ঘটনাটি নতুন নয় হয়তো এমন ঘটনা আরো ঘটেছে ঘটবে কিন্তু বাস্তবে ঘটনার সাথে জড়িত হয়ে নিজেকে অপরাধী মনে হল।ভুপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী গান… “মানুষ মানুষের জন্য,

জীবন জীবনের জন্য

একটু সহানুভুতি কি

মানুষ পেতে পারে না…….ও বন্ধু।

মনে হয় আজীবন গান হয়েই থাকবে। এর মর্মকথা মনে হয় আমরা জেনেও অনেকে পালন করিনা।ঘটনাটি ঘটেছিল চিটাগাং রোড মুক্তি স্বরনী লিং রোড টু হীরাঝিল।হীরাঝিল হতে মেইন রোডে উঠতে বেশ ঢালু থেকে উচু রাস্তা সেই রোড দিয়ে একটি মালবাহী ঠেলা গাড়ী পাড় হওয়ার চেষ্টায় প্রায় ৪/৫ জন ঠেলাগাড়ী ম্যান ঘেমে একাকার -ঠিক সেই সময় এর পাশ দিয়ে দুজন বসা একটি হোন্ডা তাড়া হুড়া করে পাশ কেটে যাবার চেষ্টার সময় হোন্ডার একজনের পাঞ্জাবী বাতাসে ঠেলাগাড়ীর চাকার লকের সাথে লেগে ছিড়ে যায়।বেচারা ঠেলা গাড়ী চালায় তার কি মূল্য আছে?সেতো সমাজের চোখে নিম্ম শ্রেনীর আর তাই হোন্ডাওলা নেমে সেই ভাব নিয়েই ঠেলাগাড়ীর এক বৃদ্ধকে গালে ঠাস ঠাস কয়েকটি থাপ্পর দিয়ে বলতে লাগলেন তার অহংকারী কথা…..

-জানিস,এই পাঞ্জাবীর দাম কত?চার হাজার টাকা।তোর বাপ দাদা চৌদ্দগোষ্টিও চোখে দেখেনি।

আরো অনেক অকথ্য ভাষায় বৃদ্ধ ঠেলাগাড়ী লোকটিকে গাল মন্দ করে ঠেলাগাড়ী জব্ধ করে পাঞ্জাবীর জরিপানা দাবী করছে।বেচারা ঠেলাগাড়ী লোকটি অনেক কাকুতি মিনতি করেও শেষ রক্ষা পাচ্ছে না।তাকে ৪০০০ টাকা জরিপানা দিতে হবে নতুবা ছাড়বেনা।আমি এবং আমার এক জেদী বন্ধু সেই ঘটনা অনেক ক্ষন যাবৎ লক্ষ্য করলাম।রাগে ফেটে পড়ছে বন্ধুটি, শেষ পর্যন্ত রাগ আর কন্টোল করতে পারলনা- যখন ঠেলা গাড়ীর মালিক আসে।ঠেলা গাড়ীর মালিক বন্ধুর পরিচিত।মালিকও যখন কোন সমাধান করতে পারলনা তখন বন্ধুটি এগিয়ে যায়।বন্ধুকে দেখে ঠেলার মালিক কিছু একটা সমাধান করে দিতে বলে।বন্ধু তাই করল। সুন্দর একটা সমাধান দিল।হোন্ডাওলাকে বলল..ভাই আপনার কোন পাঞ্জাবী ছিড়েছে?হোন্ডাওলা রাগ হয়ে….কেনো আপনি দেখতে পাননা?

-পাইছি…তারপরও আপনার কাছ থেকে জানতে চাচ্ছি চার হাজার টাকার কোন পাঞ্জাবী কারন আপনারা হোন্ডায় দুজনই পাঞ্জাবী পড়া।

-এই যে এটা(ছেড়া অংশটি দেখিয়ে)

খোকন ঠেলাগাড়ীর যে লোকটিকে হোন্ডাওলা চড় মেরেছিল তাকে ডাক দিয়ে কাছে এনে প্রথমে কিছু মন্দ বলে বিদায় করে দেয়ার চেষ্টা করলে হোন্ডালা বাধা দেয়।

-কি ব্যাপার আপনি কোন হানের জমিদার আমার এত দামের পাঞ্জাবীটা ছিড়ে ফেলল আর আপনি ছেড়ে দিচ্ছেন?

বন্ধুটির মাথায় রক্ত উঠে গেল।যে লোকটিকে চড় মেরেছিল তাকে কাছে ডাক দিয়ে এক প্রকার মাস্তানী দেখাল বন্ধুটি ।

-কি ভাবে তার পাঞ্জাবী ছিড়লেন?

-আমিতো দেহি নাই…তেনারা হোন্ডা করে যাচ্ছিল আমার গাড়ীর চাকার হুকে লিগে ছিড়ে গেছে।

লোকটি কান্নাভরা কণ্ঠে বলছে আর কাদছেঁ।তার শারীরিক অবস্হা আর কান্না শুনলে পাষানেরও মন কাদবে।

-তার পর?

-হেরপর ,ইনি আমারে অনেকগুলা  চড় মারলেন।

তারমানে সমান সমান তাইতো?  হোন্ডালাওলা কথা ধরে বলার চেষ্টা করাতে বন্ধুটি ধমক দিয়ে ইচ্ছে মত সায়েস্তা করে -থাপ্পর খাওয়া লোকটিকে হোন্ডাওলার গালে থাপ্পর মারতে বলে ।

-কয়টা থাপ্পর দিছিল?

-৮/১০ টা অবে।

-আপনি এখন তাকে আট দশটি থাপ্পর দিন……সবাই অবাক বিশেষ করে হোন্ডাওলা।

-কি হলো…আপনি বিচার না করে উল্টো আমাকেই থপ্পর মারতে বললেন?হোন্ডওলার অভিযোগ।

-হ,বললাম তোর কোন বাবা আছে খবর দে,এই মুরুব্বী তোর বাবার সমান তুই তারে থাপ্পর দিলি কি ভাবে?আবার তুই পাঞ্জাবী দামের লাইগ্গা আটকাইয়া রাখছস।তোর এই পাঞ্জাবী কোন দেশের যে চার হাজার দাম কইলি।(পাশের দোকানদরকে দেখিয়ে)ভাইয়েরা আপনারাতো পাঞ্জাবী বিক্রয় করেন,বলেনতো এর দাম কত?দোকানদাররা:বড়জোর ১৬/১৭শ হবে।

-কি বুঝলেন ?যদি তোর পাঞ্জাবীর দাম যদি ৪০০০ টকা হয় এক্ষন কিনে দেব আর তুই লোকটিকে যে থাপ্পর মারছ তা ফেরত নিবি,এখন তুই বল তুই কোনটা চাস?হোন্ডাওলা রাগে ফোনে কি যেন টিপা টিপি করছে।

….কি টিপছস?তোর কোন বাবার নম্ভর লাগব,নে আমার ফোনে সব আছে।ভালই ভালো মাফ চা,না হলে তোরে কেউ বাচাতে আসবেনা।তারপর বন্ধুটি যা বলল আমি নিজেও অবাক ও এমন ডায়লগ কই পেল কখনওতো তাকে এমন মহানুভবতা দেখিনি।

-আরে মিয়া রেলগাড়ী,ঠেলাগাড়ীর তলে অ্যাকসিডেন্ট হলে ভুক্তদাতাকেই উল্টো জরিপানা দিতে হয় এ দেশে ।তাছাড়া যেখানে দেখছেন ঠেলাগাড়ী তার মাল নিয়ে নিজেই রাস্তার পাড় হতে পারছেনা সেখানে অন্তত মানবতার দেখিয়ে ঠেলা দিয়ে সহযোগিতা করা উচিত ছিল তা না করে তাকে থাপ্পর মারলেন! তার এক রোজের ইনকাম নষ্ট করলেন!আপনিতো জরিপানা না পেলেও আর একটি পাঞ্জাবী কিনতে পারবেন,এই ঠেলাগাড়ী বেচারী কি করবে আজকে এই রোজের টাকা না পেলে তাদের বাচ্চা কাচ্চা সব না খেয়ে থাকবে।যত টাকাওলাই হন ঐ একই মাটির নীচে সবাইকে একদিন যেতে হবে সেই কথা কেনো ভূলে যান?দুনিয়ায় চিরতরে অম্লান থাকতে হলে শুধু টাকা নয় সম্মানও কামাতে হবে।

বন্ধুর এমন ভাষন শুনে হোন্ডাওলা সরি বলে ঠেলাগাড়ীর লোকটির সাথে হাত মিলিয়ে পকেট থেকে আরো পাচশত টাকার একটি নোট হাতে গুজে দিয়ে হোন্ডা নিয়ে চলে যায়।

এই হলো মানুষ হিসাবে মানুষের মানবতা।আজ আমরা মানবতাকে মনে হয় ভুলতে বসেছি কি রাষ্ট্রীয় কি সামাজিক।মানুষ মানুষকে ধ্বংস করতে তৈরী করছি মরনাস্ত্র।কোরবানীর গরুর মত জবাই হচ্ছে অহরহ।”অথচ ভুলেও ভাবি না পৃথিবীতে মানুষের জম্ম একবারই”।মানুষের সবকিছুই ধ্বংস হবে শুধু থেকে যাবে তার……সু-নাম।

 

 

 

 

৩২৬জন ৩২৬জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য