে যেমন করিয়া রাত্রের আগমন অবশ্যম্ভাবি, তদ্রুপ করিয়া যদি কেহ বা কোন দেশ তার বা দেশের মন্দের পরেই শুভ-এর শুভাগমন দাবী করিতে পারিত তো গল্পটি অসম্ভব না বলিয়া বেসম্ভব বলিতে কুন্ঠিতবোধ হইত । যাহা হউক, এবার মূল গল্পের দর্পণে আসা যাক ।

 

বহুকাল পূর্বের নয়, তবে কালক্ষেপণের বিলম্বে এমন-ই এক সময় কোন একদেশে বাস করিত বর্তমানের দুই কান্ডারিণীর পিতা এবং স্বামী । আজিকার এই সময়ে দেশের যে অভূতপূর্ব সাফল্যমণ্ডন হইয়াছে, তথাপি তাহাদের কিঞ্চিৎ অবদান যে নাই তাহা নহে। কালের অন্তরালে তাহাদের পিতা এবং স্বামী কোন এক অতল গহব্বরে মিলাইয়া গেল, তাহা বোধকরি পাঠকগণ বুঝিয়া লইবেন । তাহাদের অন্তর্ধানের পরে, বর্তমান দুই কান্ডারিনী দেশের ভার লইবার তরে রীতিমতন এক অভূতপূর্ব কান্ড বাঁধাইয়া রাখিত। তন্মধ্যে কেউ যদিও বা ভার পাইতো, অন্যের তাহা সহ্য করিবার মানসিকতার অভাব স্পষ্টরুপে প্রমানিত হইত তাহার কাজে-কর্মে ও কথায়-বার্তায়। উহাদের এই সুষ্ফল আষ্ফালণের মধ্যে সাধারণের জীবন মান অতীব সাধারণতর হইয়া উঠিল । সর্বসাধারণের মনে শুধু এই ভয়ই ছিল, দেশের তরে কখন মোদের জীবন্মান হুমকির মধ্যে পড়িয়া যায়! তথাপি, সেই দুই কান্ডারিণী ব্যতীত অন্য কোন কান্ডারি না থাকাতে সকলেই একপ্রকার নিরুপায় হইয়া শুধু মাত্র সৃষ্টিকর্তাকেই স্মরণ করিত। বোধকরি সৃষ্টিকর্তা তাহাদের দূর্দশার কথা জানিতেন এবং তাহার প্রতি তাহাদের প্রার্থণা থাকাতেই এই অকূল পাথারসম সমস্যায় এক আশার অদ্ভুদ আলো জাগাইলেন। কোথা থেকে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই এক কান্ডারি এসে সেই দেশের হাল ধরিতে কোমর বাঁধিয়া লাগিলেন । লোকেরাও নূতন কিছু পাইবার আশায় তাহাকেই মান্য করিতে লাগিলেন। তথাপি, দুই কান্ডারিণীর পরাজয় হইল ।

নূতন কান্ডারি যেমন করিয়া দ্রুততার সহিত মিষ্ট ভাষার বাক্যালাপে সবার মন জয় করিয়াছিল, তদ্রুপ সকলের মনের এক বিরুপ কন্টক রুপে রুপায়িত হইতেও বেশী দেরী হইল না ! আর ঠিক তখনই সেই দুইকান্ডারিনী সই রুপে দেশের তরে কিছু করিবার প্রয়োজন অনুভব করিলেন। ইতোমধ্যে তাহাদের শুভবুদ্ধি হইল এবং তাহারা একে অপরের প্রাণের সই হইয়া গেল। তাহারা বুঝিতে পারিল , এতোদিন তাহারা একে অন্যকে জ্বালাইবার তরে যাহা করিয়াছিল তাহা আর যাহাই হউক সুষ্ঠু মস্তিষ্কের কর্ম নহে। আর তাহাতে দুইজনের কী হইয়াছে তাহার চাইয়া বড় হইল সাধারণের কী হাল হইয়াছিল, তাহাদের সেই পুতুল খেলার পুতুলের-ই মতন। যাহা হউক, এইবার তাহারা এক হইয়া সেই মিষ্টভাষী পশুমত কান্ডারিকে উৎপাটন করিতে সর্ব চেষ্টায় নিমজ্জিত রহিলেন। সেথায় সর্বসাকুল্যের অবদান থাকায় অচিরেই তাহাদের জয় এক অভূতপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি করিল। সেই দেশেতে আবার সুখ শান্তি বিরাজ করিতে থাকিল। সেই দুই চির-প্রতিদ্বন্দী চিরকাল ব্যাপিয়া দুই সই রুপে সর্বসাধাণের সুখে-দুখে খাঁটিতে লাগিল, আর মানুষ্যবেশী ইবলিসের সকল নূতন চেষ্টাসমূহ বৃথা চেষ্টায় আষ্ফালিত হইল।

সেথায় বোধ করি, এক সুখের স্বর্গ,মর্ত্যের-ই বুকে প্রতিষ্ঠিত হইল !!

২০৯জন ২০৯জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য