সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

ইদানিং বাবা দিবস

রিমি রুম্মান ১৮ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১১:৪১:২১পূর্বাহ্ন কবিতা ১২ মন্তব্য
কন্যাবিদায়ের সময়ে আমায় জড়িয়ে ধরে একদমই কাঁদেননি বাবা
ভাবলাম, বাবা বোধহয় বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছেন
পরে জেনেছি, আমার বিদায়ের পর খালি ঘরে হাউমাউ করে কেঁদেছেন তিনি।
হেলুর মা বলেছেন,
‘ আফা, আফনজন মইরা গ্যালে মাইনসে যেরুম বুকভাঙ্গা কাঁন্দন কাঁন্দে, আফনে যাওনের ফর খালুজি হেমনে কানসে।’
অথচ তার আগ অব্দি ধারণা ছিল আমার কপট রাগী প্রকৃতির বাবা
অনেক কঠোর-কঠিন
মায়াদয়াহীন দূরের মানুষ।
আসলে সব ক্ষরণ তো আর বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়!
বাবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে অধিকাংশ কন্যারই মৃত্যু ঘটে।
জীবনমৃত।
জগতে স্বাধীনতা শব্দটি আর তাদের থাকে না
দু’চোখ ভরা স্বপ্নেরা মুখ থুবড়ে পড়ে গহীন বালুচরে
যেদিন বাবা মারা গেলেন, সেদিন কর্পূরের মতো উবে গেলো সকল শখ
তুমুল এক স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেলো অচিন ঘাটে
সেদিন থেকেই চারিদিকে কথা শোনানোর মানুষের আনাগোনা।
বলুন, সকলের মন যুগিয়ে চলা কি চাট্টিখানি কথা ?
অথচ তার আগেও মাথার উপরে ছিল বিশাল ছায়া
সেই থেকে নিজস্ব জগতে আমার একান্তবাস
সেখানে থাকে ঘন নীলের একান্ত আকাশ
থাকে ইচ্ছেমতো ডানা ঝাপটে ওড়াওড়ি করার প্রয়াস
থাকে ইচ্ছে, সাধ
ইদানিং বাবা দিবস মানে অসীম এক নস্টালজিয়ায় ডুবে থাকা দিন।
রিমি রুম্মান
১৮ই জুন, ২০২০
কুইন্স, নিউইয়র্ক
৩৪৪জন ২৪৩জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য