ঋণী (শেষ পর্বের প্রথম অংশ)

মনির হোসেন মমি ১৫ মার্চ ২০১৪, শনিবার, ০৮:০৯:৫৭অপরাহ্ন বিবিধ ১৬ মন্তব্য

ঋণী০১

ব্রিফকেটস খুলে আজিম সাহেব তার দাদার ছবিটি বের করেন।বেশ স্বাস্হ্যবান এবং লম্বা ফর্সা তার দাদা।ছবিতেই অনুমান করা যায় বয়স কালে সে কতটা পালোয়ান ছিল।ছবিটা দেখে মেয়ে আবার প্রশ্ন করে

এইটা কি আমার বড় আব্বু?

হ্যাঅজানা এক ব্যাথায় আজিম সাহেবের চোখের পানি টল টল করছে যে কোন সময় তা গড়িয়ে পড়তে পারে মাটিতে

বড় আব্বু কি যুদ্ধ করেছিল?

হ্যা,বড় আব্বু অনেক বড় যোদ্ধা ছিলেন

বড় আব্বু এখন কোথায়?

জানিনা….বলে চোখের পানি মেয়ের হাতের উপর পড়ে

আব্বু তুমি কাদছঁ কেনো?

এমনিই

বারে..;;শুধু শুধু কেউ বুঝি কাদেঁ!

বাবার চোখের পানি দেখে মেয়ের মনও খারাপ হয়ে যায় সে বাবাকে বুঝাবার চেষ্টা করে

ঠিক আছে আব্বু…. আমি আর বড় আব্বুর কথা জিজ্ঞাস করবনা

আমিজ সাহেব মেয়েকে টান দিয়ে বুকে নিয়ে চোখের বান ছেড়ে দেন।চোখের পানি ঝড় ঝড় করে ঝড়ছে আর আপন মনে বলে যাচ্ছে অজানা ব্যাথা জানবার ব্যার্থতা

কি করে তোকে বলব দাদু এখন কোথায়,জীবিত আছে না মরে গেছে আমি প্রশ্নের উত্তর অনেক খুজারঁ চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছি….ব্যার্থ হয়েছিরে মা ব্যার্থ…..

আজিম সাহেব আজ খুব সকালেই ঘুম থেকে বেরিয়ে যান তার লেখক কিছু বন্ধুদের সাথে দেখা করতে। বন্ধুরা গতকাল বলেছিল কোথায় যেন একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা আছে তার সাথে দেখা করে আরো কিছু তথ্য জেনে নেবেন লেখকরা। সেই উদ্দ্যেই আজিম সাহেব ঘর থেকে বের হয়ে বন্ধুদের মিলিত গঠিতলেখক বন্ধু ক্লাবেযান।আজিম সাহেব ক্লাবে ঢুকার সাথে সাথে বন্ধুরা কি যেন বলাবলি করছিল তা হঠাৎ থেমে যায়

কি ব্যাপার সবাই ভাবে হঠৎ চুপসে গেলে?ঘটনা কি?

এক লেখক বন্ধু আজকের পত্রিকাটি তার সামনে ছুড়ে দেয়।আজিম সাহেব পত্রিকার পাতায় চোখঁ রাখতেই অবাক হন।একি! তো আব্বুর ছবি!

দূর্ণিনিতীর দায়ে ফেসে গেল বিশিষ্ট শিল্পপতি রাজনৈতিকবিদ আকমল হোসেন

বড় বড় হেড লাইনে বের হয়েছে তার পিতার কুকৃর্তির কথা।সহকর্মীর অনেকেই অনেক মন্দ বলছেন অনেকে আবার আজিম সাহেবকে কিছু মনে না করতে অনুরোধ করছেন।আজিম সাহেব সাথীদের নিয়ে চলে গেলেন তাদের নিদিষ্ট প্লানিংয়ের কাজে

সরকারী কোন সংস্হা নয় বেসরকারী ভাবে সমাজের কয়েকজন বিবেবান ব্যাক্তি মিলে বৃদ্ধাশ্রমের মত একটি সংস্হা তৈরী করেছেন সেখানে এক বৃদ্ধ, বয়স প্রায় আশি/পচাশিরঁ উপরে।লোক মুখে জানা যায় এই বৃদ্ধ লোকটি ভাষা আনন্দোলন,’৬৯ গণঅভূৎখান,’৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্মূখ ভাগের আন্দোলনকারী ছিলেন।তার কাছ থেকে কিছু তথ্য জানতেই আজিম সাহেব বন্ধুদের সাথে সেখানে গেলেন।সেখানে ছোট্র এক কামড়ায় চামড়া ঝুলে যাওয়া চোখে কালো ফ্রেমের চশমা দেয়া এলোথেলো চুল আর নাক মূখ ভর্তি গোফ দাড়িওলা লোক দুজন পিচ্চির সাথে বসে বসে লুডু খেলায় মগ্ন তাদের দেখে সে খেলায় আরো বেশী মনযোগ দেন।বরাবর সে কোট টাই পড়া লোক দেখলে তেমন কোন কথা বলে না সাধারনতঃ সে এড়িয়ে যায় এবারো তাই করল সে।আজিম সাহেবের এক বন্ধু তাকে সালাম জানান কিন্তু সে না শুনার ভান করে পিচ্চিদের সাথে লুডু খেলায় মগ্ন

চলবে…

১৬০জন ১৬০জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য