একটি অতি পুরাতন রূপক গল্প

ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেন তারপর তারমধ্যে আত্মা দিয়ে প্রাণ সঞ্চার করেন ।

এভাবেই চলছিল ।

হঠাৎ একদিন তিনি মানুষ সৃষ্টি করতে গিয়ে দেখলেন মানুষের চেয়ে আত্মা কয়েকটা কম ।

কিন্তু মানুষ তো সৃষ্টি করতেই হবে

কি আর করার তিনি যম রাজ কে আদেশ দিলেন

যেভাবেই হোক কয়েকটা আত্মা পৃথিবী থেকে নিয়ে আস ।

যম রাজ পৃথিবীতে এসে দেখলেন মাঠে এক যুবক বসে আছে

যমরাজ যুবকের কাছে এসে নিজের পরিচয় দিলেন এবং তাঁকে সেচ্ছায় দেহত্যাগ করার অনুরোধ করলেন ।

যমরাজ এটাও বললেন এখন যদি আপনি ঈশ্বরের কাজের জন্য দেহ ত্যাগ করেন তাহলে আপনার নিশ্চয়ই স্বর্গ বাস হবে ।

এমনিতেই যুবক মানুষ রক্তের জোর বেশী । সে রেগে গিয়ে বলল ব্যাটা ফাইজলামি পাইছ ।

তুমি যম রাজ ঈশ্বর তোমাকে পাঠায়েছেন । চাপা মারার যায়গা পাওনা । তোমার এত স্বর্গে যাওয়ার শখ থাকলে তুমি নিজে মরে নিজের আত্মা দান কর । নিজে মরতে না পারলে আমাকে বল আমি তোমাকে সাহায্য করছি ।

যম রাজ দেখলেন অবস্থা বেগতিক ।
এখান থেকে সরে পড়াই ভাল । ।

তারপর যম রাজ দেখলেন বট গাছের ছায়ায় এক বৃদ্ধ বসে আছেন ।

যম রাজ ভাবলেন লোকটার বয়স অনেক । আর ক দিনই বা আর বাঁচবে গাঁয়েও তেমন জোর নেই একে প্রস্তাব দেয়া নিরাপদ ।

যমরাজ বৃদ্ধের সাথে অনেক কথা বলে শেষে এই প্রস্তাব দিলেন ।

কিন্তু এবারও কপাল খারাপ যম রাজের প্রস্তাব শুনে বৃদ্ধ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল । এত বড় কথা । আমাকে বলে মরতে!!!

সে তার ছেলে নাতি সবাই এক সাথে ডাকল । এই সালা টাকে ধর । ওর কত বড় সাহস বলে কিনা আমাকে মরতে আবার স্বর্গের লোভ দেখায় ।

যম রাজ এবার ও কোন মতে পালিয়ে বাঁচল । বুঝতে পারল মানুষ্য জাতী নিজেকে খুবই ভাল বাসে এরা সহজে মরতে চায় না ।

এদিকে রাত হয়ে আসছে একটা আত্মা ও পাওয়া গেল না । যম রাজ চিন্তিত হয়ে পড়লেন ।

হাঁটতে হাঁটতে তিনি একটা বনের ধারে চলে এসেছিলেন ।

হঠাৎ খেয়াল করলেন বনে বাঘ সিংহ তো কম নেই । এদের কয়েকটা মেরে তাদের আত্মা ই নিয়ে যাই । খালি হাতে যাওয়ার চেয়ে এটাই বেশী ভাল ।
অতপর তিনি পশুদের আত্মা নিয়েই স্বর্গে ফিরলেন ।

ঈশ্বর অধির আগ্রহে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন । আত্মা পেয়েই তিনি কাজে লেগে পড়লেন ।

তিনি মানুষের মধ্যে পশুর আত্মা দিয়ে প্রাণ দিলেন ।

এর পর থেকেই আজও মানুষের মাঝে পশুর স্বভাব দেখা যায় ।

গ্রীক রূপকথা থেকে সংগ্রহীত ।

৭৪২জন ৭৩৯জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ