আমি তোমার জন্য এসেছি -(পর্ব-৫৫)

 

মিতু হাসলো কোন পরিবর্তন নেই এখানে এসে নিজের বাড়িই মনে হচ্ছে।বাবা মা অনেক ভালো মানুষ, আড্ডা,গল্প শুরু তারপর মোবাইলে শত শত সেল্ফি তুলা। কিছুক্ষনের মধ্যে সেসব ছবি ফেসবুকে আপলোড হলো কত লাইক, কমেন্টস।পরিচিতরা ইনবক্সে রোহানের বউকে চিনছে, অনেকেই চিনছে না তার গল্প চলছে।

প্রিয়া মা কোথায় তুমি তাড়াতাড়ি আস সবাই রেডি বড় মামীর চিৎকারে প্রিয়া রুমে থেকে বের হয়ে আসলো।সবাই অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে চোখ নামাতে পারছে না! আজ প্রিয়া হালকা গোলাপি রঙের শাড়ী পড়েছে, চুলে খোঁপা করেছে, রজনীগন্ধা ফুল জড়িয়ে রেখেছে। দু হাতে গোলাপি রঙের চুড়ি, কানে হালকা গোলাপি রঙের দুল পড়া। পায়ে নূপুর, গোলাপি রঙের উচু হিল পড়ে টক টক শব্দে করে সবার সামনে এসে দাঁড়াল প্রিয়া।

মিরা আজাদ মুচকি হাসল আমার মা এসে পড়েছে এবার সবাই চল।শেখর সাহেব হেসে বললেন আজাদ প্রিয়ার বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবছো?বেগম শেখর থামিয়ে দিলেন কোথায় কি বলতে হবে সেটাও ভুলে গেছ নাকি! আমরা মিতুর বৌভাত খেতে যাচ্ছি ফিরে এসে এসব আলোচনা করবো সামনে চল।আজাদ হাসতে জাসতে বললো আচ্ছা ভাইজান রাতে বাসায় ফিরে সবটা শোনব, মিরা তুমি বড় ভাবিকে নিয়ে সামনে যাও।

মেজ মামী হেসে বললো বড় ভাবি ভাইজানের দোষ কি বলেন গতকাল মিতুর বিয়ে হলো। আজ প্রিয়া মামনি -কে দেখে মনে হচ্ছে বৌভাত অনুষ্টান মিতুর না প্রিয়া মায়ের। ভাবি দেখেন না প্রিয়াকে দেখতে কি মিষ্টি লাগছে, মিরা এবার কিন্তু প্রিয়ার বিয়ে নিয়ে একটু ভাব।মেজ মামীর কথা শুনে প্রিয়া লজ্জায় মাথা নিচু করে মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।এবার রুমের রুমের সবাই হাসাহাসি শুরু করে দিল, স্যরি আমার একটু দেরি হয়ে গেল বলেই মাধবী আসল।আরেকজন দেখি দেখ পাগল করতে এসে গেছে বলেই জিসানের বউ হাসল।ভাবি তুমি যে কি বলনা আমার সাজ কি তোমার চেয়ে বেশি হয়েছে বলেই মাধবী মুখে বেঞ্চি কাটল।

সবাই রেডি তো এবার চলেন বলেই আজাদ,জিসান, শেখর গাড়ির দিকে রওনা হলো।পিচনে খালামনিরা সবাই হাজির,মামা মামীরাও যাচ্ছে গ্রামের কয়েকজন মুরব্বিও, কম বয়সি ছেলে মেয়েও আসছে মিতুর শ্বশুড় বাড়িতে যাওয়ার জন্য।কোথায় তোমরা গাড়ি রেডি তো সবাই সীট নিয়ে উঠে বসে পড়ো, যারা বাদ যাবে তারা মোটরবাইকে যাবে।শেখর সাহেবের কথা শুনে সবাই যে যার মতো গাড়িতে উঠে বসল।প্রিয়া তখন বাসে দাঁড়িয়ে থেকে

সবাইকে সীটে বসিয়ে দিচ্ছে বয়স্ক, মহিলাদের সামনের সীটে বসতে দিল।বাকিরা যে যার মতো বসেছে, সবাই সীটে নিজের মতো বসে খুব খুশি।জিসান, প্রিয়া দুজনেই এতক্ষন দায়ীত্ব নিয়ে বাসে সবাইকে বসিয়ে দিল।সাবধানে যাবেন মামা বলেই জিসান বাস ড্রাইভারকে সতর্ক করে দিল। প্রায় ১০০ জন মেহমান নিয়ে বাসটা যাত্রা শুরু করলো মিতুর শ্বশুড়বাড়ীর দিকে চলে গেল।

কোথায় মা কাজ শেষ হলো এই তো বড় মামা বলেই প্রিয়া মাইক্রোবাসে ওঠে বসল। পাশাপাশি সিটে শেখর সাহেব, বড় মামী বসলেন।পাশের সিটে মিরা,আজাদ।পিচনে মেজ মামা,মেজ মামী, মাধবী,পিংকি বসলো পাশে জিসানের স্ত্রী জেমিকে নিয়ে বসেছে প্রিয়ার ভাবির সাথে বসলো।জিসান ড্রাইভারের সাথে বসেছে, সবাই ঠিক মতো জায়গা পেয়েছেন জিসান প্রশ্ন করলো।

হ্যাঁ বসেছে গাড়ি চলুক বলেই শেখর সাহেব হাসলেন, হুম আমিও বসছি বলেই মাধরী হাসল।মাইক্রোবাসে মুদু গান বাজছে “আমায় দেখে চিনে রেখো আবার দেখা হতেও পারে, দেখা হলে দেখে নিও ভালো লেগেও যেতে পারে”। গানটা শেখর সাহেব মন দিয়ে শোনছে আর স্ত্রী দিকে চেয়ে মিটমিট হাসছে।গানটা যেন সবাইকে মুগ্ধ করছে, প্রিয়াও গানটা শোনছে বেশ ভালো মন্দ না।হঠাৎ শেখর সাহেব বলে ওঠলেন প্রিয়া মিতুকে একবার কল করে বলে দেও আমরা আসছি।আচ্ছা মামা বলেই মিতু মোবাইলটা হাতে নিল।

মিতুকে দেখার জন্য প্রতিদিন মানুষ আসতেছে নতুন বউ বলে কথা সকালে তনিমা হালকা সাজিয়ে দিয়েছিলো ওটাতে চলছে।সকালে শ্রেয়া আসার পর থেকে রোহানের মা মিতুকে সাজিয়ে দিতে বলছে যদিও পার্লার থেকে সাজানোর কথা ছিলো।মিতু মত দেয়নি পার্লারে সাজে ওর এলার্জি আছে, তকের সমস্যা হতে পারে তাই রোহান না করে দিয়েছে।ঘরোয়া ভাবেই সাজাবে তাই মিতু সাজানোর দায়িত্ব শ্রেয়ার উপর, শ্রেয়া জাপানে বড় হয়েছে তবে জন্মগত ভাবে বাংলাদেশী।সে বাংলাদেশের কালচার জানে এখানে আসার পর অনেক কিছু শিখেছে পার্লারের কাজও সে পারে।

মিতুর চোখ দুটো খুব সুন্দর, মায়াবী মেয়েদের সৌন্দর্য বহুগুন বাড়িয়ে দেয় তার দুটো চোখ। মিতুকে সাজাতে ব্যস্ত চোখে কাজল লাগাতে রাগাতে বললো শ্রেয়া, আচ্ছা মিতু তোমাকে পার্লার থেকে সাজানো হয়োছিলো বুঝি! গতকালের সাজটা কিন্তু তোমাকে দারুন লাগছিলো।ভাবী আমাকে কোন পার্লারে সাজানো হয়নি।তাহলে তুমি নিজেই সেজেছো! নাহ্! ভাবি আমার ফুপাত বোন সাজিয়ে দিয়েছিলো।ওয়াও সে এত ভালো বউ সাজাতে পারে ভালো তো বলেই মিতুর কপালে একটা লাল টিপ লাগিয়ে দিল শ্রেয়া।

বাহ্ মেয়ের দেখি অনেক গুন বলেই শ্রেয়া মুচকি হাসল। আচ্ছ মিতু ওনার  নাম কি?প্রিয়া। আপনাদের এখানে হলুদ নিয়ে আসছি।হুম দেখেছি হালকা কথা হয়েছে, সেভাবে পরিচিত হইনি।প্রিয়া নামটা শোনে শ্রেয়া চমকে ওঠে বহু বছর আগে, বহুবার এই নামটা সে আরাফের কাছে শোনেছে।এটা তাহলে কোন প্রিয়া হতে পারে শ্রেয়াকে নামটা ভাবিয়ে তুলল, তবু বিষয়টা বাদ দিল।মিতু দুপুর ১২ টা বাজে তোমাদের বাড়ির লোকজন কি রওনা হয়েছে?

জানি না ভাবি এখনো কিছু জানাই নাই তবে আসতেছে মনে হয় মিতু কথা শেষ করার আগেই ওর মোবাইলটা বেজে ওঠল।মিতু মোবাইল হাতে নিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিল। শ্রেয়া পাশেই বসা কে কল দিয়েছে শ্রেয়া জানতে চাইলো?ভাবী এতক্ষন যার কথা বলছিলাম সে আমার প্রিয়া আপ্পি।আচ্ছা তুমি কথা বলো বলেই শ্রেয়া পিচন ঘুরবে ওমনি অমির চিৎকার শোনা গেল। মিতু আমি যাই ছেলেটা ডাকছে বলেই শ্রেয়া রুম থেকে বের হয়ে বাইরে গেল।প্রিয়া আপ্পি। হ্যাঁ মিতু কেমন আছো?মিতু অভিমানে বললো সারাদিনে বোনের কথা মনে পড়রলো তাহলে!

আরে পাগলি ওই বাড়িতে তুমি নতুন সদস্য সবার সাথে পরিচিত হবে।আমি ইচ্ছে করেই কল দেইনি সারাদিন আমাদের সাথে কথা বললে ওই বাড়ির সবার আপন হবে কি করে!বুঝছি বলেই মিতুর অভিমান ভাঙ্গল, আপ্পি আমি ভালো আছি।তোমরা কেমন আছো?আব্বু,আম্মু কেমন আছেন?সবাই ভালো আছে, আমরা আসতেছে বড় মামী,মামা,আব্বু,মম,ভাইয়া ভাবী সবাই আসছি।মিতু খুশি ধরে রাখতে পারছিলো না, তাড়াতাড়ি এসে পড়ো আমি মাকে খবরটা দেই।প্রিয়া অবাক হলো মিতু মা কে?আরে শ্বাশুড়ী মা।

ওহ্ আচ্ছা প্রিয়া মুগ্ধ তারমানে মিতু ওই বাড়িতে সবাইকে আপন করে নিতে পারতেছে।আপ্পি আমি রাখছি বলেই মিতু মোবাইলটা পাশে রাখলো।হ্যাঁ রে পাগলি আমরা সবাই আসতেছি।আচ্ছা রাখছি, তোমরা সাবধানে এসো বলেই মিতু ফোনটা রাখলো।রোহান সকাল থেকেই একবার মিতুর সাথে দেখা কথা, একটু কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছিলো।

কিন্তু বিয়ের বাড়ির ব্যস্ততায় আর সময় করে পারছিলো না। তার উপর বন্ধু রিদম,আবিদ তো পিচু ছাড়ছে না এদিকে শ্রেয়া ভাবী ওই যে মিতুকে সাজাচ্ছে আর তার শেষ নেই। রোহান মিতুর রুমে উঁকি দেয় কেউ নাই মিতু একা বসে আছে। সুযোগ বুঝে হঠাৎ পিচন থেকে মিতুর দু চোখ জড়িয়ে ধরলো মিতু ভয়ে চিৎকার দিবে তখনি কানের কাছে আস্তে করে বললো আমি রোহান।ওরে বাবা! তুমি চোরের মতো আসছো কেন! আমি তো ভিশন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

……চলবে।

১৫৩জন ৩২জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য