FB_IMG_1476415418844
খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক ডা. গাজী মিজানুর রহমান। একাধারে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়গনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন খুলনার সভাপতি। আবার কণ্ঠশিল্পীও।
সম্প্রতি র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-৬ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযান চালিয়ে ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ ৫ জনকে আটক করেছে।
র‌্যাব সেখান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ! মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত! ( গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্ল্যাড ব্যাংকের অনুমোদন না থাকলেও অবৈধভাবে ব্ল্যাড ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছে)
প্রয়োজন না হলেও রোগীকে আইসিইউতে রেখে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের প্রমাণ!
প্যাথলজি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ানের স্বাক্ষর!
মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (প্যাথলজি পরীক্ষার কেমিক্যাল) উদ্ধার করেছে।

এই অপরাধের জন্য তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল প্রদান করা হয়েছে।

পত্রিকার পাতায় আটককৃত গাজী মিজানকে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করলে দেখা গেছে হাতকড়া হাতে চারপাশে র‌্যাব পরিবেষ্টিত হাস্যজ্জ্বোল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছবির পোজ দিতে!

তার শাস্তির পরিমান এবং অনুতাপহীন ছবি দেখে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করেছেন! কেউ বলছেন, মাত্র ১০ লাখ জরিমানা আর তিনমাসের জেল! দুদিন পরে বেরিয়েই আবার যেইসেই অপকর্মে লিপ্ত হবে। কথা কিন্তু খুব সত্য।
কিন্তু এ কথাটি আরও সত্য, অবৈধ উপার্জনকারীদের অর্থদণ্ডতে কিচ্ছু আসে যায় না! জেল জরিমানা ওদের কাছে কিচ্ছু না!
তাই বলে কি ওদের শাস্তি নেই?
হ্যাঁ, নেই। কারণ আমরা ওদের শাস্তি দিতে জানি না বা দিতে চাই না।

গাজী মিজান হাসবে না তো কি! ও জানে, যতো যাই হোক, সমাজ ওকে সম্মান করবে। কারণ ওর আছে টাকা। এই সমাজে সিংহভাগ মানুষ টাকাওয়ালা দেখলেই লেজ নাড়িয়ে পুতুপুতু করে। অন্যদিকে একজন নীতিবান, আদর্শবান অথচ বিত্তহীন লোকের মর্যাদা এই সমাজে নেই। এই লোকটির হাসির কারন কিন্তু এখানেই।

একটা সময় ছিলো, যখন উৎসহীন অবৈধ রোজগারে বিত্তশালী হওয়া লোকগুলো সমাজে মুখ লুকিয়ে চলাফেরা করতো। কারণ বৈধ উপার্জন বহির্ভূত টাকার জন্য লোকে তাকে বাঁকাচোখে দেখতো। সমাজে এক কানাকড়ি সম্মানও ছিলো না তার।

কাজেই এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন আনতে হবে। আর তা আনতে গেলে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতাবোধ, আত্মমর্যাদাবোধ। সচেতনতাবোধ মর্যাদাবোধকে শানিত করে।
একটা মানুষকে সম্মানের আসনে বসাতে বিত্ত নয়, চারিত্রিক গুণাবলীটাই যখন শীর্ষবিন্দুতে থাকবে, তখন আপনা থেকেই এই হাসি লজ্জায় পরিণত হবে।
পচে যাওয়া সমাজের মূলে আছে অবৈধ টাকা আর টাকার পেছনে আমাদের আত্মমর্যাদাবোধহীন নাগরিক দৌরাত্ম্য।

এদের একমাত্র শাস্তি এদের দেখামাত্র থুঃ থুঃ ছিটানো। যদি সত্যি সত্যি এমনটা হতো, তো খুব তাড়াতাড়িই এরা মুখ ঢেকে সাফ সুতরো হওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিতো।

৯২জন ৯১জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য