দু’আ করার উপযুক্ত সময়ক্ষণ :

দু’য়া করার জন্য সম্মানিত সময় বেছে নিতে হবে। কেননা বুদ্ধিমান মানুষ তার প্রয়োজন উপযুক্ত সময়ে সেরে নেয়ার অপেক্ষায় থাকে। সমযদার ব্যাক্তি সুযোগের সুবর্ণ মুহুর্তটুকু সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগায়। তাই দু’আর জন্যও সম্মানিত সময় বেছে নেয়া বুদ্ধিমান ঈমানদারের কাজ। সর্বোত্তম সময় হলো বছরের ভিতরে আরাফাতের দিন, মাসের ভিতরে রমযান মাস, সাপ্তাহের ভিতরে জুমায়ার দিন আর রাতের ভিতরে শেষ রাত। রাসুল স. বলেন, “ আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক রাত্রে দুনীয়ার আসমানে রাতের এক-তৃতীয়াংশ থাকতে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে এবং আমি তার প্রার্থনা কবুল করব। কে আমার নিকট কিছু চাইবে এবং আমি তা তাকে দেব। কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করব।

আল্লাহ পথের যাত্রীদের উচিত উপযুক্ত সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। আল্লাহর পথে জিহাদের কাতারে দাঁড়াবার ভীড়ের কালে, বৃষ্টিপাত কালে, ফরজ নামাযের একামাত কালে আসমানের দরজা সমূহ খুলে যায় মর্মে এবং এই সময় দু’আ করার জন্য হযরত আবু হোরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণনা এসেছে। আযান একামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দু’য়া ব্যর্থ বিফল হয় না, রোযাদারের দু’আ বিফল হয় না মর্মে  রাসুল স. ইরশাদ করেছেন।

কিবলামুখী হয়ে দু’আ চাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব এসেছে। রাসুল স. বলেন, তোমাদের প্রভু লজ্জাশীল এবং সম্মানিত কেউ হাতউঠালে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জানুভব করেন হযরত আনাস রা. বলেন যে, “ হুযুর স. দু’আর সময় দুহাত এতদূর উঠাতেন যে, তার হস্তদ্বয়ের শুভ্রাংশ দৃষ্টিগোচর হত। ” হযরত ওমর রা. বলেন- “হুযুর স. তার হস্তদ্বয় দু’আর জন্য দুহাত বাড়িয়ে তদ্বারা মুখমন্ডল না মুছা পর্যন্ত নামিয়ে আনতেন না।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন- “ হুযুর স. দু’আ চাইবার কালে তার হস্তদ্বয়ের অগ্রভাগ একত্র করে তার অভ্যন্তরীণ অংশ দ্বারা নিজের মুখ মুছতেন। তিনি আকাশের দিকে তার দৃষ্টি তুলতেন না।” হুযুর স. বলেন- “মানুষ যেন দু’আর সময় তাদের দৃষ্টি আসমানের দিকে না ‍উঠায় বা চক্ষু মুদে না থাকে।”

দু’আর সময় কণ্ঠস্বর স্পষ্ট আওয়াজ এবং নিস্তব্ধতার মাঝামাঝি রাখতে হবে। দু’আর মধ্যে বাক্যালঙ্কার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রার্থনাকারীর জন্য যা উত্তম তিনি তাই প্রার্থনা করবেন। হুযুর স. বলেন, তোমরা দু’আর মধ্যে অংলকৃত বাক্য পরিত্যাগ করবে

দীনতা, হীনতা এবং আশা ভয়ের সাথে দু’আ করার শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। সত্যিই তো, আমরা মানুষ কতো ছোট, কত হীন, কত দুর্বল! এই মনোভাব সামনে রেখে দু’আ করতে হয়। হযরত রাসূল স. বলেন-“ আল্লাহ যে বান্দাকে ভালবাসেন তার কাছ থেকে দীনতা না দেখা পর্যন্ত তাকে পরীক্ষা করেন

দু’আ কবুল হওয়ার ব্যাপারে মনে দৃঢ় আশা পোষণ করা দু’য়াকারীর জন্য কর্তব্য। আমরা এমন সত্বার কাছে চাই যার কাছে বস্তুগত এবং অবস্তুগত কোন সম্পদের অভাব নাই। আমাদের প্রয়োজন মিটাতে তাকে কারো দ্বারস্থ হতে হয়না। সুতরাং  দু’আ কবুল হওয়ার বিষয়ে মনে দৃঢ় মনোভাব ও আশা পোষণ করতে হবে। মহান আল্লাহ একই সময় দুনীয়া ও তদস্থিত এবং এর বহিস্থ সকল মাখলুকের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। দু’য়ায় দৃঢ়তা প্রকাশ করার ব্যাপারে মুসলিম শরিফের দুয়া, তওবা ও যিকির অধ্যায়ে হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, “ আনাস রা. হতে বর্ণিত- তিনি বলেন- রাসুল স. বলেন- যখন তোমাদের কেউ আল্লাহর কাছে দু’আ করে তখন দৃঢ়তা সহকারে দু’আ করা উচিত এবং একথা বলা উচিত নয় যে, “ হে আল্লাহ তুমি যদি ইচ্ছা কর তবে আমাকে দান কর” কেননা, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য কোন বাধ্যবাধকতা নেই। ” এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। বান্দা পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে তাঁর মহান দরবারে কোন কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তা আবশ্যই মঞ্জুর করেন। এতে বান্দার মনে কোন প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দের অবকাশ থাকা উচিত নয়। কোন কিছুই আল্লাহর জন্য অসম্ভব নয়।

দৃঢ়ভাবে তিন বার প্রার্থনা করা দু’য়াকারীর আকুতির গভীরতা প্রকাশ করে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, “ হুযুর স. যখন আল্লাহর দরবারে কোন দু’আ চাইতেন তা তিনি তিনবার চাইতেন। দু’আ কবুল হওয়ার জন্য কোন তাড়াহুড়া করার প্রয়োজন নাই।” হুযুর স. বলেন- “কোন দু’আর ফল তাড়াতাড়ি দেখতে না পেলেও ব্যস্ত হয়ো না। কেননা প্রার্থনা অনেক পরেও কবুল হতে পারে। কেউ কখনো এরূপ বলো না যে, দু’আ চেয়েছি কিন্তু তা এখনো কবুল হলো না। যখন তোমরা আল্লাহর নিকট কোন কিছু চাও ‍তখন ধৈর্যের সাথে প্রার্থনা কর। ”

আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে দু’আ শুরু করা উত্তম পদ্ধতি। হযরত আবু সোলায়মান দারয়ানী রা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কোন প্রয়োজনে প্রার্থনা করতে ইচ্ছা করে, সে যেন হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ পাঠ করে তা শুরু করে। আবার দরূদ পাঠের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করে। কেননা, আল্লাহ দরূদ পাঠকারীদের দু’আ কবুল করেন।”  অপরদিকে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন আল্লাহর নিকট কোন হাজতের উদ্দেশ্যে দু’আ চাও তা আমার উপর দরূদের মাধ্যমে আরম্ভ কর। কেননা মহান আল্লাহ দুটি হাজতের মধ্যে সম্মানিত একটি হাজত পূর্ণ করেন আর একটি অগ্রাহ্য করেন।” (চলবে)

১২৪জন ৩৩জন
0 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য