“আমি তোমার জন্য এসেছি-(পর্ব-৬৮)

ডাক্তার এম ইঞ্জা রুম থেকে বিদায় নিয়ে আরাফ বাইরে আসল। সামনেই রিহান, শ্রেয়ার ভাবীকে নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করছে।দোস্ত বলেই রিহানকে আরাফ জড়িয়ে ধরল, আরাফে আমার বোন কেমন আছে? কিভাবে এমন হলো। দোস্ত সব ঠিক ছিলো মিটিং শেষে পিয়ন বাইরে খাবার আনতে গেল।

তারপর খাবারের জন্য শ্রেয়াকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না পরে ওর অফিস কক্ষের দিকে গেলাম।শ্রেয়া ফ্লোরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বাকিটা তুই জানিস।হ্যাঁ ডাক্তার কি বলছে?আমার বোন বাঁচবে তো! আরাফ রোহানের কথা শেষ হবার আগেই ডাক্তার ফয়জুল মহী ওটি থেকে বের হয়ে আসলেন।স্যার ডাক্তার সুপর্ণা ফাল্গুনী মেম কোথায়?

ওহ্ মেডাম দিনের ডিউটিতে ছিলেন কিছুক্ষন আগে চলে গেছেন।আগামী কাল সকালে আবার আসবেন,ওনার সাথে কি প্রয়োজন?মানে আমাদের রোগীকে ওনার রেফারেন্সে ভর্তি করেছিলাম।ডাক্তার ফয়জুল মহী এবার নম্ন ভাবে বললেন আপনারা শ্রেয়ার আত্মীয়?

জ্বী স্যার, রিহান,রাইসাকে ইশারা করে আরাফ বললেন ওনারা শ্রেয়ার ভাইয়া,ভাবী।ও আচ্ছা রোগীর অবস্থা বেশি ভালো না আল্লাহকে ডাকেন ২৪ঘন্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।তবে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে আপনারা প্রস্তুত থাকুন। জ্বী স্যার আমি ডাক্তার এম ইঞ্জা সাহেবের সাথে দেখা করে আসছি।আমার রক্তের গ্রুপ (০-পজেটিভ)শ্রেয়াকে রক্ত আমি দিব।

খুব ভালো আজ রাতের ডিউটিতে কারা আছে জানতে হলে ডাক্তার মোঃ মজিবুর রহমান এর সাথে দেখা করবেন।যেকোন প্রয়োজনে আমার সাথে কথা বলবেন। তাছাড়া রোগীর সম্পর্কে আপনাদের জানানো হবে বলে ডাক্তার ফয়জুর মহী চলে গেছেন।ডাক্তার পর্তুলিকা রাতে শ্রেয়ার রুমে ডিউটিতে আছেন, রিহান ওটির সামনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসছে।

এমন কিছু হবে আমি আগেই জানতাম তবু রিহানকে বুঝাতে পারলাম না।রাইসা কাঁদতেও পারছিলো   না শ্রেয়াকে খুব ভালোবাসে তার কিছু হলে রাইসা মরেই যাবে।রাইসা তুমি কাঁদছো রিহানের এমন প্রশ্নে রাইসা বললো শ্রেয়াকে ওটিতে মৃত্যুর মুখে রেখে আমি কি করে হাসবো বল?বাইরে কর্মচারীদের আহাজারি, আরাফের মুখটা চেয়ে দেখতে পারছি না।

আমার বোনটার কি থেকে কি হয়ে গেল ওর কিছু হলে আমিও বাঁচব না।রিহান,রাইসার কান্না যেনথামছিলো না, তোরা কি শুরু করলি দোস্ত।এটা হাসপাতাল এভাবে কান্নাকাটি করলে ভালো দেখায় না বলেই আরাফ রিহানকে শান্তনা দিল।আরাফ মনে মনে বললো হে আল্লা শ্রেয়া মেমকে বাঁচিয়ে দাও।সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলো আরাফ হাসপাতালের নামাজ কক্ষে এশার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।

হে আল্লা তুমি শ্রেয়াকে সুস্থ করে দেও, আমি শ্রেয়াকে বিয়ে করবো। শ্রেয়াকে ক্ষমা করুন বলেই আরাফ মোনাজাতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।”যাকে তুমি ভালোবাস তাকে না যে তোমাকে ভালোবাসে তাকে বিয়ে করো  জীবনে সুখি হতে পারবে” তাই আমি শ্রেয়াকে বিয়ে করবো।প্রিয়ার মুখটা বার বার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে, আরাফ চোখ মুছল।

পিচ্চি প্রিয়া তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও আমি একটা জীবন বাঁচাতে আজ এই কঠিন সিদ্ধান্তটা নিলাম। রাত ১২.০০ আরাফ ওটির সামনে পায়াচারি করছে হঠাৎ ডাক্তার পর্তুলিকা আসলেন।আপনি এখানে কি করছেন?জ্বী ভিতরে আমার রোগী আছে।ডাক্তার পর্তুলিকা জানতে চাইলেন রোগীর নাম কি?শেয়া আহাম্মেদ।ওনার শারীরিক অবস্থা জানি না,আপনি গিয়ে বসুন।আমি ব্যাপারটা দেখে আপনাকে জানাব বলে ডাক্তার পর্তুলিকা চলে গেলেন।

আরাফ হাসপাতালটা ঘুরে দেখল পরিষ্কার পরিছন্ন পরিবেশ আর হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, ওটিবয় সবার অমায়িক ব্যবহার।প্রত্যেকে খুব দায়িত্ববান এবং খুবই তৎপর তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। রাত ৩.৪০ মিনিট সময় যেন আর যাচ্ছে না,আচ্ছা রিহান কষ্টের রাত গুলো  এত বড় হয় কেন?জানি না দোস্ত আল্লাহকে মনে মনে ডাকছি তবু শুনছে না বলেই রিহান চেয়ারে বসল।আরাফ ভাইয়া প্লীজ আপনি বসুন সন্ধ্যা থেকেই হাঁটাহাঁটি করছেন।এভাবে থাকলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন, না ভাবী আমি ঠিক আছি।

ডাক্তার হালিম নজরুল আরাফ সাহেব বলে ডাকলেন।জ্বী আমি আরাফ।আপনি একটু আমার সাথে কাউন্টারে আসুন। আসছি বলেই আরাফ ডাক্তার হালিম নজরুল এর পিচু পিচু গেলেন।ডাক্তার হালিম নজরুল বললেন আরাফ সাহেব আমি কিন্তু বাঙ্গালী বাংলাদেশী। সত্যি স্যার এই জন্যই তো আপনাকে এত আপন আপন লাগছে বলে মুচকি হাসল আরাফ।

হ্যাঁ আপনার ভাবী নেপালিয়ার পড়াশোনা করতে এসে পরিচয় তারপর বিয়ে।ওয়াও দারুন ব্যাপার, হ্যাঁ ভিতরে চলুন বলেই দুজনেই কাউন্টারে ঢুকলেন।রাইসা একটা সময় আর জেগে থাকতে পারল না, বেঞ্চে ঘুমিয়ে পড়ছে রিহানও ঘুম ঘুম চোখে শুয়ে আছে।

আরাফ ফজর নামাজ পড়ে আসল ওরা সবাই ঘুমাচ্ছে বলে কাউকে ডাকল না।ভোর ৬.০০টা বাজে শ্রেয়া ম্যাডামের জ্ঞান ফিরলে রক্তের ব্যবস্থা হয়েছে?আরাফ এগিয়ে গেল আল্লাহ্ আমার দোয়া কবুল করেছেন শ্রেয়া সুস্থ আছে।নাহ্ পুরাপুরি সুস্থ না।চলুন রক্ত আমি দিব বলেই আরাফ ভিতরে চলে গেল।

রিহান সস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বাবা মা মারা যাবার সময় তাদের কথা দিয়েছিলাম সকল বিপদ থেকে শ্রেয়াকে রক্ষা করবো।আলহামদুলিল্লাহ্ খোদার দরবারে শুকরিয়া আদায় করলো আরাফের জন্য শ্রেয়াকে আজ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে পেলাম। আরাফ রক্ত দিয়ে এসে ওয়েটিং রুমে বসলো, রিহান আরাফের হাতটা শক্ত করে ধরল। দোস্ত তুই আমার বোনের জন্য যা করলি সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকলাম।

এসব কি পাগলামী করছিস বল, শ্রেয়া তোর বোন আর বেঁচে থাকার অবলম্বন! আরাফের কথায় রিহান অবাক হয় রাইসার দিকে তাকায়।শ্রেয়া আমাকে কিছুই জানায় নাই, তবে আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে বলে রাইসা মুচকি হাসল, শ্রেয়ার জ্ঞান ফিরাতে রিহান যেন নতুন জীবন ফিরে ফেল।আপনারা অপেক্ষা করুন, ডাক্তার মোঃ মজিবুর রহমান সাহেব ভিতরে আছেন,শ্রেয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি আপনাদের জানাবেন।

স্যার আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ, আপনাদের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ।ডাক্তার ফয়জুর মহী আরাফের কাঁধে হাতে চাপ দিয়ে মুচকি হাসলেন।আরে নাহ্ এটা আমাদের কর্তব্য, রোগীর জীবন বাঁচানোই আমাদের কাজ আপনাদের মুখের হাসিটাই আমাদের কাম্য।আরাফ দোস্ত তোর এই ঋণ আমি সারাজীবনেও শোধ করতে পারব না।

রিহান কথাটা বলেই আরাফকে জড়িয়ে ধরল, Thanks God..শ্রেয়ার জ্ঞান ফিরছে।দোস্ত আমি খুব খুশি শ্রেয়ার সাথে দেখা করা যাবে না?না দোস্ত ডাক্তার কি বললো শোনলে না, ডাক্তার মজিবুর রহমান শ্রেয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন।হ্যাঁ তাইতো আচ্ছা অপেক্ষা করি।রাইসা শ্রেয়ার জ্ঞান ফিরেছে বলেই রিহান রাইসার কাছে এগিয়ে গেল।

সারা রাত ঘুম হয়নি তাই চোখে সমস্যা হচ্ছিল একটু ওয়াশ রুমে গিয়েছিলাম ফ্রেশ হয়ে আসলাম।শ্রেয়ার জ্ঞান ফিরেছে জেনে খুব খুশি হলাম, আরাফ ভাইয়া আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিব।আরে ভাবী বাদ দেন শ্রেয়া সুস্থ আছে আপাতত এটাই ভাবুন।বাইরে থাকা শ্রমিক,কর্মকর্তা সবাই চা খেয়ে আসছে, শ্রেয়ার জ্ঞান ফিরায় সবাই খুশি।

…..চলবে।

২৩৬জন ৫৬জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য