আরমান বোর্ডিং

কামাল উদ্দিন ২ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৯:২৯:৪২অপরাহ্ন ভ্রমণ ২১ মন্তব্য

গ্রীস্মকালীন ছুটি। কক্সবাজার যাব । কিন্তু অনেক টাকা খরচ হয় বিধায় আমার কিশোর বয়সী কোন বন্ধুর পক্ষেই যাওয়া সম্ভব হলনা । অগত্যা একাই যাওয়া।

খুব সকালে রওয়ানা দেওয়ার পরও কক্সবাজার পৌছতে বেজে গেল রাত ১০ টা। যদিও গ্রীস্মকালীন রাত ১০ টা খুব একটা রাত নয়, তথাপি আমার মত সতের বছরের একটা কিশোরের জন্য এটা নিশি রাতের শামিল।

সুতরাং একটাই পরিকল্পনা ,হোটেল খুঁজে বের করা। আসলে কক্সবাজার হোটেল খুঁজতে হয় না হোটেলই পর্যটক খুঁজে নেয়। খুব কাছেই একটা থাকার ঠিকানা খুঁজে পেলাম। আমার জীবনের প্রথম বাহিরে রাত কাটানোর সেই নীড়ের নাম আরমান বোর্ডিং। ঢুকে গেলাম ভিতরে। রুম ভাড়া ৫০ টাকা। যদিও পেটে ক্ষুধা ছিল, দূরে কোথাও গিয়ে খাবার সাহস না পেয়ে বোর্ডিং সংলগ্ন চা স্টলের হালকা খাবারেই ক্ষুধা নিবারনের চেষ্টা।

অতপর ; ঘুমানোর পালা। শোবার আয়োজনে মশারী দেখে ভাবলাম, মশারী টানালে বাতাশ লাগবে না, তাই মশারী না টানিয়ে ফ্যান ছেড়ে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু একি! ফ্যানতো নয় যেন রুমের ভিতর ট্রেন চলছে গর-র গর-র শব্দে, তাও যদি বাতাশ লাগত। ওদিকে আবার মশক বাহিনী কিভাবে যেন আমার আগমন বার্তা টের পেয়ে গেছে। সুতরাং আর দেরী না করে আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে দল-বল নিয়া হাজির। নিরুপায় আমি মশারী টানাতে বাধ্য হলাম । তাপর মশারীতে যেই না ঢুকা অমনি সে কি দুর্গন্দ ! মনে হয় সেই ১৯৫৩ সালের পর এটাতে পানি আর সাবানের স্পর্শ লাগেনি। কি আর করা, সাথে নেওয়া গামছা দিয়ে নাক-মুখ বেধে এই গরমে ঘুমানোর অপচেষ্ঠা।

কিন্তু আমার জন্য যে আরো চমক অপেক্ষা করছিল, কিছুক্ষন পরই সেটা টের পেলাম। বিছানার নিচ থেকে দলে দলে বের হয়ে আসতে লাগল ছাড় পোকারা। তারা ও মশাদের থেকে কম অতিথি পরায়ন না, এটা বুঝতে আমার খুব একটা সময় লাগল না । তাই আবারো উঠতে হল। বিছানা ঝেড়ে আবার শয়ন করলাম , কিন্তু না আধা ঘন্টার বেশী তাদের ঠেকিয়ে রাখা গেল না।

সুতরাং আধাঘন্টা পর পর বিছানা ঝাড়া, কখনো বা মশারী খুলে ফ্যান নামক রেল গাড়ীর শব্দ শুনে গরম তাড়ানোর চেষ্ঠা (আসলে অপচেষ্ঠা), আর মশারী ও বিছানার
দূর্গন্ধ থেকে বাচাঁর জন্য নাক মুখ বাধা। এভাবেই ভোর হওয়ার প্রহর গুনছিলাম । অতপর দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয় মসজিদে মুয়াজ্জিনের আযানের মাধ্যমে।
আমি বেড়িয়ে পড়লাম বোর্ডিং নামক নরক থেকে। বের হওয়ার মুহুর্তে ম্যানেজারের
” রাতে ভাল ঘুম হয়েছে তো ?” এর জবাবে ইচ্ছে হচ্ছিল বলে দেই এই কৌতুক টি।

আপনাদের বোর্ডিং এর ব্যবস্থা খুব চমৎকার ! মশারা যখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন যদি ছাড় পোকারা নিচ থেকে টেনে ধরে না রাখত সকালে উঠে আমাকে অন্য কোথাও পেতেন।

৩১০জন ১৯৮জন
7 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য