আয়শার সংসার- ১

মুক্তা মৃণালিনী ২৭ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার, ০৪:০৭:২৭অপরাহ্ন গল্প ২১ মন্তব্য

আয়শার সংসার (১ম পর্ব) ————————        গত এক সপ্তাহ ধরে মিসেস আয়শা ইসলাম তার দু’চোখের পাতা এক মুহুর্তের জন্যেও এক করতে পারেন নি । বাজার -হাট করা , ঘর গুছানো , গহনার দোকানে কিছু গহনা বানাতে দেয়া , অন্তরার জন্য তার গায়ের মাপ নিয়ে টেইলার্সে ব্লাউজ বানাতে দেয়া এসবই একলা নিজের হাতে সামাল দিতে হচ্ছে তাকে । আয়শার স্বামী নওশাদ ইসলাম তার চাকুরী জীবন থেকে ইস্তফা নেয়ার আরো বহু আগে থেকেই তিনি তার সংসার জীবন থেকে ইস্তফা নিয়ে কবিতার বইয়ে মুখ গুজেছিলেন । আয়শা যেদিন থেকে নওশাদ সাহেবের জীবনে এলেন সেদিন থেকেই একরকম নিশ্চিন্তে নওশাদ সাহেব তার এবং তার পরিবারের এবং সেই সাথে তার- আয়শার নতুন সংসারের সমস্ত দায়- দায়ীত্ব একা আয়শার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে বেছে নিয়েছিলেন তার কর্ম-জীবন আর তার সাহিত্যের স্বপ্নীল জগৎকে । আয়শা শিক্ষিতা বুদ্ধিমতি মেয়ে । তাই তার স্বামীর দেয়া দায়ীত্ব মাথা পেতে বরণ করে নিয়েছিলেন বিয়ের রাতেই । তারপর থেকে অনেক কষ্টই করতে হয়েছে আয়শাকে তার সংসার জীবনে । আয়শার এখনো স্পষ্ট মনে আছে , তার আর নওশাদের বিয়ের কাহিনী । আয়শা- নওশাদ পরষ্পর পরষ্পরকে অসম্ভব ভালবাসতো । প্রেম- ভালবাসায় যেমন মধুরতা থাকে তেমনি মাঝে মাঝে সেই প্রেমে এক পেয়ালা বিষাদও আপনা আপনিই চলে আসে । তবে মজার ব্যাপার হলো আয়শা- নওশাদের প্রেমের সম্পর্কটা ছিল একেবারে ভিন্ন । নওশাদ ছিল শান্ত- শিষ্ট অমায়িক স্বভাবের আর সেই সাথে প্রচন্ড ধৈর্যশীল একটা ছেলে । এদিকে আয়শা ছিল প্রচন্ড আবেগী আর অস্থির স্বভাবের মেয়ে । তার চরিত্রে ধৈর্যের ‘ধ’ টুকু পর্যন্ত ছিল না । তবুও আয়শা-নওশাদের দীর্ঘ ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্কে কখনো তিলকের ফোটাটি পর্যন্ত পরতে দেন নি আয়শা- নওশাদ দুজনে । আয়শা সবসময় নওশাদকে একটা কথাই বলতো , ” নওশাদ! আমি যেমনই হইনা কেন? তুমি এ কথাটি জেনো , আমি শুধু তোমারই , শুধু তোমার ।” নওশাদ এক গাল হাসি দিয়ে আয়শাকে বলতো , ” আমি সব জানি আয়শা! আমার প্রতি তোমার ভালোবাসায় কোন খাদ নেই । নিখাদ ভালোবাসা আমার প্রতি তোমার । ”                                                  চলবে …..                                    ছবিঃ- ফটোগ্রাফার হাসান কামরুল চৌধুরী

৫১৫জন ৩৬২জন
66 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য