কিছু অ-কথাঃ কথা যখন দিয়েছি কথাতো রাখতেই হবে। তাই আগের পোষ্টের রম্য দরখাস্তে দেওয়া কথা রাখলাম শুধু মাত্র আপনাদের জন্য। সীমান্ত উন্মাদের তেল পর্বের শেষ লিখা আপনাদের সমীপে পেশ করলাম।। আর মডারেটর সমিপে বলতে চাই যে আমি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মোবাইলে সোনেলায় লগিন করি কিন্তু সেখানে একটাই সমস্যা কেউ যদি আমার পোষ্টে মন্তব্য করেন তবে আমি সাথে সাথে তার উত্তর দিতে পারিনা কারন মোবাইলে মন্তব্যের জবাব দিতে গেলো মূল মন্তব্যের বক্স চলে আসে। যা একটি বিড়ম্বনার বিষয়ও। কারন কেউ কষ্ট করে মন্তব্য করলে আমি সাথে সাথে উত্তর দিতে পারিনা। তাই দয়া করে এই সমস্যাটুকু দূর করিলে আমি বাধিত হইব। আর এ অখাদ্য পোষ্টখানা যদি কারো বিরক্তির উদ্যেগ ঘটায় তবে তা নিজ দায়ত্বে বিরক্ত হইবেন। এখানে সীমান্ত উন্মাদ কোন দায়ভার নিবে না।

গোপাল ভাঁড়ের তেল তত্বঃ যখন তিনি শিক্ষক!!

 

একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে ইতেমধ্যে ভালো সুনাম অর্জন করে ফেলেছেন আমাদের গল্পের নায়ক গোপাল ভাঁড়। এর একমাত্র কারন তিনি তার ছাত্রদের বাস্তমুখি শিক্ষা দেন এবং সমাজের নানা বিষয়ে তিনি তাদের জ্ঞানদান করে থাকেন।  তিনি বেশ মজা করেই এই সব শিক্ষা দিয়ে থাকেন আর এ কারনেই ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ইতিমধ্যে। তিনি প্রতি সপ্তাহে একটি বিশেষ বিষয়ের উপর বিশেষ ক্লাস নেন, সেই সব ক্লাসের বিষয় বস্তু সম্পূর্ণ পাঠ্য বইয়ের বাইরে, এর একটা অন্য কারনও আছে আর তা হল তিনি ছোট বেলায় পড়া প্রমথ চৌধুরির বই পড়া গল্পে পড়েছিলেন “পুথিগত বিদ্যাই প্রকৃত বিদ্যা নয়” তখন থেকেই এই লাইনটা তার মাথায় ঘুরপাক খায় এবং তিনি তার ছাত্র ছাত্রীদের পাঠ্য বইয়ের বাইরের বাস্তববাদী শিক্ষা দিতে ভালবাসেন। বিশেষ করে আমাদের এই বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক বেধীগুলোর বিষয় যেমন আছে তেমনি এই দেশে পড়ালেখা শেষ করার পর বিভিন্ন সময়ে কি কি ঝামেলা পোহাতে হবে ছাত্রছাত্রীদের সে বিষয়ে তিনি তাদের শিখান এবং তা ব্যাখ্যা করেই শিক্ষাদেন যাতে করে তারা তা তাদের মাথায় ধারন করতে পারে খুব সহজে। যেমন তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহে কি বিষয় নিয়ে কথা বলবেন তা ঠিক করলেনঃ তিনি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাবহৃত তেল-তেল তেল কাহিনী নিয়ে কথা বলবেন আগামী কয়েক সপ্তাহে তার বিশেষ ক্লাসে।

তো এই সপ্তাহের বিশেষ ক্লাসে তিনি রাখলেন এই নির্বাচিত বিষয়ের উপর।

পর্ব একঃ তেল সমস্যা কেন?

গোপাল ভাঁড় তার ছাত্রদের বললেন আমি আগের ক্লাসেই তোমাদের আজকের নির্বাচিত বিষয়ের কথা বলেছিঃ তো আজকের ক্লাসে আমি তোমাদের ব্যখ্যা করবোঃ তেল নিয়ে এতো সমস্যা কেন? এই সাব টপিকের। তোমরা কি জান পৃথিবীতে এতো তেল সমস্যা কেন? ছাত্ররা বলল না স্যার। জানোনা তা হলে শুন, আমি গত কয়েকদিন থেকে এই কেন এর উত্তর খুঁজে ফিরেছি এবং অনেক খুঁজাখুঁজির পর একটা জরিপে প্রকাশিত ফলাফল পেলাম এবং জানতে পারলাম যে পৃথিবীতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পিছেনে নাকি মূলত তেলাপোকারাই দায়ী। তেলাপোকারাই পৃথিবীর তেল ভান্ডারের এক তৃতীয়াংশ তেল পান করে, সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ অবধি টিকে আছে। অবশ্য তেলাপোকাদের পক্ষ থেকে তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণ মিডিয়ার সৃষ্টি। পৃথিবীর তেলের ব্যাপারে তেলাপোকাদের কোন আগ্রহ নেই। তেলাপোকারা আরো জানিয়েছে, পৃথিবীতে বহু রকমের এড্যিক্টেড লোকজন রয়েছে। যেমন- হেরোইন আয় এডিক্টেড, ইয়াবা এড্যিক্টেড! কিন্তু তেল এড্যিক্টেড  মাত্র দু’একজনি আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেনঃ থাক নামটা না হয় নাই বললাম তবে তার কান্ড বললে বুঝতে সকলেরই সুবিধা হবে। আজ থেকে ২০ বছর আগেও তেল সমস্যার কারনে পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধ বিগ্রহ ছিলোনা আর থাকলেও সেটা নামমাত্র উগ্র কয়েকটা দেশে, কিন্তু তিনি এসেই তার চাল চাললেন,এক বিশেষ কায়দায়। আসলে তার বুশ বুশ হুস-জ্ঞানহীনতার কারনেই পৃথিবীতে এতো তেল সঙ্কট। এঘটনা কতটুকু সত্য এটা কেবল তেলাপোকারাই বলেতে পারবে। কারন তাদের এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই জরিপের কথা বলা শেষ করেই গোপাল ভাঁড় তার ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি বুঝতে পেরেছো আমার বলা জরিপের বিষয় বস্তু, আশা করি বুঝতে পেরেছো। আগামী ক্লাসে আমি তোমাদের এই তেল কাহিনীর আরো দুইটা বিষয়ের উপর কথা বলবো, সবাই ভালো থেকো।

প্রথম ক্লাসের সমাপ্তি।

ক্লাস নং দুইঃ তেলের রকমফের এবং তেল না থাকিলে খেল কি হতো জীবনে।

স্টুডেন্টস, গত ক্লাসে আমি তোমাদের “তেল নিয়ে এতো সমস্যা কেন”, এই বিষের উপর লেকচার দিয়েছিলাম আজ আমি তোমাদের তেলের রকমফের এবং তেল না থাকিলে খেল কি হতো জীবনে এই বিষয়ের উপর জ্ঞানদান করবার চেষ্টা  করবো, কারন তোমাদের অদুর ভবিষ্যত জীবনের জন্য, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তেল বিষয়ক ধারনা থাকাটা নেহায়েত একটি জরুরী বিষয়ে প্রিনত হয়েছে আজ। তো শুরুতেই চল আমরা জেনে নেই তেলের রকমফের সম্পর্কে। আসলে তেল ছাড়া যেখানে ট্রাকের টায়ারও ঘুরে না, এমনকি চুলায় হাড়ি পর্যন্ত জ্বলে না সেখানে অন্যকিছু তেল ছাড়া ঘুরবে এটা ভাবাই যায় না। তেল দিলে দুনিয়ার সবই ঘুরে। শুধু তেল নিয়ে ভাবতে গিয়েই কয়েকজন আঁতেল সম্প্রদায় বলে গেছেন, তেল মূলত দুই প্রকারঃ- তরল ও বায়বীয়। তরল তেল হলো দৃশ্যমান। এই জ্বালানির জন্যই দুনিয়াতে এতো জ্বালা। আরেক প্রকার তেল হলো বায়বীয়, এ তেল জ্বলেও না, পোড়েও না, কিন্তু জ্বালায় ও টলায় এবং এ তেল ছাড়া আমাদের এই বাংলাদেশে একজন মানুষ এক্কেবারে অচল, ঠিক যেন একটাকার কয়েন এর মত আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এ তেলের জন্য বুকে প্রেমের আগুন আবার অফিসের টেন্ডার এবং ফাইলে আনে ফাগুন, আর চাকরির বাজারে ফাল্গুনী হাওয়া বয় মৃদু তালে তালে এমনকি এই ভরা শীত কালেও, অর্থাৎ যত তেল তত ফাগুনি হাওয়া বইবে তোমাদের জীবনে। শিক্ষার্থী বৃন্দু এই তো গেল তেলের রকমফের। এই বার আমি আলুচনা করবোঃ “তেল না থাকিলে কি খেল হতো এই জীবনে” বিষয়টি নিয়ে”। যেমন ধরো, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, আঁতেল, বাতেল-তেলের কোন শেষ নেই। কিন্তু যে তেল নিয়ে এতো মারামারি, কাটাকাটি, নাড়ানাড়ী সেই তেল না থাকিলে কী হতো? যদিও দেশ এখন তীব্র তেল সঙ্কটে ভুগছে তবুও অনেক আদমেরই অধমের মতো বিশ্বাস যে, তেল না থাকিলে ভিতিবি বলে কোন চ্যানেল থাকতো না। দেশে চ্যানেলের ক্যানেল বয়ে গেলেও সেগুলোতে তেলের প্রবাহ কমই। অন্য দিকে ভিতিবিতে তেলই মূল চালিকা শক্তি। তেল ছাড়া ভিতিবি তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। অন্যদিকে তেল না থাকিলে বুশরা ঠুস করে বিখ্যাত হতে পারত না। তখন বিখ্যাত হতে চাইলে বুশ আঙ্কেলদের ব্যাপক খড়কাঠ, লহা-লক্কর, ময়লা আবর্জনা পোহাতে হত। অতএব তেল আছে বলেই তোমাদের বুশ আঙ্কেলরা এতো তাড়াতাড়ি বিখ্যাত হতে পেছেন, তাই তোমরাও বড় হতে চাইলে বুশ আঙ্কেল কিংবা ভিতিবির মত তেলাবাজ হবে। এবং তেলা মাথায় তেল দিয়ে জানতে হবে, একটা কথা জেনে রাখবেঃ তেলা মাথায় তেল দিতে কেউ কখনো ক্লান্ত হয় না তাই তোমাদেরও ক্লান্ত হলে চলবেনা। চিন্তা করোতো আজ যদি তেল না থাকতো তবে তেলা মাথা অথবা আতেলা মাথা বলে কিছু থাকতো না, আর কেউই তেলা মাথায় তেল দেয়া টাইপের কথা বলতো না, দেখেছো আমরা কত ভাগ্যবান যে বায়বীয় তেল আছে আমাদের কাছে (খাইছে এই কথা শুইন্না আবার কেউ হামলা করে বসে নাকি)। তবে আমার মনে হয় তেল না থাকলে মেল বা ভেল জাতীয় একটা কিছু নিশ্চই থাকতো। তখন দেশের রাজনৈতিক প্রশাসনিক সব কাজেই তেলের মতো মেল বা ভেলের কিঞ্চিৎ কিংবা সুবিশাল টাইপের একটা প্রভাব থাকত। অনেকের মতেই এখন নাকি দেশের নেতারা বায়বীয় খাদ্য সঙ্কটে ভুগছেন। তারা মানে তারা তেল খেতে পারছেন না। তেল না থাকলে এ রকম কিছু একটা মালে নেতাদের বদহজম হতো এবং দেশের কল্যান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। তেল না থাকলে গাড়ী চলে না মার্কা গানের জন্ম হতো না, আর লোকজনও কাউয়া পাখি থুক্কু কোকিল পাখির মতো এসব গান আওড়াতে পারত না। এ থেকে তোমারা কি শিক্ষা পেলে বলতো? ছাত্ররা বলে উঠলো স্যার তেলের ব্যাবহার ভালো মত জানতে হবে বিশেষ করে বায়বীয় তেলের ব্যাবহার এবং তেলতেলা কথা বলা জানতে হবে এর ব্যাবহারও করতে জানতে হবেই। তখন গোপাল ভাঁড় বলল একজন উঠে তেলতেল কথা কি একটু ব্যাখ্যা করে বলতো শুনি? তখন হাবলু উঠে বলল এই যেমন স্যারঃ ভোজ্যতেল আর জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়লেও, স্যার বায়বিয় তেল কিংবা তোষামুদে তেলের দাম কখনো কমেছে এ কথা কেউ নিজের কানেতো দুরের কথা পরের কানেও শোনেনি। তাই তেল নিয়ে তেলতেলা কথার কোন শেষ নেই। গোপাল ভাঁড় বললো যেমনঃ

তখন হাবলু বললঃ যেমন স্যারঃ “পড়ে না চোখের পলকঃ” ট্যারা চোখ-বন্ধ চোখে যা ই হোক না কেন কেউ কারো প্রেমিকাকে নিশ্চই তোমাকে বাদরানীর মত লাগছে বলবেনা, এমনকি তাকে পেত্নির মত লাগলেও বলবেঃ তোমাকে দেখলেনা জানু বেব্বি আমি চোখের পলকও ফেলতে পারিনা কিংবা,

তুমি ছাড়া আমি নাই

ডুবে ডুবে জল খাই!!

এই জাতীয় কবিতা শুনাবে। ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন গোপাল ভাঁড় বললোঃ হুম বুঝলাম, বেশ ভালো বলেছোত,(ঢং ঢং এই সময় ক্লাস শেষের ঘন্টা বাজলো) আর গোপাল ভাঁড় বলল ওকে স্টুডেন্টস, আজকের মত এই বিষয় এখানেই শেষ, আগামী ক্লাসে তোমরা তেলতেলা কথা নিয়ে আরো কিছু উদাহরন তৈরি করে নিয়ে আসবে তারপর ক্লাসে পড়ে শুনাবে। এটাই তোমাদের আগামী সপ্তাহের স্পেশাল ক্লাসের হোম ওয়ার্ক। আজকের মত ক্লাস এখানেই শেষ। সবাই ভালো থেকো।

দ্বিতীয় পর্বের সমাপ্তি।

তেলতেলা ক্লাস নং তিনঃ উদাহরন সমেতঃ

তো গোপাল ভাঁড় স্যার ক্লাসে ঢুকেই সবাইকে বললেন কি গত ক্লাসে তেলতেলা কথার উদাহরন সহ তৈরি করে নিয়ে আসতে বলেছিলাম, এনেছো, তখন সবাই একযোগে বলে উঠলো জি স্যার এনেছি তাহলে আমি একজন একজন করে ডাকবো এবং তোমরা ডায়াসে এসে যা তৈরি করে এনেছো তা বলবে গল্পের মত করে।

প্রথমে যে আসবে, সে হলঃ “হাবা হাসমত” হাসমত বলে ডাক দিলো গোপাল ভাঁড় সাথে সাথে হাসমত হাজির হল ডায়াসেঃ এসে বলল স্যার আমার বাবা একজন সরকারী কর্মচারী, তিনি সেদিন বাসায় এসে আমাকে বলছিলেন কয়দিন পর তোমার পড়াশুনা শেষ হবে, চাকরীতে ঢুকবে, তোমার যে চটাং চটাং কথা বলার স্বভাব তুমিতো চাকরীতে বেশিদিন টিকতে পারবে না, তখন আমি বাবাকে প্রশ্ন করলাম কেন বাবা? বাবা বললেন চাকরীতে টিকে থাকার মূল টেকনিক হল বসদের তোষামুদি করে চলা! তুমিতো তা পারবে না, এই কথা শুনার পর স্যার আমি একটা তেলতেলে কথার প্যারাগ্রাফ লিখেছি যার শিরোনাম হলঃ “আপনিই ওয়ার্ল্ডের সেরা বস”!! তখন গোপাল ভাঁড় বলল বাহ বাহ বেশ বেশ!! তা কোন যুক্তিতে তুমি, তুমি তোমার ভবিষ্যত বসকে তেলানুর জন্য তোমার এই শিরোনামে প্যারাগ্রাফ লিখলে, তখন হাবা হাসমত বলতে শুরু করল তার যুক্তিঃ বলল স্যার সত্যিকার অর্থে বস হিসেবে আমার বসের যদি যৎকিঞ্চিত রস কষ নাও থাকে আমি আমার এই কয়দিনের গবেষনায় ইনক্লুডিং আমার বাবার কথায় পেয়েছি যে বসকে তস না দিলে টিকে থাকা কঠিন। এমনকি অফিসে ইমেজ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মেজাজের মোজেজা বুঝে বসকে তেল মারতে হবে। মনে মনে তাকে গরু ভাবলেও মুখে মুখে গুরু বলে ফেনা তুলে না ফেললে বেল পাওয়া যাবে না। এই কথা শুনে গোপাল ভাঁড় বললেন বাহ বাহ বেশ ভালো যুক্তি দাঁড় করিয়েছো, ভেরি গুড ভেরি গুড। ঠিক আছে তোকে আর জিজ্ঞেস করলাম না তুই কিভাবে তেল মারবি তোর বসকে, কারন আমি তোর যুক্তিগুলো থেকেই বুঝতে পারছি তুই বেশ ভালোই তেল মারতে পারবি তোর বসকে। যাইহোক এইবার তুই যা, এই বার কে আসবে? মেয়েদের মধ্যে থেকে একজন আয়, কইতরি তুই আয় দেখি!

সাথে সাথে কইতরি বানু উঠে আসলো এবং ডায়াসে এসে বললো স্যার আমিও একটা তেলতেলে কথার প্যারাগ্রাফ বানাইছি আর সেটা আমার বাস্তব জীবন থেকে নেয়া, তখনি গোপাল ভাঁড় বলল বলতো শুনিঃ এইবার কইতরী শুরু করলঃ স্যার আমি প্রতিদিন বিকেলে আমার পাশের বাসার বান্ধুবীর বাসায় যাই আড্ডা মারতে তো আমার বান্ধুবীর বড় ভাইয়ের বউ একটু খুট খুটে স্বভাবের, গেলেই খালি খিচমিচ করে। এখানে বলে রাখা ভালো তার বেসুরে গানের গলার আওয়াজে আমাদের পুরা এপাটমেন্টের লোকজন মহা বিরক্তঃ তাই আমি ভাবলাম আমি তার এই বেসুরে গানের প্রশংসা করে তেলবাজী করি,দেখি উনি পটে কিনা এবং আমারা তার বাসায় আড্ডা মারতে গেলে আগের মত বিরক্ত হয় কিনা? স্যার যেই ভাবা সেই কাজ করলাম আমি বান্ধুবীর বাসায় গেলাম গিয়েই ভাবির সার্চ দা খোঁজ করলাম, ভাবি আমাকে দেখেই বলল কি ব্যাপার, আমি বললাম ভাবি অনেকদিন ধরেই একটা কথা আমি আপনাকে বলবো বলবো বলে ভাবছিলাম কিন্তু বলা হচ্ছে না, ভাবি জানেন আপনার গানের গলাটা অনেক সুন্দর এক্কেবারে মমতাজুর মত।(আমার বান্ধুবিতো অবাক আমার কথা শুনে) তো ভাবি এই কথার শুনার পর গদ গদ হয়ে ন্যাকামির সাথে বলল আমার সাথে ফাইজলামি কর। আমি বললাম না ভাবি কি যে বলেন ফাইজলামি করব কেন, আমি সত্যি বলছি। তখন ভাবি বলল দেখো তুমি কিন্তু বুঝতে পারছো আমার প্রতিভা অথচ আমার আপন মানুষজন আমাকে বলে আমি নাকি জন্ম বেসুরা, অথচ তোমার ভাইয়া আমাকে বলেছে বিদেশে গিয়ে গান শিখার ব্যাবস্থা করে দিবে। শুধু তাই না আমি আসলেই আগামী মাসেই বিদেশ যাচ্ছি গান শিখতে, এইবার আমার তো চক্ষু চানাবড়া কানাবড়া সব একসাথে হয়ে গেলো। ভাবি আমাকে বলল তুমি বস আমি চা করে নিয়ে আসি একসাথে ছাদে বসে আমরা আজকে আড্ডা দিব, অনেক দিন আড্ডা দেই না। ভাবি চলা যাওয়ার পর আমি আমার বান্ধুবীর দিকে তাকিয়ে বললাম ভাইয়া কি পাগল হয়ে গেছে নাকি। তখন আমার বান্ধুবী বলল আরে নাহ ভাই এই যন্ত্রনা থেকে কয়দিন বাঁচার জন্য এই সিন্ধান্ত নিয়েছে তাও আবার টাকা পয়সা ধার করে।!! একটু পর ভাবি চা এবং বিস্কুট নিয়ে আমাদের ডাকাডাকি শুরু করলেন ছাদে আড্ডা মারার জন্য। তখন গোপাল ভাঁড় বললেন এই চমৎকার চমৎকার।

এইবার গোপাল ভাঁড় বললেন আর কেউ কিছু বলবেঃ

তখন ঠোঁট কাটা মিন্টু দাঁড়লে গোপাল ভাঁড় বলল কিরে মিন্টু কিছু বলবি, সাথে সাথে মিন্টু বলে উঠল স্যার আমার একটা কথা আছে, গোপাল ভাঁড় বলল বল শুনিঃ তখন মিন্টু বলল স্যার আপনিতো জানেন আমি আমার জীবনেও কোন হোম ওয়ার্ক ঠিক মত করি নাই, আজকের বিষয়ের হোম ওয়ার্ক স্যার আমি করতে গিয়ে চিন্তা করে দেখলাম যে আমরা যে যাই তেলতেলা কথার প্যারাগ্রাফ আর রচনা লিখে কিংবা কথায় বলিনা কেন? তা কোন দিনও, আপনি যে ভাবে ভিসি স্যারকে তেল মারেন তার মত হবে না। অতএব আজো আমি কোন হোম ওয়ার্ক করি না। এই কথা শুনার পর ক্লাসের সবাই হেঁসে উঠল হো হো করে আর গোপাল ভাঁড় প্রচন্ড লজ্জা পেল এবং ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে গেল। অতঃপর তিনি তার শিক্ষকতা জীবন থেকেও অবসর নিলেন চিরতরে।

সমস্ত তেল পর্বের সমাপ্তি।

বিঃদ্রঃ ইহা একটি রম্য রচনা তাই কারো জীবনের সাথে ডাইনে বায়ে, চামে চিকনে মিল খাইলে আমি উন্মাদ দায়ী নই। সীমান্ত উন্মাদ একজন রেজিস্টাড পাগল। তাই তার কোন কথা সিরিয়াসলি নিলে বা নিজের জীবনের সাথে মিলাতে চাইলে নিজ দায়ীত্বে মিলাবেন। কারন  জানেত পাগলে কিনা বলে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। প্রতিউত্তরে দেখা হবে।

 

 

৫২৯জন ৫২৯জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ