আসলে কারা সংখ্যালঘু?

ফাহিমা কানিজ লাভা ৭ জানুয়ারী ২০১৪, মঙ্গলবার, ১২:০৬:৫০অপরাহ্ন এদেশ, সমসাময়িক ২২ মন্তব্য

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সপ্ন নিয়ে একদিন দেশ স্বাধীন করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেমেছিল পূর্ববাংলার হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই। সবার পরিচয় ছিল- বাঙ্গালী; ঠিকানা ছিল- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছিল বাংলা মায়ের সন্তান।

যে স্বাধীন বাংলাদেশের সপ্ন দেখেছিল আমাদের স্বাধীনতাকামী পূর্বপুরুষেরা, যে শান্তি-সমৃদ্ধিময় দেশ চেয়েছিল তারা, সেই লাখো শহীদের রক্তস্নাত দেশে আজ কি করে কিছু বর্বর জঙ্গীরা ধর্মবিশ্বাসভেদে মানুষের এতোবড় সর্বনাশ করে??

এই নরপিশাচদের বিবেক পুড়ে গেছে, তাই তারা এদেশকে, দেশের মানুষকে পুড়িয়েই চলেছে। সামান্য অজুহাতে অমুসলিমদের এতোদিনের তিল তিল করে সাজানো ঘর-সংসার, সুখের সপ্নে আগুণ দিচ্ছে এই হায়েনারা।

আমরা বলছি ‘সংখ্যালঘু’-দের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, আসলে কারা সংখ্যালঘু?? যারা আমার মতো এসব দেখে কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের সংখ্যাই কি বেশি না এসব নির্যাতনকারীদের চেয়ে? তাহলে এই নরপিশাচ সংখ্যালঘু যারা অমুসলিমদের ঘরে আগুণ দিচ্ছে, পথে বসাচ্ছে আমার ভাই-বোনদের, তারাই কি সংখ্যালঘু না? আমার মতে পিশাচরাই বরং ‘সংখ্যালঘু’, আমরা না, অমুসলিমরা না।

মুক্তিযুদ্ধের সপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, এই বাংলায় এই নরপশুদের ঠাঁই দেয়া যাবে না কোনোমতেই। দরকার হলে আবার লড়াই হবে একাত্তরের মতো। যে হাতে আমার ভাই-বোনদের বাড়িতে আগুণ দেয়া হয়, নির্যাতন করা হয়; সেই হাত আমরা ভেঙ্গে দিতে শিখেছি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে।

আমরা বাঙ্গালী, লড়াই করে বীরের মতো মরতে জানি। সবাই মিলে এদের প্রতিহত করা, এদেশ থেকে তাদের নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। এসব নির্যাতন কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারেনা। আমাদের এক হতে হবে, একতাই শক্তি ওদের প্রতিহত করতে।

সারা দেশজুড়ে ভোট দেয়ার অপরাধে পাঁচ শতাধিকের বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘর-বাড়ি যারা পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের বিচার চাই।

৫৮২জন ৫৭৯জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ