একজন বই চোর লেখক

নীলাঞ্জনা নীলা ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বুধবার, ০৬:০৭:১২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৭০ মন্তব্য
বইয়ের পাতায় গোটা নভোনীল...
বইয়ের পাতায় গোটা নভোনীল…

ওমর খৈয়ামের কাছে বই হচ্ছে অনন্ত যৌবনা যদি তেমন বই হয়। তেমন বই মানে কি! সে আমি বলতে পারবো না। আবার প্রমথ চৌধুরী বলেছেন বই পড়ে নাকি সত্যিকারের জ্ঞান আহরণ করা যায়। এদিকে সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, বই কিনে কেউ নাকি দেউলিয়া হয়না। ব্রিটিশ লেখক সিডনি স্মিথ বলেছিলেন বইয়ের মতো সুন্দর নাকি বাড়ীর কোনো আসবাবপত্রও না(আমি অবশ্য এক্ষেত্রে বলবো বইয়ের সাথে আসবাবের তুলনার কথা তো ভাবতেই পারিনা। আমার মতে বইয়ের মতো সুন্দর আর কোনো কিছুই না)। ভারতের রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের মতে একটি বই একশটি বন্ধুর সমান। আরোও অনেক মহামানব আছেন, যাঁরা বইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমার মতো সাধারণ মানুষের কাছে রুচিশীল বই হচ্ছে একনিষ্ঠ চেতনা, যা বিবেককে জাগ্রত করে রাখে। হুম রুচিশীল বই বলতে কি বোঝায়? যে বই আমাদের মননে সুচিন্তাকে জাগ্রত করে। যা আমাদের মননকে ঋদ্ধ করে।

মজার ব্যাপার হলো বই আবিষ্কার মাত্র পাঁচশ’ বছর আগে যখন জোহান্স গুটেনবার্গ টাইপের প্রচলন শুরু করলেন, তখনই পৃথিবীর জ্ঞানের ভান্ডারে যোগ হলো বইয়ের অস্তিত্ব। তার আগে তালপাতা আর প্যাপিরাস গাছের পাতায় লেখা হতো। বইয়ের ইতিহাস নিয়ে আলোচনার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আমার নেই। যতোটুকু জানি, সেটুকুই বললাম।

যাক এবারে অন্য প্রসঙ্গে আসি। আমার একটি লাইব্রেরী আছে দেশে। ওর নাম “গ্রন্থিকা।” ওখানে প্রায় হাজারখানেক বই ছিলো। কিন্তু এখন ছয়শ’র মতো। আমরা বলি বাঙ্গালীর স্বভাবই হচ্ছে বই নিয়ে আর ফেরৎ না দেয়া। এদেরকে চোর বলেনা কেউ, তাদের উপাধি হলো “বই চোর।” তো এভাবে যখন চারশ’ বই পরের ঘরের সম্পত্তি হয়ে গেলো, তখনই আমার ভাই বললো, কেউ যদি বই নেয় তার নাম লিখে রাখতে। আর অবশ্যই সিগনেচার নিতে। একবার কি হলো, ভারত থেকে কেউ একজন এসেছিলেন অফিসের কাজে। উনি যে বই ভালোবাসতেন তা বুঝেছিলাম উনি রাতে শুয়ে শুয়ে বই পড়তেন। তারপর কয়েকদিন পর চলে গেলেন, ঘর গোছাতে গিয়ে দেখি সমরেশ বসু’র “প্রজাপতি” উপন্যাস(উনি কিন্তু খুঁজেছিলেন) পেয়ে যাই। তখন এই বই নিষিদ্ধ, ভাবতে লাগলাম পাঠিয়ে দেবো কি? মামনিকে বললাম, বই তো পেয়েছি। সমস্যা হলো তখন আমার বন্ধু এসে বলে এতো এতো বই চুরী হয়েছে, একটা রেখে দিলে কি আর এমন হবে! ঠিকই তো!! মন সায় দিলো ওই কথায়। আমার জীবনের একমাত্র চুরী করা বই। আচ্ছা এটা কি চুরী? যদি এটা চুরী হয়, তাহলে আরেকটি গল্প বলতে যাচ্ছি। একে আপনারা কি বলবেন, সেটা আপনারাই জানেন।

রবার্তো বোলানিও চিলিয়ান কবি ও কথাসাহিত্যিক। যিনি তাঁর জীবনে প্রচুর বই চুরী করেছেন বইয়ের দোকান থেকে। তিনি যখন মেক্সিকো শহরে ছিলেন, তখন বিভিন্ন বুকস্টল থেকে বই চুরী করে নিয়ে যেতেন। মেক্সিকোতে “গ্লাস বুকষ্টোর” নামে একটি বইয়ের দোকান ছিলো, সেখান থেকে তিনি প্রচুর বই মূল্য না দিয়ে নিয়ে গেছেন। উনি নিজেই এসব বলে গেছেন। একসময় তিনি নাকি বই চোর থেকে বই হাইজ্যাকারে পরিণত হলেন। তবে কথায় আছে না, “সাধুর একদিন?” একদিন ঠিক ধরা পড়ে গেলেন, তারপর থেকে আর চুরী করেননি। উনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো কোন বই সবচেয়ে প্রিয়। সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে বইগুলো তিনি চুরী করেছিলেন, তার সবগুলো খুব প্রিয়। এই বই চোর সাহিত্যিকের বিখ্যাত বইগুলো হলো,

#স্যাভেজ ডিডেকটিভ
#অ্যামুলেট
#লাস্ট ইভিনিং অন আর্থ।

আর বেশী কথা বাড়াবো না। শুধু একটি ঘটনা বলেই এটুকু জ্ঞানের সমাপ্তি টানবো। কিছুদিন আগে জাপানে মিতসুকা সুইজু নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। কারণ সে প্রায় পনেরোটিরও বেশি লাইব্রেরি থেকে প্রায় ১,১৭০ টি বই চুরি করেছিলো। বইচোরকে আমরা সাধারণত বইপ্রেমী বলি। বইয়ের প্রেমের কথা সে নয় আরেকদিন বলবো, যদি আপনাদের ইচ্ছে থাকে শোনার। কেন এ কথা বললাম? আসলে আজকাল আমার নিজের লেখা নিজেরই ভালো লাগেনা। ভাবছি বইপ্রেমী হবো, কিন্তু এখানে সবদিকে সার্ভিলেন্স ক্যাম বসানো, কিভাবে সম্ভব! আমি সাজেশন চাই আপনাদের থেকে, দেবেন?

হ্যামিল্টন, কানাডা
৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ইং।

৫১১জন ৫০৪জন
2 Shares

৭০টি মন্তব্য

  • ইলিয়াস মাসুদ

    আমার খুব প্রিয় এক বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত পেলাম,ওর বিয়েতে গিয়েছিলাম,ওকে একটা খাম উপহার দিয়ে এসেছিলাম,খামের ভেতরে ছোট্ট একটা চিরকুটে লিখেছিলাম দুরবীণ,পূর্ব-পশ্চীম ১ম ও ২য় যা তুই আজ ছয় মাস হলো চুরি করেছিস, এই তিন খানা বই তোর বিয়ের উপহার- সুখি হ ।

    আরো লিখুন,এখানেই শেষ করে দিলেন? খুব ভাল লাগছিল

      • ইলিয়াস মাসুদ

        এর পরও আরো আছে,আমি তখন বেকারত্বের চরম সীমা অতিক্রম করছি,আব্বার কাছ থেকে মিথ্যা বলে হাজার খানেক টাকা নিলাম,২য় বারের মত কিনলাম পূর্ব-পশ্চীম,চুরির ভয়ে ঘরে লুকিয়ে রাখলাম,আমার বন্ধুটি কি ভাবে যেন বুঝে ফেলে বই গুলো চুরি করে ওর গার্লফ্রেন্ডকে উপহার দিয়ে দেই,ওর গার্লফ্রেন্ডও আমার বন্ধু ছিল,কিছুদিন পরে যখন বিয়ের দাওয়াত পেলাম তখন হাতে এক টাকাও নেই যা দিয়ে নতুন কিছু বই কিনে দেব,ভাবলাম পূর্ব-পশ্চীম নতুন আছে ওদেরকে দিব,ওমা! সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজে আর পেলাম না,কেউ তো আমার ঘরে আসে না, আম্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম আম্মা বল্লো ওকে দেখেছিল অনেক আগে বই গুলো নিতে-
        কিন্তু ওরা ও কম যায়নি,আমার সাথে চরম প্রতিশোধ নিয়েছিল, আমি চাকুরী নিয়ে বিদেশ চলে যাবো ওদের সাথে ঢাকা গিয়েছি দেখা করতে,ওদের বসার ঘরে অনেক সারা বই, সেখানে আমার সেই তিন খানা বইও আছে, আমি তো খুব খুশি,বল্লাম দোস্ত দাও বই গুলোতে সাইন করে দি,ওরা বললো তার আর দকার নেই, তোর সেই চিঠিও আমরা ফেলে দেইনি, এই দেখ,দেখি ছোট্ট একটা ফটো ফ্রেমে সেই চিঠি বাঁধিয়ে রেখেছে বইগুলোর পাশে শোকেচের উপরে- 😀

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      মাসুদ ভাই পেট ফেঁটে যাচ্ছে। দারুণ গিফট।
      :D) :D) :D) :D)

      শেষ মানেই তো নতূন কিছুর শুরু। ওহ আমার বিয়েতে সবচেয়ে সেরা গিফট পেয়েছি আমার বন্ধুদের থেকে। চার বন্ধু বই দিয়েছিলো। বিশটি বই, অবাক হয়েছিলাম ওরা কি করে জানলো কোন কোন বই আমার পছন্দের। আমি খুঁজছিলাম, কোথা থেকে আনিয়েছে আজও জানিনা। 🙂

    • মৌনতা রিতু

      এমন মেহমানরে মুই দাওয়াত দিতাম না। না হয় বই ক’খান চুরি করেছি, তাই বলে এতো বড় লজ্জা।
      মুই কিন্তু বই চোর। তয় বড় ভাই বোনদের। কিছু চিঠিও পাইছিলাম সেই সব বইয়ে। :D) চুরি বই পড়ার চেয়ে সেই চিঠিতেই মজা পাইছি বেশী। ব্লাকমেইল করছি। :D)

  • নাসির সারওয়ার

    কি জমানা আইলো! হাতের মুঠোয় লক্ষ হাজার বই, তারপরও বইপ্রেমী হইতে চায়!!
    আমি গেদা কালে ৫০ পয়সা দিয়ে (একটা বইয়ের দুই দিনের ভাড়া) অনেকগুলো মাসুদ রানা পড়েছি। এবার বলেন, মাসুদ অবার কোন লেখক!!!
    আজকাল আমাদের বাড়ির ছোটদের কোন বই (পাঠ্য বাদে) পড়তে দেখিনা।
    চালু থাকুক।।।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      বইপ্রেমী হওয়া বড়োই শক্ত। ধরা তো খাবোই, তারপর জেলখানা দর্শনও হয়ে যাবে। সবসময় বলতাম জেলখানা কেমন হয় যদি দেখতে পারতাম। 😀
      বইপ্রেমী হইয়া জেলখানা যাইবার মন নাই। একটা মান-সম্মান আছে না? :p
      আজকাল বই তো স্ক্রীনে পড়ে সবাই। 😀

    • মিষ্টি জিন

      নাক গলানোর জন্য দুখিত। হাই ফাইভ দিলাম ভাইঁয়া .. মাসুদ রানা , দশ্যুবনহুর, একটা পরার পর পরেরটা না পড়তে পারলে মাথা খারাপ হয়ে যেত। রোমেনা আফাজের নাম আজকালকার জেনারেশন জানেই না। 🙁

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        মিষ্টি আপু একটা কথা বলি, আমি নিজেও কিন্তু মাসুদ রানা কোনোদিন পড়িনি। তবে সেবা প্রকাশনীর কিশোর উপন্যাসগুলো পড়েছি। তিন গোয়েন্দা সিরিজ, তারপর জুলভার্নের বই এসব অনেক।
        অবশ্য রোমেনা আফাজের নাম জানি বড়ো আপুরা পড়তো, গল্প শুনতাম। 😀

  • শুন্য শুন্যালয়

    যার বই সে না বোঝে, চুরি গেলে কেমন লাগে!! চুরির সাজেশন চাইতাছো তাইনা? আমি লাইব্রেরি গুলাতে চোর ধরার টেকনিক সাজেশন দিয়া আসুমনে। 😀 তবে চুরি কইরা আমারে কিছু পাঠায় দিলে অন্য কথা :p
    বইপ্রেমের লেখা চাইইইইইইইইইইইইই, প্রেমের যেকোন গল্প আমার ভাল্লাগে :p
    তোমার লাইব্রেরীর নাম এতো খটমটে ক্যান দিছো? দিবা “প্রেমের পেত্নী” এই জাতীয় কিছু, তা না!
    লাইব্রেরী বানানোর স্বপ্নটা স্বপ্নের মতোই সুন্দর, যা সবারই গোপন আকাঙ্ক্ষার মতো, জানিনা কবে পূরন হবে, কিংবা আদৌ হবে কিনা।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      এই মাইয়া তোমার সমস্যা কি? লাইব্রেরীগুলানরে জানাইয়া রাখো, তারপর আমি দেখাইতাছি মজা। বুজছো?
      এখানে বইয়ের লাইব্রেরী শুরু করেছি, এইটার নাম দেবো নে নীল প্রেমের শাকচুন্নী। :p 😀
      সাজেশন দিবা আমারে? পিলিজ। -{@

      • শুন্য শুন্যালয়

        কবিতার নূপূর আমার আরেকটা চুরির অভ্যাস ছিলো আগে, পিচ্চিদের ফটো চুরি করা। কএকেটা এলবাম ছিলো আমার শুধু পিচ্চিদের ছবি। এখন তো কেউ ফটো প্রিন্টই করেনা, সব ডিজিটাল, তাই আর চুরিও করা হয়না। 🙁
        নীল প্রেমের শাকচুন্নি? হেইডা কোন চুন্নিকূলের নাম? আচ্ছা দিও। টিপস কী দিমু তোমারে? ইউটিউবে বিভিন্ন দোকানের সিকিউরিটি ক্যামেরার ভিডিওগুলা দেইখো, হাসতে হাসতে শেষ আমি, চুরি যে একটা আর্ট এটা আমি শিউর হইছি এই ভিডিওগুলা দেখে, সব মেয়ে চুন্নি 😀 তবে এইসব চুরিতে কমপক্ষে দুইজন লাগে কিংবা দুইতিনজন। আমারে নিতে পারো, ধরা খাইলে তোমারে ধরাইয়া দিয়া দিমু দৌড়। ছোটবেলার দৌড়ের ঝালানি হই যাবে। 😀

      • শুন্য শুন্যালয়

        এইযে আমার অবসরের প্রেমিকা ভাবিজান, তোমাগো দুইজনের লাইজ্ঞা চুরির লিঙ্ক দিলাম, আগে এইটা দেইখ্যা বেশি বেশি প্র্যাক্টিস করো, পরে পরীক্ষা নিমুনে 😀
        https://www.youtube.com/watch?v=iGzDJ88FxOQ

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        শুন্য আপু এ কি ভিডিও দেখাইলা গো! :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D) :D)

        তা প্র্যাক্টিস করমু কোনখানে? সেইটা তো কইয়া দেও। ;?

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        প্রেমের নাম বেদানা ফল :p , আর প্রেমের রঙ নীল। আমার মরণের পর শাঁকচুণ্ণী হমু। এখন বুজছো কিছু? নীল প্রেমের শাঁকচুণ্ণী। পিচ্চিদের ছবি কালেকশন? ওয়াও! আমার একটা শখ ছিলো অটোগ্রাফ নেয়া, আর জন্মদিন জানা। তারপর জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো। “হঠাৎ বৃষ্টি” মুভিতে নায়ক ফেরদৌসের অমন শখ দেখে আমি অবাক। আর আমার বন্ধুরা যারা জানতো এটা, তারা হাসতে হাসতে শেষ।

        এইবারে আসি চুরীর কথায়। কে যে ধরা খাইবে, কে জানে! তয় একখান কথা কইয়া রাখি আগেই, তুমি আর আমি’র সাথে আরোও একজন লাগবে। কারণ তো জানোই। 😀

  • ছাইরাছ হেলাল

    আসলে বইয়ের বিকল্প হয়না, হয়নিও,
    আপনার দেখছি বিশাল বইয়ের সংগ্রহ, শুনে ভাল লাগল, অবশ্য ঘাঁটাঘাঁটি করতে পারলে আরও ভাল হতো,
    চুরি নিয়ে এত্ত কিছু জানতাম না,
    ভিন্নতর বিষয় নিয়ে সুন্দর করে লিখছেন, ভালইতো,
    না ভাই সাজেশন দিতে পারছি না, তবে আবার প্রেমী হবেন শুনতেও ভাল লাগে।
    তবে কী কী সংগ্রহে নিলেন আমাদের জানিয়ে দেবেন।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      বইয়ের বিশাল সংগ্রহ যে কোথায় কার কাছে সেটা ভালো করেই জানি। আপনার ঘরের ছবি দিন, তারপর দেখি সংগ্রহ কেওক্রাডাং পাহাড়সম নাকি এভারেস্টসম।

      “চুরী করা মহাপূণ্য” গানটা শুনে দেখবেন। দু:খ একটাই বইপ্রেমী হতে পারলাম না। 🙁
      আপনার লাইব্রেরী যদি কোনোদিন দেখার সৌভাগ্য হয়, অবশ্যই বইপ্রেমী হইবো। 😀 তাই আগে থেকেই সাবধান। 😀

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        কি মানুষ রে বাবা! আপনার বই চুরী করমু না। নিশ্চিন্তে থাকেন।
        আপনারে দেখছিলাম কিন্তু আপনার লাইব্রেরীখানা দেখা হয় নাই। তাই কইছিলাম কুবিরাজ মশাই।

        এটা একেবারে সঠিক বলেছেন আমার মধ্যে প্রেমী মন আছে বলেই ক্ষমা করার একটা মহৎ গুণও আছে। 😀

  • মৌনতা রিতু

    মুই ও কিন্তু বই চোর তয়, সে ম্যালা আগের কথা।
    হ্যাঁ, আপু এই বই চোরের গল্প শুনেছিলাম।
    ধুর, আসবাবের সাথে বই এর কোনো তুলনাই নেই।
    আমি প্রচুর বই কিনি। কলেজে থাকতে গলার চেইন বিক্রি করে বই কিনেছিলাম। মাইর খাইতে খাইতে বাঁচছিলাম। আব্বা সে মাইর ঠেকাইছিল।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      বইচোরের গল্প পড়ারই কথা। এই লেখকের একটা বই ছিলো আমার, অবশ্য অনুবাদ। কিন্তু বইপ্রেমী নিয়ে গেছে। :p

      বাপি আমাকে প্রতিমাসে পনেরোশো টাকা দিতো। সেখান থেকে দু’শো টাকা সরিয়ে রাখতাম। শুধু গানের ক্যাসেট আর বইয়ের জন্য। আমার কাছে প্রায় দু’শো রবীন্দ্র সঙ্গীতের ক্যাসেট ছিলো, যা কিনা SONY ও TDK-এর ১২০ মিনিটের। সব রেকর্ড। সিলেটে “বইপত্র” নামে একটি বইয়ের দোকান আছে, ওরা আমায় চিনতো। টাকায় কম পড়ে গেলে বই নিয়ে যেতাম আর পরে এসে টাকা দিয়ে যেতাম। কি দিন গেছে গো আপু। এখানেও টরেন্টো গেলে ATN নামে বইয়ের একটা দোকান আছে। এতোটাই চেনেন আমাকে দোহা ভাই, যে নিশ্চিন্ত হয়ে বলবেন “নিয়ে যান দিদি।” আর নতূন বই এলেই মেইল করবেন। বইয়ের পোকা আমি।

      কিন্তু কি করা! এখন টরেন্টো যাওয়াও সেভাবে হয়না। আর যখন যাই তখন টাকাও থাকেনা। আগে তো বেতন পেলেই দৌঁড়। 🙁

      • শুন্য শুন্যালয়

        উহ্‌ নীলাপু, এই সনি ক্যাসেটের কী যে ভক্ত ছিলাম, TDK আগে কিনতাম কিন্তু সনির নীল রঙটা এতো ভাল্লাগতো যে পরে আর সনি ছাড়া কিছুই কিনতাম না। মনে পড়ে সনি ক্যাসেটের পুরো ক্যাসেট জুড়ে শুধু একটা গানই রেকর্ড করেছিলাম, আর এখন রিপ্লে আছে, ভাবা যায় সেইসব দিনের কথা, সেই সব অনুভূতির কথা! পরশুদিন ছেলের টিচার এলো স্কুল থেকে ওকে দেখতে, অনেক গল্প করলাম। খুব সুন্দর করে বললো এখনকার আই প্যাড আর ল্যাপটপের গুনাগুন।
        একসাথে বসে থাকতাম অনেকে মিলে, একটা মুভি নিয়ে আলাপ করতাম, উহ্‌ নায়িকার নাম যেন কী, নায়কটার নাম যেন কী ছিলো, একজন বর্ননা করতো এরকম দেখতে? উহ, না না এ না, আরেকজন। তাহলে কেমন দেখতে? কতক্ষন ধরে খুঁজে বের করা, গল্প আলাপ। আর এখন ক্লিক অন দ্যা গুগল, এই হচ্ছে নায়ক নায়িকার নাম, শেষ ডিসকাসন এইখানেই। এসব ভাবতে ভালো লাগেনা আপু।
        আমার বন্ধু একবার এসে আমাকে বলে সে ডাক্তার হতে চাইতো না, কিন্তু একটা মুভি দেখে সে তার ডিসিশান পাল্টেছে, জিজ্ঞেস করলাম কি মুভি, নাম মনে করতে পারেনা, নায়কের নাম ও না। এইটা বলি, অইটা বলি, উহু উহু করে। এরপর বলি উত্তম কুমার? টেবিল চাপড়ে বলে ওঠে ইয়েস। জিজ্ঞেস করলাম মুভির নাম কী সাগরিকা? সে আবারো বলে, ইয়েস।
        আহা সেই দিনগুলো।
        কিসের মধ্যে কী চলে এলো, সব তোমার সনির দোষ। 🙁

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        শুন্য আপু তখন গল্প তৈরী করতে হতো না। এখন গল্প তৈরী করতে হয় এবং আমাদের জন্য খুবই কঠিন। আর একেই বুঝি বলে প্রজন্মের ব্যবধান। উফ উত্তম কুমার সাগরিকা, প্রথম যখন দেখি অমন একটা প্রেম করার কি শখ! সুচিত্রার অমন চাহনীর প্র্যাক্টিস কি কম করেছি? এখন গুগল বাবু সব দেখায় এসব, স্বপ্নের ভাবনায় বিরাজ করার সময় কোথায়?

        তবু মেনে নিতে হবে। এখানেই আমরা, এভাবেই আমরা। গানটা শোনো।
        https://www.youtube.com/watch?v=odpG7RlxVuQ -{@

  • মিষ্টি জিন

    বইয়ের তুলনা বইই.. আপু মুজতবা আলীর বই পড়েছেন ? আমি অনেক আগে পড়েছি ।
    বই চোরের কঁথা কি বলবো.. আমার সংগ্রহের কত রেয়ার বই যে বই চোররা নিঁয়ে গেছে। ;(
    অনেক ভাললাগার পোষ্ট

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      মুজতবা আলীর সব কয়টি বই মানে উনার রচনাসমগ্র আমার সংগ্রহে আছে। পড়েছিও। আমার মামনির বইয়ের সংগ্রহ আমার থেকেও বেশী ছিলো। আমি বাংলা নিয়ে অনার্স-মাষ্টার্স করেছি। তার জন্য অনেকের বই পড়তে হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরুর অনেক আগেই আমার অনেকের বই-ই পড়া হয়ে গিয়েছিলো। মুজতবা আলীর বই এমনই যে পাতায় দাগ দিয়ে স্নানে যাবো, কিন্তু আবারও বই খুলে পড়তে বসা। 😀

      কাঁদবেন না গো আপু, কতো দুষ্প্রাপ্য বই যে আমারও গেছে। 🙁
      এখন কলকাতায় খোঁজ লাগিয়েও পাইনা।

  • ক্রিস্টাল শামীম

    এখন বইচুরি করা খুব কঠিন। কিন্তু আমার মাথায় একটা বুদ্বি আছে দেখতে পারেন। একটা পাতলা তার বা ছিগারেটের সিলভার কাগজ ক্যামেরার পিছনের দুইটা তারে লাগিয়ে দিবেন। তাহলে বিদ্যৎতের মেন ছুইচ পরেযাবে আর সাধারণত ২০ মিনিট লাগে তা পূনরায় চালু করতে। তার মাঝেই আপনার কাম সারতে হবে। আর আমি আপনারলাইব্রেরি থেকে বই চুরিকরার রাস্তা বেরকরছি। \|/

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      আপনার সাজেশনে যে কানাডার জেল দর্শন খুব সহজেই হবে, এটা নিশ্চিত।
      কারণ ক্যামেরা খুঁজতে খুঁজতেই পুলিশ এসে গাড়ীতে উঠিয়ে নেবে। এরা তো সবার সামনে মারধোর করেনা। কি সুন্দর করে গাড়ীতে ভিআইপি-এর মতো বসিয়ে নিয়ে যায়। 😀

      আমার লাইব্রেরী আমার কাছেই তো নেই। 🙁

  • লীলাবতী

    ১,১৭০ টি বই চুরি!! অতএব প্রমানিত হল, সাহিত্যিক হতে হলে বই চুরি করতে হবেই।তবে প্রজাপতি বই আপনার চুরি করা বই না, ওটি আল্লাহ্‌ দিয়েছেন 🙂 এত সিসি ক্যামেরার মাঝে বই চুরি করা সম্ভব না আসলে। চুরি না করার কারনে একসময় বিশ্ব সাহিত্যিক শুন্য হয়ে যাবে 🙂 ভাল লেগেছে লেখা।

  • অপার্থিব

    বই চুরি করি নাই কখনো অবশ্য করার যে ইচ্ছা হয়না তা না। আসলে শেষ পর্যন্ত সাহসটা আর কুলিয়ে উঠে না । তবে এই পোস্ট পড়ার পর নুতুন করে উৎসাহিত হলাম। রবার্তো বোলানিওর মত লেখক যদি বই চুরি করতে পারে আমি তো কোন ছার !!!

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      আমাদের স্কুলের লাইব্রেরীতে তেমন বই ছিলোনা। তার চেয়ে বরং আমার মামনির লাইব্রেরীতে প্রচুর পরিমাণে বই ছিলো। প্রায় ২৫ বছর আগে মামনির বইয়ের আলমিরাতে ছয়শ’র মতো বই ছিলো। মামনি লেখালেখি করতো একসময়। আর লেখা এবং পড়ার নেশাটা মামনির থেকেই পাওয়া। আমার বাপি জীবনে গল্পের বই পড়েছে কিনা দেখা হয়নি। শুধু পত্রিকাই পড়তো। আর এই পত্রিকা পড়ার অভ্যেসটা এখনও আছে আমার। অবশ্য অনলাইনে পত্রিকা পড়ি।

      লেখা যে লিখি সে তো আপনাদের প্রেরণাতেই।

      • ইঞ্জা

        এইবার মনে পড়েছে আপু, আমার ছোট খালা আজীবন অবিবাহিতা ছিলেন উনার হাতেই আমার প্রথম গল্প আর উপন্যাস পড়া শিখা, উনিই আমাকে প্রথম ধরিয়ে দিয়েছিলেন শরৎচন্দ্রের পথের পাঁচালি, উনার ছিল বড় একটা শোকেস যাতে ছিলো অনেক অনেক গল্প, উপন্যাস আর কবিতার বই, যেমন নীহারঞ্জনের কিরিটি রায়কে এখনো ভুলতে পারিনি, আরো অনেক বড় বড় লেখকের বইয়ে ঠাসা ছিল সে শোকেস।
        মাকে আমার প্রণাম জানাবেন দিদিভাই।

      • নীলাঞ্জনা নীলা

        ইঞ্জা ভাইয়া পথের পাঁচালী উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের।

        তবে বইয়ের লাইব্রেরী শুনে ইস মনে হচ্ছে এখুনি দৌঁড় দেই আপনার ছোট খালার কাছে।
        অবশ্যই জানাবো মামনিকে আপনার কথা।

        ঈদ মোবারক আমাদের হ্যান্ডসাম লেখক ভাইয়া।

  • রিমি রুম্মান

    নীলা’দি, আমরা যারা টুকটাক লিখছি, তাঁরা সকলেই সম্ভবত বইপ্রেমী। সময়াভাবে পড়া হয়না হয়তো সেইভাবে। কিন্তু পড়তে না পাড়ার অতৃপ্তি কিন্তু একরকম খারাপ লাগায়।

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      রিমি আপু এখন আমার ব্যস্ততা শুধু ডাক্তার-ফিজিও-ল’য়ার-ইন্সুরেন্স নিয়ে। কিন্তু যখন কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম নতূন বইয়ের জন্য সময় তৈরী করে নিতাম। আমাদের অফিসে আমাদের নার্সিং ম্যানেজার মিশেল আর আমার সুপারভাইজার লিয়া জানতো বই পড়ার নেশা। জানো বাসায় যখন দেখতে আসে ওরা আমায়, আমার জন্য ম্যাগাজিন নিয়ে এসেছিলো।

      লেখা যেমন আমার আরেক সন্তান, তেমনি আমার অভিভাবক বই।

      ঈদ মোবারক আপু। ভালো থেকো। -{@

  • ইকরাম মাহমুদ

    জীবনে একটা বই চুরি করেনি এমন বইপ্রেমী পাওয়া যাবেনা। এটাকে চুরি না বলে বলা যেতে পারে” না বলে নিয়ে আসা”। আমার কাছেও একটি আছে। আমাদের এক বাংলা ম্যাডামের থেকে না বলেই নিয়ে আসছি। ফেরত দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নাই। আপনার লেখাটা পড়ে নিজের চৌর্যবৃত্তির কথা মনে পড়ে গেল।

  • আলমগীর হোসাইন

    শুধু ওমর খৈয়াম নয়,আমার কাছেও বই হচ্ছে অনন্ত যৌবনা !!

    এখন তো কত সুবিধা অনলাইন ভাল ভাল বই-লেখা/লেখি পড়া যায় ;একসময় একটা সুন্দর লেখা কিংবা বই পড়তে কত কি যে করতে হতো !

    জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক, গনিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, সুফী, কবি ওমর খৈয়াম আমার একজন প্রিয় কবি | আর তার নাম দিয়ে বই বিষয়ে লেখাটি অনেক ভাল লাগলো |

    ওমর খৈয়ামেরে আমার একটি প্রিয় কবিতা …

    #স্বর্গ স্বর্গ সবাই করো,
    স্বর্গ সে এই ধরায় রাজে
    নরক বলো তোমরা যাকে।
    তাও দেখেছি এই সমাজে।
    জানতে কি চাও ভবিষ্যত
    কি হবে কার কোন জনমে ?
    এখানকার এই এই জীবন ছাড়া
    নেই কিছু আর প্রিয়তমে।। #

  • ব্লগার সজীব

    বই চোর তাহলে মহান এক কাজ 🙂 সব চুরি চুরি নয়!! বই চুরি করে সাহিত্যিক, এখন বুঝলাম আমি কেন লিখতে পারিনা। ঢাকার আজিজ মার্কেটের বই এর দোকানে খুঁজে দেখতে হবে, কোন কোন লাইব্রেরিতে সিসি ক্যামেরা নেই 🙂 লেখক হওয়া ঠেকাবে কে? 🙂

    • নীলাঞ্জনা নীলা

      ভাভু বাইয়া বই চোর বলতে নেই। বলুন বইপ্রেমী। এরা হলেন স্পেশ্যাল বইপ্রেমী। বুঝেছেন? 😀
      হুম ছিঃ ছিঃ (সিসি) ক্যামেরা ভালো করে খেয়াল করতে গিয়ে আবার কারাগার দর্শন যেনো না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখবেন।

      কি নামটা শোনালেন আজিজ সুপার মার্কেট। আহারে নীলক্ষেত আর আজিজ সুপার আমার ফাঁকা সময় তো ওখানেই কাটতো।
      খুব মিস করি এই জায়গাগুলো আর সেই দিনগুলো। 🙁

  • আবু খায়ের আনিছ

    বই পড়তে পড়তে এমন অবস্থা হয় যে, কোনটি রুচিশীল আর কোনটি রুচিশীল নয় তা বইয়ের কয়েক পাতা উল্টেই বলে দেওয়া যায়। আমার কথা নয় স্যারের কথা। আমাকে বলতেন, পড়তে থাক আস্তে আস্তে বুঝে যাবে কোন বইটি তোমার জন্য উপযুক্ত।

    বাড়ি যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে সবগুলো বই তাও প্রায় ৭০টির উপরে নিয়ে গিয়েছি বোনেরা পড়বে আর আমার রুমে স্থায়ী ঠিকানায় থাকবে বলে। যাওয়ার কয়েকদিন আগে কিছু বই কিনেছিলাম ছুটিতে পড়ব বলে, বাড়ি যাওয়ার পর বেছে বেছে সেগুলোই নিয়ে গিয়েছিলো একজন, তারপর একদিন বলল, তার কাছ থেকে নাকি তার আরেক বন্ধু নিয়েছে, এবং তার কাছ থেকে নাকি অন্য আরেকজন নিয়েছে। আমি ধরেই নিয়েছি ওগুলো আর ফিরে আসবে না, কার ঘরে যে শোভা বৃদ্ধি করবে কে জানে।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য