নারী..
দুই অক্ষরের একটা শব্দ।কিন্তু এর অর্থ অনেক বড়।একটা দুইটা অর্থ না। অনেক অনেক অর্থ আছে এর।কিন্তু সবার প্রথমে যে অর্থ আমাদের মনে পরে তা হচ্ছে মা।পৃথিবীর প্রতিটা মেয়ের সম্মান একই কাতারে।কারন তারা কোন না কোন সময় মায়ের সম্মান পেয়ে থাকে।
যে ছেলেটি আজ ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, বড় বিজ্ঞানী।দেশের হাজার হাজার মানুষ তাকে সম্মান করে।সেই ছেলেটির মাথার উপরে আছে এক নারী।তার মা…।যে না থাকলে হাজার মানুষের সম্মান পাওয়াতো দূরে থাক,পৃথিবীর আলো দেখাও সম্ভব ছিলনা তার।তাই একজন পুরুষ কখনওই নারীর আগে অবস্থান করার ক্ষমতা রাখে না।মায়ের পায়ের নিচের সন্তানের বেহেশত।এটা চিরন্তন সত্য।একটা সাধারণ মস্তিষ্কের মানুষ তাই কখনই ভুল করেও নারীকে ছোট করে কথা বলে না।যারা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ,তারাই নারীদের অপমান,অবজ্ঞা করে।মেন্টালি টর্চার,হেরাসমেন্ট সহ আরো অনেক অনেক কিছু।বিশেষ করে বাঙালী বীরের জাতিগণ।তারা তো আজকাল কোন দিবসকে বাদ দিচ্ছে না।২১শে ফেব্রুয়ারি,১৪ই ফেব্রুয়ারি,১৪ই এপ্রিল কোনটাকেই বাদ দেয় না নারীকে অসম্মান করার জন্য।এখন তো আবার যোগ হয়েছে ৭ই মার্চ।তারা এতটাই বীর যে,কিছুক্ষন আগে যেই জাতির সাথে খারাপ আচরণ করে,বাসায় গিয়ে সেই একই জাতির হাতে রান্না করা খাবার খেয়ে তাকে বেচে থাকতে হয়।বাহ:….তোমরা গর্বিত তোমরা পুরুষ।
কাল ৭ই মার্চ যারা বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিবস পালনের অজুহাতে রাস্তায় নেমেছে।আর কাজের তাড়নায় পথে নামা মেয়ে গুলোর সাথে নোংরা ব্যবহার করেছে,আজ ৮ই মার্চ নারী দিবস উপলক্ষে তারাই ফেইসবুকে পোস্ট করবে।বড় বড় ডায়লগ ছাড়বে।নারী হেন,নারী তেন।নারীকে সম্মান দাও।ব্লা ব্লা….ওয়াও…জাস্ট আমেজিং।

এখন ইসলামিক মাইন্ড এর দিকে আসি।
ইসলাম নারীকে পর্দার মধ্যে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।ভাল।এমন একটা সময় ছিল,যখন মেয়েরা পড়াশুনা করার কথা ভবতেই পারত না।ঘর থেকে বার হত না।সম্পূর্ন পর্দা করে চলত।কেও তাদের মুখ ও দেখত না।দিনের পর দিন তারা হাসিমুখে পুরুষের দাসত্ব করে গেছে।অথচ তাদের কাছ থেকেই আবার অপমানিত হয়েছে।যৌতুক এর জন্য নির্যাতিত হতে হতে মৃত্তুকে বরণ করেছে শত শত নারী।ধ্বংস হয়েছে শত শত পরিবার। ইসলামের কোথায় আছে এসব করা জায়েজ??কেন ‘নারী নির্যাতন’ আইন তৈরী হয়েছে?
পর্দাহীন ভাবে চলার জন্য দুইটা খারাপ কথা বলতে একবারো লজ্জা হয়না সেইসব পুরুষদের?একবারো ভাবতে ইচ্ছা হয় না কেন মেয়েরা আজ সাবলম্বি হওয়ার জন্য লড়াইয়ে নেমেছে?
পর্দা না করা যেমন পাপ,তেমনি পর্দা না করা নারীর দিকে কুদৃষ্টি দেওয়া সমান পাপ।তাই অন্যের পাপ নিয়ে চিন্তা না করে নিজের পাপ নিয়ে চিন্তা করাটা সত্ত্যিকারের মনুষ্যত্বের বা পুরুষত্বের লক্ষন হবে।

এখন মেয়েরা পিছিয়ে নেই।একফোঁটাও না।একবিন্দুও না।পুরুষের সাথে সাথে সমান তালে এগিয়ে চলেছে তারা।ইনশাল্লাহ এক সময় অনেকটাই এগিয়ে যাবে।ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,পাইলট এমনকি ফাইটারও হতে গিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে না।শত শত বাধা অতিক্রম করে আজ তারা এগিয়ে যাচ্ছে।

আজকে নারী দিবস।একদিন আমার একজন স্যার দুটো কথা বলেছেন।যা আমার খুবই ভাল লেগেছিল।
১.যারা সম্মান করে তারা সবসময়ই নারীদের সম্মান করে।এর জন্য কোন দিবস লাগে না।
২.নারি দিবস বলতে কোন দিবস থাকা উচিৎ না।নারী পুরুষ যেহেতু সমান অধিকার তবে কেন আলাদা করে নারি দিবস পালিত হবে।সবাই মানুস।এই দিবসটি বাতিল করা উচিত।
চরম সত্য কথা।ধন্যবাদ স্যার।

নারী আপনার মা,আপনার স্ত্রী, আপনার মেয়ে,আপনার প্রেমিকা।তাই নারীকে সম্মান দিন।তাদের মাথা উচু করে বাচতে দিন।তাদের জীবনে বাধা হয়ে না,শক্তি হয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করুন।নারী পুরুষতো একে অপরের পরিপূরক।তবে কেন পুরুষের ভয়ে নারীকে গুটিয়ে থাকতে হবে?একজন পুরুষ কেন তার মা,বোন,স্ত্রী,কন্যার জন্য তারই মত আরেকটি পুরুষের ভয়ে আতঙ্কিত থাকবে?একটু চেষ্টা করলেই তো কত সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের চারপাশ।অপরিচিত মেয়েটিকে নিজের বোন ভাবুন না।দেখবেন তার চোখে ঠিকরে আপনার জন্য সম্মান বের হয়ে আসছে।

যাহেতু আজ নারী দিবস পালন হচ্ছেই বিশ্বে,তাই সোনেলার সব আপুদের নারী দিবসের শুভেচ্ছা।
#জেগে_উঠুক_নারী
#জাগ্রত_হোক_মানবতা

৯৭৩জন ৮৮৩জন
13 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ