আড়ম্বরে বিরম্বনা//

বন্যা লিপি ২৯ মে ২০১৯, বুধবার, ১২:৩৭:২১পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

ফেসবুক সম্মন্ধে স্বরবর্ন ব্যঞ্জনবর্নের একটা অক্ষরের সাথেও নিদেন পক্ষে কোনোরকম জ্ঞান ছিলোনা। ছেলে মেয়ে অনেক আগে থেকেই যুক্ত আছে! মাঝে মাঝে এটা সেটা দেখাতো, পড়ে শোনাতো!
বাবা যেবার প্রথম মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছিলেন! দু’হাজার ৫’অথবা ৬’এর দিকে… কল রিসিভ এবং কল করা টুকুও শিখেছি আব্বার কাছ থেকেই। নাম সেভ্ করার জন্যও মেয়ের সাহায্য নিতে হয়েছে বেশ অনেকদিন ধরে। মেসেজ ওপেন করাও সহজ ছিলো। কঠিন লাগতো মেসেজ রিপ্লাই করা বা প্রয়োজনে কাউকে মেসেজ লেখা।
প্রায়ই মোবাইল সেট ভুলে বাসায় রেখেই বাইরে চলে যেতাম। ছেলে মেয়ে নিয়ে প্রচুর স্কুল কোচিংএ দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। হয়তো কোনো প্রয়োজনে কাছের মানুষ কল দিয়েছে। ফোন বেজে বেজে বন্ধ হয়ে গ্যাছে। অপর প্রান্তের মানুষটা দুঃশ্চিন্তায় পরে গেছেন। একবার ঈদুল আজহার আগের দিন এমন হলো…..! আব্বা ক্রমাগত কল করে যাচ্ছেন, কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। আব্বা হাই প্রেসারের মানুষ! নানা রকম দুশ্চিন্তায় প্রেসার বেড়ে গেছে। আম্মাও অস্থির আব্বা’র অবস্থা দেখে। আমি সাহেবের সাথে শপিংএ বের হয়েছি। মোবাইল ব্যাগের ভেতর। মার্কেটের অসহ্য রকম ভীড়ে রিংটোন কানে পৌঁছুয়নি। তোলপার করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। দেবরের বাসায় ফোন দিয়ে খবর নিয়ে জেনেছেন বাইরে আছি। বাসায় ফিরে কল ব্যাক করতেই একগাদা বকাঝকা শুনতে হয়েছে…. “ফোনটা রাখো কি জন্য সাথে? ”
আত্মীয় স্বজন ছাড়া আর কেউই ছিলোনা তেমন নাম্বারে। একটাই স্কুলের বান্ধবি ছিলো শুধু।
হঠাৎ একদিন এক মেসেজ এলো। লে ঠ্যালা!! চিনিনা, জানিনা নাম্বার থেকে। ভাবার্থ এমন ছিলো! তিনি আমায় লক্ষ্য করেন সবসময়! অবস্থা তো জ্ঞানের ডাব্বা!! কলও করলেন একদিন…. উল্টে ঝাড়ি খেলো! আবারো আরেকদিন মেসেজ…..পাশের ফ্লাটের ছেলেটাকে দিয়ে মেসেজ লিখালাম… “ফের যদি মেসেজ করার চেষ্টা করেন, তো নাম্বার ব্লক্ করে দেবার প্রসেসটা জানা আছে।”
পরে জানা গেলো তিনি আর কেউ নন, আমার অতি কাছের স্বজন!

আরেকটা মজার কাহিনী এখানে উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা।
মেয়ে তখন ক্লাশ এইটে পরে, বড় ছেলে ক্লাশ ফাইভে, ছোট ছেলে মাত্র কে,জি ওয়ানে। একরাত আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ একটা কল এলো অপরিচিত নম্বর থেকে। মেয়ের বান্ধবিদের নাম না দেখলে বা নানা,নানু,খালাদের নাম না দেখলে ধরেনা। আমাকে এনে দিলো…..যথারিতী হ্যালো বলেই জানতে চাওয়া, কে, কোত্থেকে, কাকে চাই?
–” আপনাকেই চাই!”
বুঝলাম, ইহাকে এইবার খাড়ই(মাছ রাখার এক ধরনের বিশেষ, বাঁশের তৈরী পাত্র)তে নিয়ে খাঁচতে হবে। ঠান্ডা মেজাজে কথোপকথন চালাচ্ছি।
—“তাই? আমাকে চাচ্ছেন? তো বলেন, আমি কে?” জবাব কি দেবে ভেবে না পেয়ে, তড়িঘড়ি করে বললো—“শোনো (অবাক হইয়াও, হইতে বিরত থাকলাম,আপনি থেকে এক ধাক্কায় “তুমি”তে নেমে আসলেন, ভদ্র(?)লোক।)
আমি এখন একটু বিজি আছি, তুমি রাত ১২ টার পর ফোন দিও”….. বলেই কল কেটে দিলো। ফেনটা হাতে ধরে, মুখ খানাকে এ বিগত হা করে তাকাইয়া থাকলাম! মেয়ে পাশে থেকে প্রশ্ন করছে ” কি হয়েছে আম্মু? কে ফোন দিলো?”
অট্ট হাসি হাসবো না কি প্রচন্ড রাগ দেখাবো বুঝে উঠতে পারলাম না। বললাম সব মেয়েকে। হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে মেয়ে। শুতে যাবার প্রস্ততি নিচ্ছি! ওয়াশ রুমে গিয়েছি। যথারিতী কল এলো। মেয়ে এবার ইচ্ছে করেই রিসিভ করলো। মেযে হাসি চেপে রেখে বললো “……আপনি বোধহয় আমার আম্মুকে কল করেছেন, নিন কথা বলুন….. ”
ফেনটা ধরতেই যেন শাশনের সুরে ধমকে উঠলো তথাকথিত ভদ্রলোক(?)।
—-তোমাকে না বললাম ১২ টায় কল দিতে! আচ্ছা বলোতো ফেনটা কে ধরেছিলো প্রথমে? অতীব ঠান্ডা মস্তিস্কে জবাব দিতে শুরু করলাম —–১, আমার তো ঠ্যাকা পরেনাই যে আপনাকে আমি ১২টায় ফেন দিবো!
—ভালোবাসা থাকলে একটু আধটু ঠেকা থাকতে হয়! বলল না তো, প্রথমে ফোনটা কে রিসিভ করেছিলো?
—-আমার মেয়ে।
—–তাই?
—হ্যাঁ, আপনার নাম কি? থাকেন কোথায়?” একে একে বলে গেলেন। বোঝাই যাচ্ছিলো, সব ভূয়া। ধীরে এগোচ্ছি। বললেন ব্যাবসা করেন ফার্মগেটের আশেপাসেই থাকেন। সন্দেহ দুর করতে আবারো প্রশ্নঃ —আচ্ছা তোমার কয় বাচ্চা? ধীর কন্ঠে—তিন বাচ্চা,এক মেয়ে দুই ছেলে, মেয়েটা এইটে পড়ে।ছেলে দু’টোর কথাও বললাম। তাহার গলায় টের পেলাম বরফ জমে গেছে!—-ওওওও, তা তোমার হাসবেন্ড কি করেন?
নির্লিপ্ত কন্ঠে —-ডিবিতে আছেন।
ডিবিতে চাকরি করেন? আচ্ছা নাম কি বলোতো? আমিও তো পুলিশে আছি! চিনতেও পারি।
বোঝোনাই তো বাছাধন! এইবার বোঝো!পাঠকগন বিনীত নিবেদন করছি কিছু মনে করবেন না হুবুহু বর্ননার খাতিরে গালিগালাজ গুলো এখানে লিখতে বাধ্য হচ্ছি।
—–ওই কু–র বাচ্চা, শুয়ো—বাচ্চা, তুই জানো তুই কোথায় ফোন দিছো? এতক্ষন। ধরে তোর চাপাবাজি অনেক সহ্য করছি। একটু আগে কইলি ব্যাবসা করোস্,এক পল্টিতেই পুলিশে জয়েন করছোস্? তোরে খুঁইজ্জা বাইর করতে 1,2,র ব্যাপার জানোস তুই। আন্দাজে নাম্বার টিপ্পা মেয়ে মানুষের গলা পাইলেই তগো পিরিত উতলাইয়া ওঠে??
ফের যদি এই নাম্বারে কল করিস তো এরপরে মাঠে নামবে ডিবি তোরে খুঁইজ্জা বাইর করতে। ” একটানা কথা গুলো বলে লাইন কেটে দিলাম। এরকম বিরম্বনা সেসময়ে কম বেশি অনেকের সাথেই ঘটেছে।

সময় বদলেছে, বদলেছে মোবাইল সিম এবং নাম্বার সিকিউরিটির নান অনুষঙ্গ।
ফেসবুক সম্পর্কেও এখন একই রকম বিরম্বনা পোহাতে হয় অনেকের। একটা আইডি এ্যাক্টিভ করতেই নানা জন বন্ধুত্বের আবদার নিয়ে হাজির হন। বিচক্ষিনতার পরিচয় দিয়ে যাচাই বাছাই করেই লিষ্টে বন্ধু গ্রহন করি অনেকেই। এই ফেসবুকের কারনেই অনেক অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটে চলেছে প্রাত্যহিক জীবনে। প্রথম দিকে একমাত্র পরিচিত জন এবং আত্মীয় স্বজন ছাড়া কাউকেই নেয়া হতোনা। একে একে শিখে পড়ে আইডি পর্যবেক্ষন করে নিরাপদ মনে হলে তবেই এ্যাড করা। কথায় বলে….. মুখ দেখে কি যায় চেনা, মুখটা তো নয় মনের আয়না ”
খুব অল্প সময়েই যত না লিষ্টে পরিচিত অপরিচিত জন যুক্ত করেছি! ২ভাগের একভাগ ততটাই সোওৎসাহে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। এখানকার অপশনটা ভীষণ ভাবে সুবিধাময়। বৈকল্য মনের পরিচয় দেখা বা সহ্য করার কোনোই প্রয়োজন নেই। বন্ধু যোগ হতেই দরকারি অদরকারি কথা হলেও হতে পারে। যখনই প্রসঙ্গ চলে আসে বিপরিতধর্মি!! তখনই বোঝা হয়ে পরে এমন সুহৃদ বন্ধত্বে।
“আপনাকে ভালো লাগে “আপনি এত সুন্দর কেন”? আপনার লেখার ভক্ত হতে হতে আপনারও প্রেমে পরে গেছি” ব্লা ব্লা ব্লা….. বয়সে ছোট অথচ পাকনামীতে সরেস। একশ কাঠি বাড়ন্ত! “আপনাকে গভীর ভাবে ফিল্ করি ” আপনার সাথে প্রেম করতে চাই” “প্রেম কি খারাপ কিছু?” এগোরে ব্লক্ মাইরা পরানডা ভেজেনা। মনের খায়েশ মিডাইয়া ঠাঁটাইয়া কানের নিচে বাজাইতে না পারার কষ্ট আজীবন পোড়াবে।
সাধু সাবধান।।।

বিঃদ্রঃ একটা মনের মতো লিখতে চেয়েও হয়ে ওঠেনা। এক লেখা লিখতে ১৪ বার লেখা ছেড়ে উঠতে হয়। অসঙ্গতির জন্য মার্জনা প্রাপ্তি।

২৭৫জন ৭৯জন
73 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য