আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-এক)

সুরাইয়া নার্গিস ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার, ০৭:৫৬:৩৪অপরাহ্ন গল্প ২০ মন্তব্য

“আমি তোমার জন্য এসেছি”

সেদিন শনিবার সপ্তাহের প্রথমদিন প্রিয়া বাবার হাত ধরে স্কুলে যায়, স্কুল ছুটি মা বাসায় কাজে ব্যস্ত হঠাৎ আজাদ সাহেব মানে প্রিয়ার বাবার ফোন প্রিয়াকে নিয়ে আসছো..?
মিরা মানে নাহ্ এইত হাতের কাজ গুলো শেষ করেই যাচ্ছি বলে ফোনের লাইনটা কেটে দিলেন।
আজাদ সাহেব অফিসের কাজে মন বসালেন কিন্তু প্রিয়া বাসায় না ফেরা পর্যন্ত তার সস্তি নেই এদিকে প্রিয় রাগি মুডে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সবাইকে বাবা,মা,ভাই,বোন,নিকট আত্নীয় নিতে যাচ্ছি এখনো কেউ আমাকে নিতে আসলো না…!
প্রিয়া দাদু মিরাকে বলেই চলছে বউমা তাড়াতাড়ি যাও মেয়েটা হয়ত একা মন খারাপ করে বসে আছে কাউকে না দেখলে কেঁদেই ফেলবে।
মিরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়াকে আনতে যাবে বলে দুপুরে খালি রিক্সা নেই বললেই বলে মিরা অট্রো নিয়ে তাড়াতাড়ি প্রিয়ার স্কুলে গেল দেখলো প্রিয়া গেটের সামনে হেলান দিয়ে আনমনে দাঁড়িয়ে আছে মাকে দেখেই দৌঁড়ে জড়িয়ে ধরল আর চোখের নাকের পানি এক করে ফেলল।
মিরা মেয়েকে আদর করলেন আর প্রমিস করলেন আর কোনদিন এমন ভুল হবে না, প্রিয়ার মুখে হাসি ফিরল, আজাদ সাহেবের ফোন প্রিয়া রিসিভ করেই বললো আব্বু মম এসেছে আমরা বাসায় ফিরছি।
আচ্ছা মা আইসক্রিম খাবে না তোমার জ্বর, প্রিয়ার জবাব নেই বাবা বুঝতে পারলো প্রিয়ার মন খারাপ প্রিয়া মা…! হুম।
ওকে একটা আইসক্রিম খেয়ে নিও বেশি না।
ওমনি প্রিয়ার মিষ্টি হাসির আওয়াজটা আজাদ সাহেব মনটা ভরে গেল।
আচ্ছা আব্বু একটা আইসক্রিম খাব, তারপর ফুসকা খেয়ে বাসায় ফিরব…!
তারপর প্রতিদিনের মতোই মায়ের হাত ধরে প্রিয়া স্কুল থেকে বাসায় ফিরছে, মেইন রোড থেকে বাসা ৫ মিনিটের রাস্তা এইটুকু প্রিয়া হেঁটেই বাসায় আসে।
মায়ের কাধে স্কুল ব্যাগ, হাতে প্রিয়ার জুতা জোড়া আর প্রিয়া খালি পায়ে নেচে নেচে স্কুল ড্রেস পড়ে হেঁটে আসছে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে আরাফ চেয়ে দেখছে। হঠাৎ প্রিয়ার পাশে চোখ পড়ল একটা বালির ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, পাশের বিল্ডিং এ বাসায় কাজ চলছে ইট,বালি,সিমেন্ট রাস্তায় ভর্তি সকালেও রাস্তাটা খালি ছিলো। একটা ছেলে অপরুপ সুন্দর চেহাড়া লম্বা ছয় ফিট হবে, ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল, লম্বাকৃতি মুখ, অদ্ভুত বড় দু’টো চোখ। নিষ্পাপ চাহনি মুখ চেপে হাসছে প্রিয়া বুঝতে পারলো ভদ্র লোক তাকে দেখেই হাসছে সে লজ্জায় আম্মুর আঁচলে মুখ লুকাল আর একবার মুখ বের করে দেখলো ছেলেটা হেসেই চলছে।
মা তাকে জড়িয়ে ধরে বললো পাগলি মেয়ে এটা কিছু না বাসায় চলো প্রিয়া মায়ের আঁচলে নিজেকে লুকিয়ে কোন রকম বাসায় আসলো।
বাসায় ফিরতেই দাদুমনি বললেন প্রিয়া আসতে কোন সমস্যা হয়নি..? নাহ্ দাদুমনি তবে.!
তবে কি.?
প্রিয়া ভাবলো মায়ের দেরি হওয়াটা বললে হয়ত দাদুমনি মাকে কড়া কথা শুনাবে ভেবে বললো না দাদুমনি কিছু হয়নি সব ঠিক আছে বলেই জড়িয়ে ধরলো দাদুও প্রিয়াকে আদর করলো।
মিরা বাসায় ফিরেই কাজে মন দিলো সব অগোছালো প্রিয়া যে কবে ঘরটা,বিছানা ঠিক করতে শিখবে সেদিন আমার একটু বিশ্রামের শান্তি আসবে ভাবতে ভাবতেই মা চুলায় চা বসালেন মাথাটা খুব ধরেছে একটু চা খেলে শরীরটা চাঙ্গা লাগবে। পাশের রুম থেকে মায়ের ডাক শোন গেল “বউমা বাসায় দুপুরে একজন মেহমান খাবে একটু তাড়াতাড়ি রান্না করে নিও।
মা মেহমানের ব্যাপারে আপনার ছেলে তো কিছু বলে নাই কে আসবে.?
তেমন কেউ না আজাদের স্কুলের স্যার রাস্তার পাশের সেলিম সাহেবের বাসার পাশে যে খালি জমিটা আছে ওটাই ওনার ছেলে মেয়েরা সবাই ঢাকায় থাকে তাই ভাবছিলো জমিটা বিক্রি করে দিবে কিন্তু আজাদ বলছে এখানে সবাই বাসা ভাড়া খোঁজে আপাতত কয়েকটা রুম করে দোকান বা বাসা ভাড়া দিলে ভালো টাকা আসবে।
রাস্তার পাশে রাখা ইট বালি জামানের স্কুলের স্যারের নতুন বাসা করবে তাই সকাল থেকেই ট্রাক দিয়ে ইট,বালি,রড আনা হচ্ছে।
দাদুর কথায় প্রিয়া বুঝতে পারল ওই ভদ্রলোক আব্বুর স্যারের ছেলে, মিরা বললো হ্যাঁ মা রাস্তার পাশে দেখেই বুঝছি কারো নতুন বাসায় কাজ করছে।কতজন খাবে.?দাদুমনি বললেন একজন খাবে।
মিরা ফ্রিজ খুলে কয়েক রকমের মাছ,মাংস বের করলো রান্নার জন্য, আমার জন্য ইলিশ মাছ নিও বললো প্রিয়া।
আচ্ছা বলেই মা রান্নাতে মনযোগ দিলো দুপুরে আজাদ সাহেব বাসায় খেতে আসলো প্রিয় বাবার কাছেই বসে ছিলো দাদু আর বাবার গল্প শোনছিলো বাবা বললেন স্যার আমাকে খুবই স্নেহ করতেন ওনার বাসায় পাইভেট পড়তে গেলে আমি প্রায়েই খেয়ে আসতাম ওনার বড় ছেলে আমার সাথেই পড়াশোনা করতো শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে ওদের সাথে স্কুলে যাওয়া, গ্রামের বিলে মাছ ধরা, খেলাধুলা সব বলতে বলতে আবেগপ্রবন হয়ে পড়লেন।
আচ্ছা আমার রান্না শেষ যাও মেহমানকে ডেকে আন খেয়ে তারপর বাকি গল্প করো আমি টেবিলে খাবার দিলাম।
আজাদ সাহেব বললে প্রিয়া মা তুমি কোথায় গেলে..! একটু এদিকে আস প্রিয়া বুঝতে পারলো মেহমানকে ডাকার জন্য তাকেই পাঠাবে কিন্তু সে তো যেতে পারবে না কি লজ্জা খালি পায়ে নেচে হেঁটে আসছিলো সেটা সে দেখেছে।
মা বুঝলেন প্রিয়া যাবে না তাই আগবাড়িয়ে বললেন প্রিয়াকে ওনি চিনবেন না হয়ত নাও আসতে পারে তার চেয়ে বরং তুমি যাও ডেকে নিয়ে আস। এবার দাদুমনিও যোগ দিলেন আমিও বউমার সাথে একদম বাবা তুই যা আরাফকে ডেকে নিয়ে আয়, তার মানে ওই গুন্ডা ছেলাটার নাম আরাফ তবে বেশ সুন্দর ছেলেটা প্রিয়া ভাবলো আরাফকে না দেখলে জানাই হতো না আল্লাহ্ মানুষকে কতটা নিঁখুতভাবে সুন্দর করে সৃষ্টি করছে।
আজাদ সাহেব বললেন তোমাকে বলা হয়নি রাত থেকেই আমার শরীরে জ্বর আসছে, মেয়েটারও বাসায় জ্বর দেখে গেলাম তাই অফিসে মন বসাতে পারি নাই ছুটি নিয়ে চলে আসলাম।
প্রিয়ার দাদুর একমাত্র ছেলে আজাদ জ্বর শুনেই ছেলের কপালে হাত দিলেন হালকা জ্বর তবে মেয়ের জন্য অফিসে মন ঠিকে নাই মা মুচকি হাসলেন বিষয়টা বুঝতে পারল মিরাও আর কথা বাড়ল না প্রিয়া যাও আরাফ ভাইয়াকে গিয়ে বল আব্বু আপনাকে দুপুরে আমাদের সাথে খেতে ডেকেছে।
প্রিয়া যেতেই চাচ্ছিল না কিন্তু দাদুমনি জোর করে পাঠালেন, কি আর করা এক পা দু-পা করে প্রিয়া রুম থেকে বেরিয়ে গেল দূর থেকেই দেখল কড়া রোদে আরাফের মুখটা লাল রং ধারন করেছে ফর্সা মানুষের যা হয়। ভয়ে ভয়ে প্রিয়া আরাফের কাছে গিয়ে পাশেই চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। আরাফ তখন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো প্রিয়াকে দেখেই বললো তোমার নাম কি..?
জ্বী আমি প্রিয়া।

খুব মিষ্টি নাম তো..!
প্রিয়া মথা নিচু করে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে,আরাফ বুঝলো প্রিয়া কিছু বলতে চায়।
তুমি আমাকে কিছু বলতে এসেছ বললো আরাফ..?
প্রিয়া, হ্যাঁ।
বলো কি বলবে..!
আব্বু আপনাকে আমার সাথে বাসায় যেতে বলেছে,দুপুরে খাবারের জন্য।
ও আচ্ছা তুমি আজাদ আঙ্কেলের মেয়ে..?
জ্বী।
আচ্ছা দাঁড়াও আমি ওনার সাথে কথা গুলো শেষ করে নেই, প্রিয়া দেখলো রাজমেস্রি সবাই একসাথে বসে আছে সামনে প্লেটে বিস্কিট,মুড়ি,হরেক রকমের খারাব,কয়েকটা পানির গ্লাস ওদের দুপুরের নাস্তা আরাফ নিজেই এনে রেখেছে।
বিল্ডিং এর কাজ এখনো শুরু হয়নি মাপ দিতেছে তাতেই অর্ধেক দিন শেষ বাকি কাজ শেষ হতে প্রায় ৬ মাস লাগবে প্রিয়ার মনে হলো এরা টাকার পাগল কাজ যত দেরি হবে টাকার অংক তত বাড়বে।
আরাফ বললো চল প্রিয়া জ্বী চলুন, প্রিয়া আস্তে করে হাঁটছে কি ব্যাপার একটু আগে নেচে নেচে দৌঁড়াচ্ছো এখন ঝিমাচ্ছো কেন.!
পায়ে কি কাঁটা বিঁধেছে.?😂
প্রিয়া লজ্জা পেয়ে বললো নাহ্ আমি ঠিক আছি, গুন্ডা ছেলেটার কথার জ্বাল আছে বলতে হবে আচ্ছা সুযোগ পেলে আমিও বুঝিয়ে দিব কাঁটার জ্বালা কেমন।
প্রিয়া তুমি কোন ক্লাসে পড়,জ্বী ক্লাস ফাইভ, হা হা হা হা দেখে তো মনে হয় কলেজে পড়ো হুম ভাবটা এমন বড়দের মতো কেন..?
প্রিয়া তখনও চুপ আরাফ এসব বলে প্রিয়ার সাথে ফ্রি হতে চাচ্ছিল উল্টো প্রিয়ার মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে, আচ্ছা প্রিয়া তোমার স্কুলের নাম কি.? প্রি ক্যাডেট স্কুল।
ওখানে বড়দের ভর্তি করে,মানে আমিও ভর্তি হতে পারব..?
প্রিয়া হি হি হি হি 😂😂😂।
আরাফ বুঝল প্রিয়ার হাসি মানে মেজাজ ঠান্ডা হয়েছে, আরাফও হা হা হা হা হা হেসে দিল।
আপনি পড়াশোনা করেন নাই বললো প্রিয়া, হুম মাস্টার্স কমপ্লিট করছি বর্তমানে ঢাকায় একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়াই দেশের বাইরে যাব সে চিন্তায় আছি।
প্রিয়া তাহলে তো খুব ভালো, আমাদের স্কুলে ভর্তি হবেন কেন..?
বোকা মেয়ে আমি মজা করছি তোমার বয়স তো বলে ক্লাস সেভেন, এইটে পড় অথচ ক্লাস ফাইভ কি পড়াশোনায় অমনযোগী না ক্লাস ফাঁকি দিস কোনটা..?
আসলে আব্বু সরকারী চাকুরী করেন বছরের মাঝ খানে বদলি হন আমাকেও স্কুল চেঞ্জ করতে হয় এভাবে ক্লাস পিচনে পড়ছে। বুঝলাম ওরা কথা বলতে বলতে প্রিয়া কলিংবেল চাপল আজাদ সাহেব দরজা খুলে দিলেন।
আরাফ রুমে গেল প্রিয়ার ছুটি দাদু আসলেন বয়স্ক মহিলা কিন্তু ব্যবহার অনেক ভালো আরাফের সাথে ভালোই গল্প করছেন এর মধ্যে প্রিয়ার মা দেখা করে গেছেন ভদ্র মহিলার সাথে পূর্বেই আরাফের দেখা হয়েছিলো প্রিয়াকে নিয়ে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে তখন আরাফ খুব হাসছিলো কারন প্রিয়ার স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ভদ্র মহিলার তার শৈশবে ফিরে গিয়েছিলেন এমনটাই দেখে মনে হইছিলো।
খুব আনন্দের সাথেই তিনি মেয়ের স্কুল ব্যাগ,আর জুতা হাতে নিয়ে হেঁটে আসছিলেন, তবে প্রিয়া তার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে প্রথম দেখাতেই কিন্তু প্রিয়া বাচ্ছা মেয়ে প্রেম ভালোবাসা হওয়ার সম্ভাবনা নেই এটা শুধু চোখের শান্তি।
দাদু আরাফের চিন্তায় ছেদ ঘটাল আরাফ হাত মুখ ধুয়ে আস খাবে,আজাদ সাহেব বেসিনটা দেখিয়ে দিয়ে চলে গেল ফ্রেশ হয়ে খেতে আস।
মিরা টেবিলে খাবার দিল দাদু,প্রিয়া টেবিল দখল নিয়েছে আজাদ,মিরা অপেক্ষা করছে আরাফ আসতেই টেবিলে বসিয়ে দিল সবার প্লেটে মিরা খাবার দিলেন তারপর বললেন টেবিলে সব রকম তরকারি আছে যার যা পছন্দ প্লেটে তুলে নাও।
আরাফ প্লেটে রুই মাছ ভাজি নিল, প্রিয়া ইলিশ মাছ,আজাদ সাহেব মলা মাছ নিলেন, দাদু নিলেন আলু ভাজি সবাই খেতে শুরু করলো।
আন্টি আপনিও বসুন আমাদের সাথে বললো আরাফ, ওরে জোর করে লাভ নেই খেয়ে নাও আমাদের খাওয়া শেষ না হলে সে খাবে না এভাবেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকবেন আবেগ প্রবন ভাবেই কথা গুলো বললেন আজাদ সাহেব।
আম্মু মলা মাছ খাব প্রিয়ার প্লেটে মিরা মলা মাছ দিলেন সাথে আরাফের প্লেটে মাংস,মলা,ডাল একে একে সব দিলেন আজাদ সাহেব খুব আনন্দ প্রিয় মানুষ। খারাবের ফাঁকে ফাঁকে নানা বিষয়ে কথা বলছিলেন আরাফের এদিকে মন নেই সেই প্রিয়াকে দেখছে আর ভাবছে প্রিয়ার সাথে আরেক বার মিট করতে হবে।
এর মধ্যেই সব মজাদার খাবারে আরাফের পেট ভরে গেল মিরা আন্টি জোর করলেও আরাফ প্লেটে হাত ধুয়ে ওয়াশ রুমে গেল ততক্ষনে টেবিল খালি প্রিয়ার পাত্তা নেই।
আজাদ সাহেব,দাদু,মিরা আন্টি সবাই অনেক ভালো জীবনে প্রথম এমন ভালো কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হলো আরাফের সে খুব খুশি মা কখনো বাবাকে বা আমাদের এভাবে পাশে দাঁড়িয়ে খেতে দেন নাই কাজেই ভুয়াই রান্না করে, খাবার টেবিলে দেয় আম্মু শুধু মেহমানের মতো খেতে আসেন ভালোবাসা, শান্তি কাকে বলে আরাফ প্রিয়ার বাড়িতে এসে বুঝেছে।
মেহমানদের প্রতি আজাদ,মিরার আন্তরিকতার শেষ নেই,অথচ শহরের উপরের লেবেলের মানুষ গুলো কেমন প্রাণহীন দয়া,মায়া নেই বললেই বলে চলে।
আজাদ সাহেব তার শৈশব, কৌশরের নানা গল্প করবেন,তার কর্মজীবন সাংসারিক জীবন সম্পর্কেও কথা বললেন আরাফ সব শুনে মুগ্ধ হলো তার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্মান বোধ দেখে প্রিয়ার বাবার প্রতি আরাফের শ্রদ্ধাটা কয়েকগুন বেড়ে গেল।
আরাফ এবার বিদায় নেবে দাদুর সাথে আরাফের খুব ভাব হলো কারন জন্মের পর দাদা,দাদুকে দেখে নাই বাবার ছোটবেলায় দাদুকে হারিয়েছে বড় হলে বাবাকে আরাফ দেখে নাই তবে মায়ের মুখে শুনেছে দাদা খুব পর উপকারী মানুষ ছিলেন।
আজাদ সাহেব,মিরা আন্টি সবার কাছ থেকে আরাফ বিদায় নিল দাদুর কাছে বিদায় নিতে গিয়ে তার ভিতরে কান্না চলে আসলো জীবনে প্রথম দাদুর ভালোবাসা,আদর অনুভব করলো তখনি তাকে ছেড়ে যেতে আরাফের মন চাইছিলো না তবুও যেতে হবে।
আচ্ছা দাদু প্রিয়া কোথায় ওরে দেখছি না যে, প্রিয়া মেম এর বাসায় প্রাইভেট পড়তে গেছে..!
ওহ্ কখন আসবে।
সন্ধ্যা হবে বাসায় ফিরতে বউমা প্রিয়াকে আনতে যাবে একটু পরে।
ওহ্ তাহলে কি প্রিয়ার সাথে আজ দেখা হবে না, একটু দরকার ছিলো প্রিয়ার সাথে। আরাফ তুমি কখন চলে যাবে বললেন দাদু।
সন্ধ্যা ৭ টায় আমার ট্রেন রাতের গাড়িতেই বাড়িতে ফিরব গ্রামে যাব জমি বিক্রির ব্যাপারে চাচাদের সাথে আলোচনা করবো তারপর আগামীকাল আবার রাতেই ঢাকা ফিরব।
আরাফ প্রিয়াদের বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল ৫ মিনিটের রাস্তা তার কাছে ৫ ঘন্টার মনে হচ্ছিল পা চলছে না তবু আরাফ আনমনে হাঁটতে শুরু করলো আচ্ছা ট্রেনে ওঠার আগে কি প্রিয়ার মুখটা একবার দেখে যেতে পারব….!

….চলবে।

সুরাইয়া নার্গিস আলিফ।

৩৫০জন ৩৪জন
198 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য