ঈদ উপহার

জিসান শা ইকরাম ১০ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১২:৩৪:৪০অপরাহ্ন ইতিহাস ঐতিহ্য ৮ মন্তব্য

কালের বিবর্তনে বাংলাদেশের ঈদের উপহার সামগ্রীর পরিবর্তন হয়েছে অনেক। ঈদ শব্দটিই তো পরিবর্তিত হয়ে ইদ হয়ে গিয়েছে। আমি সবসময় পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও ঈদ বানানটার পরিবর্তিত বানান লিখলাম না। বাংলা বানানের পরিবর্তন বা আধুনিক যদি করতেই হয়, তবে বাংলার কিছু অক্ষরও পরিবর্তন করা দরকার। এসব অক্ষর বাংলা ভাষাকে বৈশ্বিক ভাষা হিসেবে কঠিন করে দিয়েছে। স, শ, ষ/ র, ড়, ঢ়/ ন, ণ এ সমস্ত অক্ষর হতে একটি রাখলেই হয়। উচ্চারণে হয়ত তারতম্য হবে, কিন্তু তা বড় সমস্য নয়। অপরপক্ষ বুঝলেই তো হয়, বক্তা কি বলতে চাচ্ছেন। ভাষা আবিস্কারের পূর্বে একটি সময় তো মানুষ ইশারায় কথা বলতো। ইংরেজী S, R, N একটিই অক্ষর। ইংরেজী ভাষা এই সমস্ত অক্ষর দিয়ে চলতে পারলে বাংলা ভাষাও চলতে পারবে। বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষার সাথে সম্পর্কযুক্ত। অথচ এর আন্তর্জাতিকতা তেমন দৃশ্যমান নয়। বিভিন্ন মোবাইল সেট এর ডিফল্ট ভাষার মধ্যে বাংলা খুব কম সেটেই আছে।
মূল প্রসংগে আসা যাক-

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সামাজিকতায় ব্যপক পরিবর্তন লক্ষনীয়। নারীদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে বোরকার প্রচলন এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরন। ১৯৭১ এর পূর্বে আমি কখনো বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বোরকা পরিধান করতে দেখিনি। মা,খালা, নানী, দাদীদের বয়সী নারী ব্যতীত বোরকা কেহই পরিধান করতেন না। ৮০ বা ৯০ দশকেও পথে ঘাটে বোরকা আবৃত নারীদের খুব কম দেখা যেতো। তখনো এদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান ছিলেন।
যে সময় হতে জামায়াত ইসলাম, হেফাজত ইসলাম এর প্রভাব বৃদ্ধি হতে থাকে, সে সময় হতেই নারীদের বোরকা আবৃত করার পরিমানও বৃদ্ধি হতে থাকে। এর ফলে বাংলাদেশের সমাজ জীবনে কতটা সুফল বয়ে এনেছে তা ভবিষ্যত বলে দেব। তবে এর ফলে বোরকা, হিজাব ব্যবসায়ীদের ব্যবসা যে অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে তা খুব সহযেই অনুমেয়। আমার এই উপলব্ধি কোন ভাবেই বোরকা বা হিজাব এর বিরুদ্ধে নয়। এটি যার যার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। বাংলাদেশের নারীরা শাড়ি এবং সেলওয়ার কামিজ পরিধান করেন। যা অত্যন্ত শালীন পোষাক।

সময়ের পরিবর্তনে ঈদের উপহার পরিবর্তিত হয়েছে। দুই তিন বছর পূর্বেও আমি ঈদে টি-শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবী, পাজামা উপহার হিসেবে পেয়েছি, দিয়েছিও। গত ঈদুল ফিতরে যা উপহার পেয়েছি তা সম্পুর্নই ইসলামী ঐতিহ্যে সাথে সম্পর্কযুক্ত।
বরিশাল এর জাফরান রেস্টুরেন্ট উপহার হিসেবে দিয়েছে একটি তজবিহ, জায় নামাজ, আয়তুল কুরসী। পূবালী এবং মার্কেন্টাইল ব্যংক দিয়েছে আতর। বরিশাল IDLC দিয়েছে আতর, তজবিহ। আর সোনেলার একজন ব্লগার দিয়েছেন এই সমস্ত উপহার। ছবিতে দেখুন।

যা যা দিয়েছেনঃ
১। স্যান্ডো গেঞ্জি
২। পাজামা
৩। পাঞ্জাবী
৪। আতর
৫। মাথায় দেয়ার তেল।

মাথায় দেয়ার তেল আমি আমার এই জীবনে প্রথম উপহার হিসেবে পেলাম।
তেলের নাম RED KING.Mens Cooling Oil.
এই তেলের গুনের কথায় বলা আছে- Relax,Sleep,Recharge.
Cooling Oil.Relax,Sleep এর গুন এর কথা বুঝা গেলেও Recharge এর অর্থ কিছুতেই বুঝলাম না। মাথায় এই তেল দিলে কি Recharge হবে? মাথার মধ্যে তো ব্যাটারী নেই আমার। তাহলে রিচার্জ হবে কি? কেউ কি আমাকে বুঝিয়ে দিবেন এই রিচার্জ এর কি অর্থ?

এমন উপহার পেয়ে উপহার পাঠানো ব্লগারকে ধন্যবাদের জন্য ফোন দেয়ায় তিনি শিক্ষকের মত আচরন করে আমাকে শিক্ষা দিলেন ” আপনার মাথা খুব গরম, রাতে ঘুমানোর আগে রোজ এই তেল ভালোভাবে মাথায় দিবেন যাতে চুলের গোড়ায় মাথার চামড়ায় লাগে। মাথা একদম ঠান্ডা হবে, এতে আপনার ঘুম ভালো হবে। ”
আমিও বাধ্যগত ছাত্রের মত সেদিন হতে ঘুমানোর পূর্বে এই তেল মাথায় দেই। মাথাও বেশ ঠান্ডা হয় এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ি। বলা যায় এটি তেল হিসেবে নয়, ঔষধ হিসেবেই ব্যবহার করছি।

এই তেল উপহার হিসেবে পাবার পূর্বে ঘুমানোর আগে একটি দেয়ালের একপাশ হতে অন্য পাশে কোলে নিয়ে একটি একটি ভেড়া নিয়ে যেতাম মনে মনে। এভাবে একশত ভেড়া অন্য পাশে নেবার পূর্বেই ঘুমিয়ে যেতাম। অথবা
You tube এ মিউজিক শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম…

সবচেয়ে বেশী শুনতাম   The Last of the Mohicans by Alexadro Querevalu  এর সুরের মূর্ছনা। আপনিও শুনুন The Last of the Mohicans , সুরের মুর্ছনায় আপনার ঘুম আসতেও পারে।

 

আর বর্তমানে এই তেল মাথায় দেই, মাথা ঠান্ডা হয়ে ঘুমিয়ে যাই দ্রুত।

উৎসর্গ : যিনি আমাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য এমন কার্যকরী এবং অভিনব উপহার দিয়েছেন।

১৯৯জন ২৬জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

  • বন্যা লিপি

    বাংলা একাডেমিক ইদ জীবনেও ব্যাবার করবাম নয়-( ব্যাবহার-করব-না) এই কিছুদিন আগেই, উলাঝতাহুয়া দিমাগ ( বিচলিত মগজ- মস্তিষ্ক) এইসব বাংলা অক্ষর নিয়ে ভাবছিলো। আপনার পয়েন্টগুলো যেন ঠিক ঠাক আমার মনের কথা। কাগজে লেখার সময়ে এইসব তালিব্য শ, দন্ত স, ক,খ, পেট কাটা মধ্যন্ব ষ ( এইখানেই দ্যাখেন তিনটা স উঠে এসেছে। মধ্যন্ব ষ একমাত্র উপযুক্ত শব্দেই ব্যাবহার হয়ে থাকে। বর্ষা, আাষাঢ়, এবং এগুলো অবশ্যই লিখে শব্দ ব্যাবহারের ক্ষেত্রেই কেবল দরকার হয়ে থাকে।) মুখে উচ্চারনে শুধু মাত্র জিহ্বা এবং মুখের ভেতরকার তালু,দাঁতের আশপাশ, জিহ্বার গোড়ালি,মধ্যভাগ, দুই দাঁতের মধ্যস্থান, জিহ্বার অগ্রভাগ ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যাবহার করে সঠিক উচ্চারন করতে হয়। এখন কথা হইছে এত শুদ্ধ করে বাংলা উচ্চারন কয়জনে করে।
    এদিকে আরবি শব্দগুলো যদি ধরেন! আপনাকে সঠিক উচ্চারন করতেই হবে। নয়ত ভুল ভাল উচ্চারনে ভুলভাল অর্থে ( পবিত্র আল কোরআন) এক্কেবারে কপোকাত। গুণাহগার হতে হবে।
    এবার যাই উপহারের বিষয়ে- ইশ্….আপনি কত কত উপাহার পাইছেন😱😱😱😱
    আপনার তো রাজকপাল! তেলের যেই দাম বাড়ছে! তাতেও আপনাকে তেল দিয়েছে( উপহার) রিচার্য করতে!!!! ভাবা যায়!!¡ তাও আবার সোনেলারই কোনো ব্লগার????!!!!!! ওয়াও😱😱😱😱😱 আপনি কাজটা মোটেই ভালো করেননাই এইভাবে প্রচার করে😃
    লেখা পড়ে হাসতে হাসতে কাইত হইয়া পড়ছি😀😀😀😀😀😀😀

    • জিসান শা ইকরাম

      শ,স,ষ/ র,ড়/ ন,ণ নিয়ে খুবই ঝামেলায় থাকি আমি।
      বাংলা বানান নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি হয় বলে আমি মনে করি।
      এত কস্ট করে উচ্চারণ করা লাগে যে ভাষা, সে ভাষার বিশ্বায়ন কিভাবে হবে?
      বাংলা ভাষাবাসিদের সংখ্যা বিশ্বে সপ্তম। অথচ কোরিয়ান, থাই ভাষা হতেও এর গুরুত্ব কম বিশ্বে।
      তেলের কথা প্রচার করার একটা উদ্দেশ্য ছিলো।
      গত রোজার ঈদে পাওয়া তেল, রোজ ব্যবহার করলে যে এখন শেষ হয়ে যেতে পারে। উপহার প্রদানকারী যেন আবার পাঠায়, এই উদ্দেশ্যে পোস্ট দিলাম। কিন্তু কোনো শারাশব্দ নাই,

      শুভ কামনা

  • রোকসানা খন্দকার রুকু

    মানুষের শরীরও ব্যাটারী চালিত। মাথাই তার মুল ব্যাটারী যা রিচার্জের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। মূলত ভিটামিন যুক্ত খাবার প্রধান রিচার্জ। তেলটাকেও আনুসাঙ্গিক হিসেবে বলা যায়। সবচেয়ে বড় হলো কেউ আপনাকে ফিল করে, দুর থেকেও পাশে থাকে এটাই বড় রকমের রিচার্জ। এতে ঘুমও ভালো হয়। আশা করি বুঝাতে পেরেছি।
    বানানের ব্যাপারে আমি অতি মূর্খ তাই কিছু বলা গেল না।
    আর রাজকপালের মানুষরাই একসাথে এতো গিফট পায়। তো রাজাধিরাজের মতো ব্যবহার করতে থাকুন।
    ঈদ মেবারক🌹🌹

    • জিসান শা ইকরাম

      ” মানুষের শরীরও ব্যাটারী চালিত। মাথাই তার মুল ব্যাটারী যা রিচার্জের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। মূলত ভিটামিন যুক্ত খাবার প্রধান রিচার্জ। তেলটাকেও আনুসাঙ্গিক হিসেবে বলা যায়। সবচেয়ে বড় হলো কেউ আপনাকে ফিল করে, দুর থেকেও পাশে থাকে এটাই বড় রকমের রিচার্জ। এতে ঘুমও ভালো হয়। ” —
      বাহ, অত্যন্ত চমৎকার ভাবে বুঝিয়ে দিলেন। আমি এমন ভাবে ভাবিই নি।
      ধন্যবাদ আপনাকে।

      ওকে, আজ হতে রাজাধিরাজ এর মত চলবো।
      শুভ কামনা।

  • হালিমা আক্তার

    ইদের মধ্যে ঈদ খুঁজে পাইনা। আমার ঈদ লাগবেই। ঈদের সাথে কোন আপস করতে পারতাম না।
    ইংরেজি ভাষা মাত্র ২৬টা বর্ণ দিয়ে চলতে পারে। আমাদের ৫০ বর্ণের সাথে আছে “কার” ও “ফলা” চিহ্ন। তারপর শ স ষ, ণ ন, র ড় এর ব্যবহার। এদের উচ্চারণে ভিন্নতা আছে। কিন্তু এটা ভাষাকে জটিল করে দিচ্ছে। ভাষার আধুনিকায়ন না করে। ঈদ কে ইদ, গরু কে গোরু লেখার গবেষণায় ব্যস্ত।
    আপনি তো ভাগ্যবান এতো গিফট পেয়েছেন। তবে তেল রিচার্জ এর ক্ষেত্রে আমার যা মনে হলো। এই তেল একবার মাথায় দিলে, দ্বিতীয় বার দেয়া লাগবে না। মাথা থেকে মনে হয় তেল বের হবে।
    ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইলো। ঈদ মুবারক।

  • বোরহানুল ইসলাম লিটন

    আমার দৃষ্টিতে অতি মূল্যবান সামগ্রী উপহার দিয়েছেন।
    পরিপূর্ণ ঈদের পোষাক, ও
    চিন্তা মুক্ত ঘুম,
    এই তো ঈদের ধুম!
    আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানবেন সতত।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ