আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-দশ)

সুরাইয়া নার্গিস ১২ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, ০৮:৪৫:১২পূর্বাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

ওর নাম রহিমা,
প্রিয়ার বয়সী গায়ের রং শ্যামলা, হালকা-পাতলা দেহের গঠন, চোখ গুলো যদিও চোখ তারপরও দেখতে ভালোই লাগে।

সব সময় হাসি খুশি থাকে মেয়েটা, টাকার অভাবে স্কুলে যেতে পারে নাই। মাত্র ৪ বছর বয়সে ডায়রিয়ায় চিকিৎসার অভাবে মা মারা গিয়েছে, বাবা অন্য স্থানে বিয়ে করেছে। সৎ মা ঘরে আসার পর কিছুদিন আদর যত্ন করতো, তারপর আর দেখতে পারে না। সারাদিন সংসারের কাজ করায়,ভাত দেয় না, অভাবে পড়ে বাসায় কাজে আসছে।

এই বাসায় রহিমাকে সবাই স্নেহ করে, কাজের মেয়ে হিসাবে দেখে না। আকরাম সাহেবের গ্রাম থেকেই এনেছেন আরাফ সময় পেলেই রহিমাকে নিয়ে পড়াতে বসে। ক্লাস টু তে পড়ে রহিমা বই কিনে দিছে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করে। নাম ঠিকানা লিখতে পেরে রহিমা খুব খুশি, আরাফেরও ভালো লাগে রহিমা খুব মেধাবী ছাত্রী।

আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি, জ্বী ভাইজান বলেই রহিমা চলে গেল।
আরাফ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবলো না জানি পিচ্ছি প্রিয়াটা কেমন আছে..!
আমার কথা ওর মনে আছে, নাকি সব ভুলে গেছে।

সময় করে একবার আজাদ আঙ্কেল,দাদুমনি, মিরা আন্টিকে দেখতে যাওয়া উচিত ছিলো। খুব মিস করছি সবাইকে, ভাবেতে ভাবতে মনটা খারাপ হয়ে গেল। রাত তখন বেশি হয়নি আস্তে আস্তে ছাদ ছেড়ে আরাফ তিন তলার সিঁড়ে বেয়ে নিচে নেমে আসলো।

আয় বাবা আমার কাছে আয়, আরাফ মায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের সোফায় কালো ব্লেজার, সাদা সার্ট, কালো সাদা’র মিশ্রনে ট্রাই পরা সাথে কালো প্যান্ট পড়ে আরমান ভাই বসে আছেন। সে বাইরে যে একজন সেনা কর্মকর্তা সেটা পোশাক আর আভিজাত্য দেখেই বুঝা যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষন আগে আসছে এখনো পোশাক চেঞ্জ করে নাই।

-ভাইজান কেমন আছো.? -আলহামদুলিল্লাহ্ বলেই আরমান সোফা ছেড়ে উঠে আরাফকে জড়িয়ে ধরল।
যতই বিআইপি লোক হওক ভাইটা তো আমার মনে মনে ভাবল আরাফ।

-অনেকক্ষন হলো আসলাম তোমার কোন পাত্তাই নেই, কি ব্যাপার –

……চলবে।
সুরাইয়া নার্গিস আলিফ।

৩৪৪জন ২০৭জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য