একজন ভোলাচাঁদ

সাবিনা ইয়াসমিন ১ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, ০৩:১৮:৩৫পূর্বাহ্ন গল্প ১৪ মন্তব্য

ভোলাচাঁদের সাথে নন্দিনীর প্রেম জন্ম-জন্মান্তরের। এক জনমে ভোলাচাঁদের প্রেমের পাল্লা ভারি, তো পরের জনমে নন্দিনীর। এই জনমে আবার তারা দুজন দুজনার হয়ে জন্মেছে। প্রতি জনমের মতো এবারেও তাদের মিলিয়ে দিয়েছে তাদের অদৃশ্য শুভাকাঙ্ক্ষী। প্রেমে অনুরাগ থাকবে, অভিমান থাকবে, আর খুনসুটি থাকবে না তা-কি হয়!! কেমন যাচ্ছে তাদের বিংশ শতাব্দীর প্রেম?

নন্দিনী কিছুদিন ধরে ভোলাচাঁদকে খুব মিস করছিলো। ঝগড়া করার জন্যে। কারন সপ্তাহে তিনবার ঝগড়া না হলে নন্দিনীর মন খারাপ থাকে। আর এটা ভোলাচাঁদ বুঝতে পেরেই কিছুটা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্ত কপালের লিখন না যায় খন্ডন, এই ফর্মুলা মতে হঠাৎ এক সন্ধ্যায় ভোলাচাঁদের সাথে নন্দিনীর দেখা হলো। হাই-হ্যালোর কোনো তোয়াক্কা না করেই সে খাবারের দোকান খুঁজতে শুরু করলো প্রথমেই। অতঃপর পাশে থাকা বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্সে পাওয়া গেলো খাবার দোকানের সন্ধান।

ভোলাচাঁদ বিকেলবেলায় ভরপেট ভাত খেয়ে বেরিয়েছে, তার খাওয়ার প্রতি আগ্রহ তেমন নেই। কিন্তু সে নন্দিনীকে রাগাতে চাচ্ছে না। হাসিমুখে নন্দিনীর পিছু পিছু মলে প্রবেশ করলো।

কথা শুরু করলো ভোলাচাঁদ : নন্দিনী এখনতো সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এসো দুজনে বসে ফুচকা চটপটি খাই।

= কি! এই কাল-সন্ধ্যায় তেল-টক খাবো? সন্ধ্যা হয়েছে বলে ভালো-মন্দ খাবো না? নাকি তোমার কাছে টাকা কম? মুদ্রা সংকট হলে বলতে পারো, বিল নাহয় আমিই দিবো।

– ছিঃ ছিঃ কি যে বলো! অনেক টাকা আছে। এতেও যদি না হয়, হাওলাৎ করবো, দরকার হলে কিডনি বেঁচে দিবো এখনই। তবুও যা খেতে চাও তাই-ই খাওয়াবো।

= থাক বুঝেছি তোমার প্রেম। চলো টপ ফ্লোরে যাই। সেখানে ইন্ডিয়ান খাবার ভালো পাওয়া যায়। তুমিও এক মগ কফি খেতে পারবে।

অনেক্ষণ হয়ে গেলো, কিন্তু কি নিয়ে ঝগড়া করবে সে বুঝতে পারছে না। ঐদিকে ভোলাচাঁদের মুখে মিটিমিটি হাসি লেগেই আছে। লিফটের দরজার সামনে দুজন অপেক্ষা করছে। এমন সময় নন্দিনীর চোখ আটকে গেলো একটা ডিস্কাউন্ট বোর্ডে! মনে মনে সে খুবই খুশি, ইয়েস! এইতো ঝগড়া করার সাবজেক্ট!!

– তুমি আমার সাথে এমন করতে পারলে ভোলা? আমার নাকফুল তুমি এত অল্প দামে কিনেছো? তাও আবার ডিস্কাউন্টে!

= অল্প দাম কই পেলে? ঐ দোকানে তোমারটাই সবচেয়ে দামী ছিলো সোনা 🙁

– থামো, এ্ক নাকফুল কি কিম্মত তুম ক্যায়া জানো ভোলানাথ ?

= আমি জানবো না? মানি রিসিট এখনো আমার পকেটেই আছে। যদি চাও দেখে নিতে পারো।

নন্দিনী মনে মনে,,, আরেএএএএ তাইতো!

– ধুর বোকা, আমিতো দুষ্টুমি করেছি। আমার দুষ্টুমি করার স্বভাব এত শিগগিরই ভুলে গেলে? তুমি এত সিরিয়াস নেও কেন!

= তুমিই আমার আরেক নাম ভোলানাথ রেখেছো, এটা বারবার ভুলে যাও কেন প্রিয়ে?

– ভোলাচাঁদ/ ভোলানাথ যাইহোক নামে কি আসে যায়? ভালোবাসি, যেখানেই থাকো যতদূরে থাকো,মনে রেখো।

***********************************

অসীমের মাঝেও অসীম তুমি
নিষিক্ত প্রেমের সুপ্ত বিন্দু,

মায়া নয়, ছায়া নয়, অনিমেষ কায়ায়
সমুদ্রে ওড়া গাঙচিল? তাও নয়..
মুছে ফেলা স্বরলিপি, অবাধ্য কবিতায় নেই তুমি।

তুমি থাকো
ভোরের সূর্যের প্রথম আলোয়,
গনগনে দুপুরের তপ্ত রোদ্দুরে পাওয়া
সবুজের সজীব ছায়ায়,

বিকেলের নীল আকাশে মেঘের খেয়ায়, অথবা পশ্চিম আকাশে জ্বলজ্বলে সোনেলায়.

প্রাননাথ,
শ্রাবণের ধারায় গড়েছি জনম
তুমি অনন্তকালের আরাধ্য,
স্বর্গ-স্বপ্ন সবই তোমার
আমি তোমাতেই পূর্ণ….

১৬৪জন ৫জন
57 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য