আহ্লাদের নাটুয়া-ঝলক

ছাইরাছ হেলাল ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার, ০৫:২২:৫৭অপরাহ্ন সাহিত্য ৩০ মন্তব্য

এ-কোথায় এলাম!! জিউসের গোপন দরবার!! না-কী কাশিম বাজার কুঠি!! ঘসেটি বেগমকে-তো দেখছি না!!
হবু-গবুর দরবার!! নাকি কোন নাট্য মঞ্চ!! দারুণ অপ্সরী বা সাধের মায়াঞ্জন-ডাইনিদেরও না!! ঠিক ঠাওর করতে পারছিনে।
ফিসফাস ফিসফাস, গুজগুজ, গুজগুজ, ধমক থেকে হাল্কা হাসি-মস্করা পর্যন্ত!! এটা-কী কোন রাজনের বন-দুর্গ (চাণক্য)!!

অন্ধের পোড়া-চোখ, চোরাচোখে চোখ পাতলাম, চোরা কান-ও,

(বিউগল ও হাল্কা ডঙ্কা-ধ্বনির মধ্য দিয়ে পর্দা উঠে যাবে, দরবারে রাজা প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করবেন,
এর আগেই মন্ত্রী-ফন্ত্রী সহ-পরিষদ ও গুটি-কয়েক ভাঁড় থাকবে অপেক্ষমাণ।)

রাজা——–
এ-এক দুর্বিষহ জ্বালার যন্ত্রণা, নেই দিন-রাত রাত-দিন, সকাল-সন্ধ্যা থেকে শেষ
রাত অব্দি, গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত-বসন্ত, পাহাড়-পর্বত গিরি-খাদ, ঝর্ণা নদী সমুদ্র থেকে অরণ্য,
স্বর্গ-মর্ত থেকে পাতালও বাদ যাচ্ছে না, ডাইনি থেকে জিউস রাজ্যেও অগাধ যাতায়াত,
ভাগ্যিস তল-কুঠুরি এখনো অক্ষত।
অফুরন্ত বিষয়, শেষহীন আলোচনা, শুধু কিলবিলে লেখা আর লেখা, ঘুমে-জাগরণে,
স্বপ্নেও, মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যেও কী কী সব আউল-ফাউল লিখে দ্যায় যখন-তখন। আর সহ্য হচ্ছে-না,
বিহিত করা দরকার। রাজ্যে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ছে, ছোঁয়াচে ছোঁয়াচে, সব কুবি ও ল্যাখক হয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় দুর্দিন আসন্ন।

সভাসদ বৃন্দ—-
বিহিত করা দরকার, বিহিত করা দরকার (তাল-ছন্দ সহকারে)
রাজা——-
কী করা যায় এর-থেকে মুক্তি পেতে?? শক্ত হাতে দমন করা দরকার।
বলুন আপনারা আপনাদের মতামত এবার।
পোটকা মন্ত্রী——-
মুণ্ডিত মাথায় পচা-ঘোল/পচা-ডিম মেখে ঢোল-সহরত করে ঘোরানো শেষে বাঁশ-ডলা সহ
মাইঙ্কা চিপার ব্যবস্থাই উত্তম।
রাজা————–
খামোশ।
ঢ্যাংগা বড় মন্ত্রী———
রজম বা শিরচ্ছেদ সব থেকে ভাল ব্যবস্থা, তবে শূলা-শূলীও করা যেতে পারে।
রাজা—- চোপড়াও, কমবখত।
(রাজা এবার ম্লান-মুখে কবি তাদেউশ রোজেভিচ এর ভ্রম সংশোধন কবিতাটি আবৃত্তি করবেন)

মৃত্যু পদ্যের একটি পংক্তিতেও
সংশোধন করবে না,
সে কোন ভ্রম সংশোধক নয়
নয় কোন দরদি
সম্পাদিকা;

একজন বিরক্তিকর লোক মৃত্যুর পরেও বিরক্তিকর,
একজন আহাম্মক কবরের ওপার থেকেও
চালিয়ে যায় তার বকবকানি।

(সভার সকলে মিলে কান্নার রোল ফেলে হুহু করে কাঁদতেই থাকবে,
একটু পরে রাজার হাতের ইশারায় কান্না বন্ধ হবে)

রাজা……………
সে-তো আমাদেরই লোক। বরং তাঁকে আমরা সুকঠিন আদর-সোহাগ সহ তীব্র চুম্মা-চাট্টি
দিয়ে ঠাণ্ডা করে রাখতে পারি, আপনারা কী বলেন? {এ-রাজ্যেও স্বজনপ্রীতি, আমারা করলেই দুষ!!}

(হাহা হি হি শব্দ চলবে কিছুক্ষণ, হঠাৎ রাজার চিৎকার )

রাজা——-
শাস্ত্রীইইইইইইইইইইইইইইই, পাকড়াও।

(নাকারা বাজবে, ঢোল বাজতে থাকিব, ডুম ডুম ডুম হাল্কা দ্রুত লয়ে, পর্দা নামবে )।।

(খুব মৃদু লয়ে ঢোল বাজার সাথে সাথে স্বল্প-আলোতে একটি দেয়াল দেখা যাবে,
দেয়ালের দিকে মুখ করে একটি চোখ-বাধা আলুথালু উদভ্রান্ত যুবক (প্র-হে-লি-কা) দাঁড়িয়ে থাকবে,
হাতড়ে হাতড়ে দেয়াল হাতাবে, দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াবে,
শেষে দেয়াল ঘেঁষে চিৎ/উপুড় হয়ে শুয়ে থাকবে, এখন ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজবে……..
মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা, নিজে ন’খাইলা……..
একটু পর……
গান ও ঢোল থামবে, রাজার সামনে বন্দী হাজির, শাস্ত্রী পরিবেষ্টিত,
পা-হড়কানো রুগ্ন বলদের মত কাঁপা-কাঁপা হাঁটুতে করজোড়ে আর্জি)

বন্দী……………
রাজাজী-হুজুর-আব্বা-আম্মা-বাবু-বাবাই-আম্মুউউউউউউউ
আমি কলা খাই-না, খাই-নি, খামুও-না!! পরকালেও-না!!

(রাজা হাত দিয়ে হাসি আড়াল করবে, পর্দা নেমে যাবে।)

রাজবন্দী ভদ্রোচিত পোশাকে চোখ-হাসি নিয়ে দাঁড়াবে, এক-ঝাঁক পরী আস্তে আস্তে চারদিক দিয়ে
ঘিরে ডানা দিয়ে ঢেকে ফেলবে নাচের তালে তালে। সরু স্পট-লাইট ঝলমলে ডানায় ঘুরে বেড়াবে।

অরণ্য-সবুজ রঙের পর্দায় ফুল আঁকা থাকবে সাথে অনেক উড়ন্ত মৌমাছি, এই পর্দাটি আস্তে আস্তে নামবে,
আলো কমতে থাকবে, সাথে একটি গান বাজতে থাকবে।

আগের জনম গেল বৃথা……………… ।।

*************************************************************

দুর্বলতম অ-বৈজ্ঞানিক কারণে দু’টি ডাইনি দৃশ্য কাটছাঁট করা হলো।
অবশ্য আপনারা নিজ উদ্যোগে নাটুয়া না হয়েও নাটিকাটির সেই দৃশ্য সমেত উপভোগ করতে পারেন!!

৩৪৯জন ৩৪৯জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ