একটি পেঁপে গাছ ও আমি

অরণ্য ২ মার্চ ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ০১:৫০:১৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪২ মন্তব্য

ঃ এবার চোখ খোলো। কি দেখছো?
ঃ কই! কিছুই তো দেখিনা!
ঃ কিছুই না! ভালোকরে দেখ। সোজা তাকাও। এবার বলো।
ঃ তুমি বেশি মজা করছো! আমি তো কিছুই দেখছিনা।
ঃ হুম! কিছু চাওয়া ছিল বুঝি!
ঃ কই না তো। আরে নাহ!
ঃ তবে কি আকাশটাও দেখোনা তুমি!
ঃ আরে বাবা! আকাশতো ছিলই। তুমি কি আকাশ দেখাতে চেয়েছিলে?
ঃ হ্যাঁ! এ আকাশ তোমাকে দেব বলেই এনেছি এখানে।
ঃ বাহ! আকাশ দেবে! দেবার কি হলো এখানে?
ঃ আছে। এতো বড় ন্যাংটো আকাশ!
ঃ হাসালে তুমি। আকাশ বুঝি ন্যাংটা হয়! হা হা হা
ঃ হয়। এই তো দেখছো! কোন মেঘ দেখেছো? নেই।
ঃ হুম! আর কিছু?
ঃ হুম! তা তো আছেই। ফের বন্ধ কর চোখ। খুলবে একটু পরেই কিছু দেখবে বলে।
ঃ বেশ! করছি তাই।
ঃ কি দেখছো? অনেককিছু?
ঃ হ্যাঁ! অনেক কিছুই যেন দেখছি এবার। লাল মাটি, রোদে পোড়া ঘাস, কিছু জংগল আর দূরে একটি পেঁপে গাছ।
ঃ হুম! চোখ খুলেছে এবার। না না ভুল বলেছি। মন খুলেছো এবার।
ঃ হুম! এবার দেখব কি তাই বলো।
ঃ আমি বলব গাছেই থাক; সেই ভালো।
ঃ ঠিক আছে। গাছ – পেঁপে গাছ – একটি বুড়ো পেঁপে গাছ।
ঃ হুম। একদম ঠিক। এসেছিও তাই। এটাই ছিল কাজ।
ঃ মানে!
ঃ মানে কিছু নয়।
ইদানিং লাগে ভয়।
বয়সী গাছে পেঁপেরা ছোট হয়।
ব্যবসায়ী খোঁজে সংখ্যা-ওজন মিষ্টতা-ঘ্রাণ নয়।
ঃ এই! কি বলছ এসব!
ঃ নাহ! কিছু না।
মানুষ নয় – আমার ফল এখন কাকে খায়;
ফিংগে, বুলবুলি, কাঠঠোকরায়!
জানো, ভয় হয় ঝড়ে এখন।
ভেংগে যাব হয়তো যখন তখন।
কাঠ হবোনা আমি।
সহজে পচে ধুলো হবো।
আর, তাই করেছেন জগতস্বামী।

৬০০জন ৬০০জন
0 Shares

৪২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য