আলো আঁধারে ঘনিষ্ঠ ইতিহাস

মাসুদ চয়ন ২৯ জুন ২০১৯, শনিবার, ০৪:২৩:১৩অপরাহ্ন কবিতা ১৩ মন্তব্য

নেশায় নিমগ্ন হলে পাখিদের চোখ_
ব্যথা পুষে রাখে নরম দেহটি
ডানা ঝাঁপটায় নীলচারী
চৈঁ-চৈঁ চৈতন্যে নৈবেদ্য সুর বাজে
কিছুই বলেনা পাখিরা
শুধু দেখে যায় নিথর অনুভব্য ধ্যানে-
তখন নেশারত কাব্যরা বুঝতে পারে–
পাখিটি মানুষের ইতিহাস বুঝেছে অনেক আগেই

মানুষের জীনে পাখি হয়ে জন্ম নিয়ে জেনেছিঃ
এই জন্ম মৃত্যুর মতো কালোয় রাঙা
চিরকাল পাখিদের মৃত্যু হয়েছে জরাজীর্ণতায়

যে পাখিরা আলো হয়ে অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে দেয়
তেমন কবিতার পাখি হতে চেয়েছিলাাম
না মরলে কবিতা খুঁজবেনা কেহ-
তাই প্রতিদিন ডোম হয়ে নিজের হৃৎপি খুঁড়ি
আর ভাবি!
আমার এতো বেদনা কেনো!
এতো তৃষিত কেনো আমি!
কালো রাত সাদা দিনের মতো হয়ে হয়ে আসে-
দিনের নদীতে হোয়াইট হোল অসীমে লীন হয়ে যায়

তেমন পাখিদের ডাকে সাঁড়া দিয়েছিলো মন
যে পাখিরা মৃত্যুর দেশে লীন হয়ে গেছে
এমন ডানাহীন পরিচয়ে স্বস্তি পাই
যখন নদী তীরে হৃদয়ের সাথে
ঢেউয়ের নিবিড় আলাপন চলে_
জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় সমস্ত আয়োজন
নিরুপায় হয়ে চেয়ে থাকি-
কেউ নেই-
একটি ক্ষত বিক্ষত অক্ষম দেহ-
পাখিরা বোধ পেয়ে ঔজ্জ্বল্য
ছড়ায়

আলোর জঠরে,অন্ধকারের ঐকতানে,
পৃথিবীর ইতিহাসে আমিও তেমন পাখি হবো
নদীদের জলে পাখিদের জল একাকার হয়ে যাবে

কোনো এক অচেনা মাঝি তরী বেয়ে আসে
পাখিরা আনন্দে হাসে
পাখিদের পুরনো বেদনা ফিরে আসে
অথৈ নদী তীরে পাখি আছে আর জল আছে
তরীটি বহুদূরে অদৃশ্য হয়ে যায়
মনে হয় মহাকাল ছিলো
নাকি আরও দূরের কাল পরিচয়-
জীবন এমন স্থবির কেনো!
শুভেচ্ছা জানাতে যেওনা তাকে জিজ্ঞেস করতে পারো_
জীবনের আরেক পৃষ্টে মৃত্যুর মূর্ছনা কেনো!

উড়তে পারিনি ঘুরতে পারিনি দেখতে পারিনি
তবুও পাখি জীবন-
মৃত্যুর সান্নিধ্যে গহীনের বসবাস
মুক্তির পথে শত শতাব্দী দূরত্ব অতিক্রম করে চলেছি
একদিন গন্তব্য এক হয়ে যাবে
ইতিহাস লিখে যাবো তোমাদের জন্য
যেমন বেদনা দেখেছি আজানের স্বরে সুরে
দেবতার শ্লোকে
অথচ এও জানি দেবতারা নিশ্চল
তাই আজানের সুরে মূর্ছিত হয় অহিংস অন্ধকার
মহাকাল জানে আর আমি জানি_
এমন ইতিহাস পাখিদের উন্মুক্ত আয়োজনে সাব্যস্ত হউক তোমাদের জন্য/

২১৬জন ৭৫জন
4 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য