বন্ধু মানেই এলিয়ে দেয়া নিরাপত্তার নিঃশ্বাস

 

পঁচিশ – অহমের প্রতি

শয়তান তুই আমাকে এসব বললি , তোর সাহস তো কম না ! বেশ হয়েছিলো ছ্যাঁকা না খেলে জীবনে অনেক কিছু পাওয়া হতোনা । মানুষ জানিস তো অভ্যেসের দাস ? সময় লাগে চলে যাওয়া মানুষের অভাব পূরণ করতে , কিন্তু জীবনে কেউই অনিবার্য না । কতো প্রিয় মানুষ একেবারেই চলে গেলো আরেক জগতে , তাও তো আমরা বেঁচে আছি । কারণ আমাদের প্রয়োজন আছে এই পৃথিবীতে । সময়ই তার সময়মতো নিয়ে যাবে , যাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে ।

তবে আমি যাচ্ছিনা সহজে । আর যখন যাবো , তুই জানবি যাবার পরে । ছাগল রে আমার মৃত মুখ তোকে দেখাবো না । বলা যায়না , তখনও আমাকে ক্ষ্যাপাবি । আর আমি তো উঠে তোকে উত্তম-মধ্যম দিতে পারবোনা ।

তোর তিরি

 

ছাব্বিশ – তিরির প্রতি

তোকে আর লিখবোনা । অনেক বদলে গেছিস তুই । আমি যে তিরিকে জানি-চিনি , সে মৃত্যু শব্দটা উচ্চারণ করেনা । শুধু এটুকু জানাতেই লিখলাম । আঠারো বছর আগে যেদিন আমার মাকে হারিয়েছিলাম , যাকে ঘিরে আমার সমস্ত পৃথিবী । আমি কাঁদিনি , আসলে কাঁদতে পারিনি । শূণ্যতা যখন দখল করে মন , তখন কিন্তু চোখের জল আসেনা । এই কথাটা আমাকে একটা বাইশ বছরের মেয়ে বলেছিলো । সেই মেয়েটির সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো সতেরো বছর বয়স যখন আমার । মেয়েটি এতোটাই ভালো বন্ধু যে তাকে স্বার্থের সম্পর্কর সাথে বাঁধতে চাইনি । বন্ধুত্ত্বর মতো নিঃস্বার্থ সম্পর্ক আর কোথাও নেই । সেই মেয়েটি যে কিনা জীবন দেখাতো , ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে হাত বাড়িয়ে তুলে বলতো , “পড়েছিস কেন জানিস ? অন্যমনষ্কতার কারণে । অন্যদিকে মনকে যতো খুশী , যেমন ইচ্ছে থাকতে দিস । কিন্তু তার জন্যে প্রস্তুতিও নিস যে , সামনে কেউ নেই হাত বাড়িয়ে তোলার , নিজেকেই তুলতে হবে ।”

তিরি আমি জানি তোর কাছে অভ্যেসকে মানিয়ে নেয়া কঠিন কিছু না । কিন্তু যে অপরাধ করেছিস , তার শাস্তি তো পেতেই হবে , তাই না ? যে শাস্তি দেয় তার প্রিয় মানুষটাকে , সে যন্ত্রণা পায় অনেক বেশী । আমি নিজেকে সেই যন্ত্রণা দেবো । এমন বন্ধুত্ত্বর প্রয়োজন নেই , যার কাছে জীবনের গল্প নেই ।

ভালো রাখার চেষ্টা করিস । ঠিকানা বদলে ফেললাম । তাই লিখলেও আমার কাছে আসবে না , ফোনও করে লাভ নেই । হয়তো ভাবছিস এটুকু কথার জন্যে এতো কঠিন কেন হচ্ছি ? তার উত্তর তোর থেকে কেউ ভালো জানবেনা ।

অহম

 

সাতাশ – অহমের প্রতি

তবুও লিখলাম । ভুলে গেছিলাম । চিঠি ফিরে যাতে আসতে না পারে , তাই আমার ঠিকানাও দেইনি । মনে মনে স্বান্তনা দেবো , হয়তো পেয়েছিস । আমি কাঁদতে পারলাম না এবারও । এমন শূণ্যতা আমাকেও গ্রাস করতে পারে , বুঝিনি । প্রিয় আমার এমন চেহারা দেখে হাসছে , রাগও করতে পারছি না ।

একটা কথা বলি , কেন জানি মনে হচ্ছে তোর এরকম চিঠির জন্যে যে শাস্তি পাচ্ছি । তুই তার জন্যে বিশাল কিছু সারপ্রাইজ দিবি আমায় । যদি আমি তোকে চিনে কিংবা বুঝে থাকি । পৃথিবী উলটে গেলেও অহম আমায় ছেড়ে কোথাও যাবে না । তুই আমার একমাত্র পোষা ছাগল কিনা !

তোর তিরি

 

আঠাশ – অহমের প্রতি

একটা কথা মনে পড়ে গেলো । একবার তুই বেশ রাগ দেখালি , তারপর আর কোনো খবর নেই । উপমাকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার অহম ছাগলটা কই? আমায় উপমা বললো , “সেটা তো আমার থেকে তুমি বেশী ভালো জানো ।” বুঝলাম বেশ হিংসায় মরছে । ওদিকে রিনী আমায় বললো তোর সাথে নাকি উপমার রোজই দেখা হচ্ছে ।

রিনী রাতে ফোন দিয়ে বললো , “এই একটা কথা বলবো । শোন বিশাল ঘটনা ।” আমি তো চিন্তায় , জানতে চাইলাম কি হয়েছে ? ও তখন বললো , “তিতির শোন অহম না যা করেছে !” কিচ্ছু বলেনা আর রিনীটা । তোর ফোন বন্ধ । ওদিকে রিনীও ফোন ধরছে না আর । ওদিকে ঠিক বারোটায় আবার রিনীর ফোন । রিনী এবার বললো , “শোন তাড়াতাড়ি দরোজা খোল।” আমি ছুটে গেলাম । মা-কে বললাম রিনী দরজা খুলতে বলছে । একেবারে আমি প্যারালাইসড । রিনী , উচ্ছ্বাস আর তুই হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে । নিজের জন্মদিন ভুলে গিয়েছিলাম । আর এসব শয়তানি চিন্তা-ভাবনা তো একজনেরই মাথা থেকে বের হতে পারে । অনেক রকমের সারপ্রাইজ আমার জন্মদিনে তুই দিয়েছিস । কিন্তু এখন তো আমার জন্মদিন না । অহম একটু জানতে দিস , কেমন আছিস তুই ?

তোর তিরি

 

ক্রমশ প্রকাশ্য

হ্যামিল্টন , কানাডা

৯ আগষ্ট , ২০১৩ ইং ।

৩৩৫জন ৩৩৫জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ