ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে কমলাপুর স্টেশনে গত ৭ জুলাই থেকে অবস্থান করছেন। মহিউদ্দিন  রনির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য সহজ ডটকমকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সহজ ডটকমের আইনজীবী মির্জা রাগিব হাসনাত বলেন, এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হবে। কারন হিসেবে জানান ১৫ মিনিটের মধ্যে রনি টাকা পে করেনি বলেই তার টিকিট কর্নফার্ম হয়নি।

এখন কথা হলো- সহজ ডটকমের উচিত ছিল টিকিট শেষ হওয়ার সাথে সাথে টাকা পে করার অপশনটাও বন্ধ করে দেয়া। তারা তা করেনি। এরপর রনি মেইল করেছে তার উত্তরের জবাবও নাকি রনি দেয়নি।

এ গেল রেলের সহজ ডটকমের অব্যবস্থাপনার বিষয়। গতকদিন আগে আমি টিকেট কাটতে গেলাম। যেহেতু টিকিট অনলাইন এখন তাই ঘরে বসে ট্রাই করলাম। প্রসিজারস কমপ্লিট করার পর দেখা গেল ২৩ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অনলাইন সেরকমই শো করছে।

পরিচিতদের মাধ্যমে চেষ্টা চলতে থাকলো। রাত আটটায় তিনি জানালেন কাল ১১ টায় স্টেশন মাস্টার ডেকেছেন ৪ টা টিকেট দিবেন।

পরদিন আমি নিজে গিয়ে টিকেট চাইতেই স্টেশন মাস্টার বললেন টিকেট সব শেষ। এরপর যখন পরিচয় দিলাম যে, আমাকে ওমুক পাঠিয়েছেন। স্টেশন মাস্টার পান মুখে পুরতে পুরতে বললেন, আগে তো বলবেন? সন্ধ্যায় একবার আসেন।

যথারীতি সন্ধ্যায় আবার যেতে হলো। স্টেশন মাস্টার বললেন, ১০ মিনিট বসুন। তার সাথে সহজ হবার চেষ্টা করে দেখা গেল তিনি আরও ‘ মুই কি হনুরে’ টাইপ এটিটিউড শো করছেন। সাধারন ভদ্রতা টুকুও নেই।

স্টেশনে বসে থাকতে দেখে পরিচিত এক লোক, যাকে সহজ কথায় স্টেশন দালাল বলা হয় তিনি ১ মিনিটের মধ্যে টিকেট এনে হাতে ধরিয়ে দিলেন।

স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে স্টেশনের একজন ঝাড়ুদার সবাই টিকেট ব্ল্যাকের সাথে জড়িত। অথচ তারা জনগনের সেবক। তাদের বেতন যে কটাকাই হোক না কেন, বাড়ি- গাড়িসহ মোটামুটি বিলাসবহুল জীবন তাদের।

একজন রনির পক্ষে আর কতটুকু সম্ভব। তবুও আমরা আশাবাদী ও প্রতিবাদী। যে যেখানে যেভাবে পারি আমাদের আঙ্গুল তুলতে হবে, দূর্নীতি রুখতে হবে। আর আমরা আশা রাখি সরকার এ ব্যাপারে অবশ্যই সুনজর দেবেন।

এবার চলুন দেখি অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়মঃ

প্রথমে ‘eticket.railway.gov.bd’ ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে। এই ওয়েবসাইটে ঢোকার পর উপরে ডানদিকে দেখবেন কয়েকটি অপশন লেখা আছে- Home, Login, Register, Verify Ticket, Contact Us। এর মধ্য থেকে ‘Register’ লেখায় ক্লিক করুন।

আপনার সামনে একটি পেইজ আসবে। সেখান নিজের নাম, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্ম নিবন্ধনের নাম্বার, পোস্ট কোড ও ঠিকানা নির্ভুলভাবে সবগুলো ঘরে লিখে সবুজ রঙের ‘Sign Up’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর আপনার নাম্বারে ও ই-মেইলে একটি ওটিপি পাঠানো হবে ৩ মিনিটের মধ্যে। মোবাইল নাম্বারে ওটিপি’র মেসেজ আসতে দেরি হলে দ্রুত ই-মেইলের ইনবক্স চেক করুন।

ওটিপি ৬ সংখ্যার নাম্বারটি এবার নির্দিষ্ট স্থানে লিখে ‘কন্টিনিউ’তে ক্লিক করুন। ব্যাস আপনার রেজিস্ট্রেশন শেষ। এবার অটোমেটিক লগ ইন হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে নতুন করে লগ ইন করতে হবে।

এবার সেখানে ‘From’ এর ঘরে আপনি কোন স্থান থেকে ট্রেনে যাবেন তা লিখুন ও ‘To’ অপশনে আপনার গন্তব্যের স্থানের নাম লিখুন। এরপর ‘Date of Journey’ তে ক্লিক করে আপনি কোন তারিখে যেতে চান তা সিলেক্ট করুন। এরপর ‘Choose a Class’ এ ক্লিক করে আপনি কেবিন না কি চেয়ার কোচ নিতে চান তা সিলেক্ট করুন।

সেখানে আপনি ৮টি অপশন পাবেন। আপনার পছন্দমতো ক্লাস সিলেক্ট করুন। এরপর ‘Find Ticket’ এ ক্লিক করুন। এরপর ওই গন্তব্যের ট্রেনগুলোর নাম আসবে। সেখানে পছন্দের ট্রেনে ‘view seat’ ও এর মূল্য দেখতে পাবেন। একই সঙ্গে ট্রেনের সময়সূচীও জানতে পারবেন।

‘view seat’ এ ক্লিক করার পর সিটের ছবি আপনি দেখতে পারবেন। সেখান থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী সিটটি মার্ক করুন। একসঙ্গে আপনি ৪টি সিটের টিকিট কিনতে পারবেন। কোনটি তা সহজেই বুঝে নিয়ে কনফার্ম হয়ে ‘Continue Purchase’ এ ক্লিক করুন।

টিকিট না থাকলে ‘Continue Purchase’ বাটন ক্লিক করলেও কাজ হবে না। আর যদি টিকিট থাকে তাহলে ‘Continue Purchase’ করা মাত্রই টিকিট কিনতে পারবেন ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড ও বিকাশের মাধ্যমে।

সবশেষে যাত্রীর ই-মেইলে ই-টিকিট পাঠিয়ে নিশ্চিত করা হবে। আপনার প্রোফাইলের ‘Purchase History’ থেকেও টিকিট ডাউনলোড করতে পারেন।

এরপর ই-মেইল মেসেজ বক্স থেকে পাঠানো টিকিট প্রিন্ট করে নিয়ে ফটো আইডিসহ ই-টিকিট ‘Ticket Print Information’ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকে যাত্রার আগে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

আপনার টিকিট ভেরিফাই করতে মূল পেইজের উপরের ডানদিকের ‘Verify Ticket’ তে ক্লিক করুন। সেখনে আপনার মোবাইল ও টিকিট নাম্বার লিখে ‘Verify Ticket’ এ ক্লিক করলেই টিকিটের বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

যদি টিকিট সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয় কিংবা টাকা কেটে নিলেও যদি ই-টিকিট ইস্যু না হয়, তাহলে বিকাশের ১৬২৪৭ নাম্বারে কল করে আপনার সমস্যার কথা জানান। এছাড়া ই-মেইল করুন। ‘support@eticket.railway.gov.bd’ এই ঠিকানায়।”

এতো লম্বা প্রসিজারস ফুলফিল করার পর দেখলেন টিকিট নাই, সব বিক্রির নামে স্টেশন মাস্টারসহ তার দালালরা হাতিয়ে বসে আছে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন স্টেশন মাস্টার প্যাড নিয়ে বসে থাকে। এবং ৫০০ টাকার টিকিট ৬০০ বিক্রি হয়। তা তিনি টুকে রাখেন এবং কোনতারিখ কতটা গেল তাও।

অনলাইনের যুগে, ডিজিটাল যুগে এটা কেন হবে? আর এই অনলাইন টিকিট বিক্রির নামে দীর্ঘ প্রসিজারস একটা ফালতু সিস্টেম। সার্ভার নাই, নেট নাই হ্যাঁ করে বসে থাকতে হবে। রেল আমার অধিকার,  আমি তাতে নিশ্চিত ভ্রমন করবো। সেখানে এতো যুদ্ধ কেন?

সুনিশ্চিত হোক রেল ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক বাজারের মতো, এ আশাই রাখি!!!

ছবি ও তথ্যঃ নেট।

১৭৭জন ২৮জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ