আয়শার সংসার – ৩

মুক্তা মৃণালিনী ৩ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, ০৩:৩৯:৪৭অপরাহ্ন গল্প ১০ মন্তব্য

ঘড়ির কাটা রাত ১ টার ঘরে । নওশাদ সাহেবের মোবাইল ফোনে ক্রমাগত কল বেজেই যাচ্ছে । নওশাদ সাহেব তখন বিভোর ঘুমে । অনেক্ষণ পর কল রিসিভ করলেন নওশাদ সাহেব । ওপাশ থেকে একটি মেয়ে কন্ঠ বলে উঠল , হ্যালো! স্যার আমি আয়শা । আয়শা ইসলাম । চিনতে পেরেছেন আমাকে । নওশাদ সাহেব বললেন , হ্যা চিনতে পেরেছি । তুমি? এত রাতে? আয়শাঃ- স্যার আপনার নাকি জ্বর? এখন আপনি কেমন আছেন? নওশাদ সাহেবঃ- ভাল আছি । বাট তুমি এত রাতে কল দিয়েছো আমার খোঁজ নিতে? আয়শাঃ- জ্বি স্যার । স্যার আপনার সাথে আমার একটা কথা ছিল । নওশাদ সাহেবঃ- কি কথা বলো । আয়শাঃ- আজ সকালে যখন শুনলাম আপনার খুব জ্বর । আপনি খুব অসুস্থ । ঠিক তখন থেকেই আমার মন খুব খারাপ । জানিনা কেন? আপনার জন্যে স্যার আমার খুব কষ্ট হচ্ছে । কেন স্যার আমার এমন হচ্ছে? আগে তো কখনো কারো জন্যে আমার এত কষ্ট হয়নি । আজ কেন আমার এমনটা হচ্ছে ৷ নওশাদ সাহেব হো হো করে হেসে উঠলেন । বললেন , তুৃমি একটা পাগলী মেয়ে! ভালবেসে ফেলেছো আমায় , তাই তোমার এমনটা হচ্ছে । এমনি করে দুজন কথা বলতে বলতে রাত ৩ টা বাজিয়ে ফেললেন । নওশাদ সাহেব বললেন , আয়শা বহুদিন চেষ্টা করেও আমার যে রাজ্যে কেউ কোনদিন প্রবেশ করতে পারে নি , মনে হচ্ছে সে রাজ্য আজ তুমি একদিনেই দখলে নিয়ে নিয়েছো । সেই থেকে আজ তেঁইশ বছর যাবৎ আয়শা নওশাদ দুজন একই সাথে । বেলি ফুলের শুভ্র মালা আর বাসন্তীর উপর লাল রঙের পাড়ের সাথে সোনালী জড়ির কাজের সামান্য টাকার তাঁতের শাড়ি পরে বধূ বেশে এক সন্ধ্যায় সোজা কাজি অফিস থেকে আয়শা উঠেছিলেন নওশাদ সাহেবের তিন কামড়া বিশিষ্ট সাদা মাটা এক ভাড়া বাসাতে । দীর্ঘ আঠারো বছরের সংসার জীবন তাদের । নিঃসন্তান এই দম্পতি কেউ কোনদিন কারো উপর অভিযোগের তীরটি ছুরবার সাহসটুকু পর্যন্ত পান নি । তবে তার অর্থ এই না যে তাদের মধ্যে কখনো ভুল বোঝাবোঝি হতো না । ভুল বোঝাবোঝি অবশ্যই হতো এবং তারা তা খুব সহজে মেনে নিয়ে খুব দ্রুত তার সমাধান করতেন । আয়শার ফোনে কখনো অপরিচিত কল আসলেও আয়শা তা সাথে সাথেই নওশাদ সাহেবের সাথে শেয়ার করতেন ৷ নওশাদ সাহেবও সেইম একইভাবে তার সকল কথা , সকল কাজ আয়শার সাথে পরামর্শ করেই করতেন । তার যেকোন ব্যাপার হাসতে হাসতে আয়শার সাথে শেয়ার করতেন ৷ এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কখনো সন্দেহের উদ্রেক হতো না । না কোন মনোমালিন্য হতো । আয়শা সবসময় নওশাদ সাহেবকে বলেন , আমরা যা করব তা দুজন একসাথে আলোচনা করেই করব যা উভয়ের জন্যই ভাল হয় । কেউ কাউকে কখনো অসম্মান করব না । কেউ কাউকে কখনো কষ্ট দিব না । কেউ কারো আগেও হাঁটব না , কেউ কারো পিছনেও হাঁটব না । দুজনে সমান সমান হাঁটব । দুজন দুজনের হয়ে থাকব ৷ কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে যাব না । নওশাদ সাহেব আয়শার এতো সব কথার প্রতুত্তরে শুধু এক গাল হাসি দিয়ে একটা কথাই বলতেন , আমার পাগলীটা!

১০৬জন ৩৫জন
34 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য