আমি তোমার জন্য এসেছি -(৫০)

আরাফ ভেবে দেখল এই বিশাল বিয়ের গেইট তৈরিতে বেশ টাকা খরচ হয়েছে আরো ব্যাপার আছে। সেই হিসাবে ওদের ১০ হাজার টাকা চাওয়ার দাবীটা অমূলক না,রোহানের সাথে কথা বললো। রোহানের মত নিয়ে আরাফ প্যান্টে হাত দিয়ে টাকা বের করলো, ওকে আপামনিরা আমি খুশি হয়ে দিচ্ছি। আপনারা সম্মানের সহীত গ্রহন করে আমাকে ধন্য করুন বলেই আরাফ টাকাটা মাধবীর দিকে এগিয়ে দিল।

৮,০০০টাকা চলবে ধন্যবাদ ভাইয়া বলেই মাধবী শরবতের গ্লাসটা আরাফের দিকে এগিয়ে দিল। আরাফ এক লাফে জায়গা ত্যাগ করলো বোন আমি বর না, সবাই হাসতে শুরু করলো।  ভাইয়া এই বয়সেও আপনার যে সৌন্দর্য! তাতে মেয়েদের দোষ কি তারা তো পাগলামী করবেই হা হা হা হা। আবিদ শরবতের গ্লাসটা ধরে রোহানের মুখে লাগিয়ে দিল, এটা আপনাদের বর। তোমরা আস আমি ভিতরে যাচ্ছি বলেই আরাফ হাসতে হাসতে ডেকোরেটরের দিকে এগিয়ে গেল।

তারপর রোহানকে মিষ্টি মুখ করিয়ে মেয়েরা ভিতরে চলে গেল, ছেলেরা রোহানকে নিয়ে ডেকোরেটরের স্টেজে বসিয়ে দিল।

আরাফ ভাইয়া এই বয়সেও মেয়েরা পাগল হয় আহারে কি স্মার্টনেস, আমার ভরা যৌবনেও কোন মেয়ে ফিরে তাকায় না বলেই আবিদ হাসল।

শোন আবিদ বিয়ে বাড়িতে অনেক সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে আছে দেখ কাউকে পটাতে পারিস কিনা! কপাল খুলে যাবে হা হা হা হা রিদম হাসল।

প্লীজ দোস্ত একটু হেল্প করনা বলেই রিদমকে জড়িয়ে ধরে আবিদ, আরে ছাড় ছাড় আমি ছেলে মেয়ে না।

ওরে তুই ছেলে বলেই জড়িয়ে ধরলাম মেয়ে হলে তো কাছেও যেতাম না।

ওকে যা দোস্ত আমি তোর জন্য চোষ্ট করবো বললো তনিমা।

ওকে দোস্ত তোর জন্য স্পেশাল গ্রিফ্ট থাকবে..আবিদও খুশি সবাই খুশি।

জিসান ডাকলো তোমরা আস খেয়ে নাও পরে গল্প করো, রোহানের খাবার কিছুক্ষনের মধ্যেই দিয়ে দিব।

ভাইয়া আমরা রোহানের সাথে খাব মেয়েরা যাও তনিমা,রিমঝিম মিতুর কাছে দেখা করতে গেল।

শ্রেয়া,রহিমা আগেই রুমে চলে আসছে, ছোট অমি অপরিচিত বিয়ে বাড়িতে একা একা ঘুরে বেড়াছে।

মনে হয় সব তার চেনা চারদিকে মানুষের হৈ চৈ অমি রোহানকে দেখতে গেল..

বিয়ের বাড়ির রঙিন আলোর ঝলকানি বাড়িতে শত শত মানুষের সমাগম কেউ আসছে খেতে কেউ চলে যাচ্ছে।

বড় মামী আমাকে ডাকছো?

আস মা,বসো।

জ্বী মামা বলো।

তুমি একটু দেখ মা বিয়ে বাড়ি বুঝই তো মেহমানদের কি অবস্থা ওরা ঠিক ভাবে খাবার পাচ্ছে কিনা।

পরিবেশন ঠিক আছে কিনা নিজেদের লোক ওদের একটু খেয়াল রাখ।

মিতু বান্ধবীসহ আরো কিছু মেয়ে মহিলা আছে, ভিতরের রুমে বসে আছে তুমি ডেকোরেটরের ভিতরে এদের নিয়ে খেতে বসিয়ে দেও।

তুমি চিন্তা করো না মামী

জিসান ভাইয়াকে বলে রাখছি আমি সবাইকে নিয়ে খাব।

আমি যাই মামী প্রিয়া ডেকোরেটর এর ভিতরে একবার ঢুকলো সব ঠিক ঠিক আছে কিনা দেখে নিল। ডেকোরেটরের ২০ টা টেবিল দেওয়া হয়েছে, টেবিল প্রতি ১০ জন বসবে, ২০০জন একসাথে বসে খেতে পারবে। টেবিল প্রতি ২ জন খাবার  পরিবেশনের দায়ীত্বে আছে।

প্রিয়ার রান্না দেখতে গেল বড় মামা শেখর সাহেব সেখানের দায়ীত্বে ব্যস্ত বিশাল আয়োজন ভাত,পোলাও মুরগির রোস্ট, কাবাব,গরু,খাসির গোস্ত, মাছ,মসুরি ডাল,পায়েস, মিষ্টি, আরো অনেক কিছু আয়োজন।প্রিয়া মা-মনি এদিকে আস। বাবুচ্ছিদের রান্না পর্যবেক্ষন করছেন বড় মামা চেয়ারে বসা প্রিয়া মামার পাশে গিয়ে দাঁড়ল জ্বী মামা।

সব ঠিক আছে তো মা-মনি জ্বী মামা আমি ঘুরে ঘুরে সব দেখেছি, সব ঠিক আছে আমার লিস্ট অনুযায়ী সব কাজ হয়েছে বলে মুচকি হাসল প্রিয়া।

বড় মামার পাশে বসে থাকা ভদ্র লোকটা বললেন শেখর সাহেব মেয়েটা কে.?

ও আমার ছোট বোন মিরার একমাত্র মেয়ে প্রিয়া।

ভাইজান ওই যে গেইট এই মেয়েই হাতের আর্ট।  মেয়র সাহেব বুঝতে পারলো এটা প্রিয়া মনে পড়ছে, ভালো।

মা-মনি

বিয়ে হয়েছে,নাকি  পড়াশোনা করছে?

প্রিয়া সালাম দিল আসসালামু আলাইকুম।

ওয়া আলাইকুম সালাম বলে মেয়র জবাব দিল।

নাহ্ ভাইজান মিতুর বড় পড়াশোনা শেষ করে ম্যাজিস্টেট হিসাবে ৬ মাস হলো জয়েন করেছে।

ওহ্ শেখর সাহেব আমার কাছে ভালো শিক্ষিত ম্যাজিস্টেট ভালো একটা ছেলে আছে যদি বিয়ে দেও আমি কথা বলবো।

শেখর সাহেব হেসে বললেন ছেলে ম্যাজিস্টেট হলে তো ভালোই, আমি মিরার সাথে কথা বলে পরে আপনাকে জানাব।

প্রিয়ার মুখটা লজ্জায় লাল বর্ণ হয়ে গেল, আমি আসছি বড় মামা বলেই প্রিয়া বাড়ির ভিতরে চলে গেল

হা হা হা হা শেখর তোমার ভাগনি লজ্জা পেয়েছে। হা হা হা হা ভাই সাহেব ঠিকই বলছেন।

আব্বা।

কে.?

আমি জিসান।

ওহ্ বলো।

আম্মা আপনাকে বাড়ির ভিতরে ডাকছে কি জানি দরকার।

আঙ্কেল আপনারা ডেকোরেটরের ভিতরে চলে যান টেবিলে খাবার দেওয়া হচ্ছে।

চলেন ভাইজান আপনাকে নিয়ে যাই, চলেন বলেই মেয়র শেখর সাহেব ডেকোরেটররে দিকে গেলেন।

প্রিয়া মিতুর রুম থেকে বের হয়ে বাইরে আসল পরনে নীল শাড়ী এটা তার মায়ের শাড়ী প্রিয়া শখ করে মাঝে মাঝে পড়ে।

মিতুর বিয়েতে পড়েছে হাঁটতে হাঁটতে থমকে গেল পিচন থেকে কেউ শাড়ির আঁচল ঢেনে ধরেছে। প্রিয়া চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল ব্যাপার কি হঠাৎ পিচন থেকে আওয়াজ আসলো  “আমি তোমার জন্য এসেছি” তুমি খুব সুন্দর।  ১২ বছর আগে প্রিয়া প্রথম এই কথাটা শুনেছিলো গুন্ডা ছেলে আরাফ এর মুখে! প্রিয়া দাদুমনি না “আমি তোমার জন্য এসেছি”..

ভাবতে ভাবতে প্রিয়ার দু-চোখ পানিতে ভেসে গেল আর কিছু বলতে পারছিলো না।

স্থির মুর্তির মতো বোবা দাঁড়িয়ে আছে, মিষ্টি আন্টি,ও মিষ্টি আন্টি কথা বলো প্রিয়ার হাঁটু ধরে ঝাঁকি দিয়ে চলছে ছোট্র অমি।

প্রিয়া

হ্যাঁ বাবা।

তুমি কে?

আমি অমি বরের সাথে এসেছি।

তুমি আমাকে চিন?

হ্যাঁ চিনি।

প্রিয়া অবাক হয়ে জানতে চাইল! কিভাবে?

গতকাল আব্বু,আম্মুর সাথে নতুন বউকে হলুদ দিতে আসছিলাম।

ওহ্!

তখন তোমায় দেখেছিলাম, এখন উঠনে দেখে চিনে ফেলছি বলে হি হি হি হি করে অমি হেসে দিল।

প্রিয়া হাঁটু ঘেরে নিচে বসছে, তখনও চোখ থেকে পানি ঝরছিলো।

ছোট্র অমি তার দু হাত দিয়ে প্রিয়ার কাজল কালো চোখের পানি মুছে দেয়।

প্রিয়া একটু মুচকি হাসি দিয়ে অমির কপালে আদর দেয়, অমিও হেসে উঠে তুমি খুব সুন্দর মিষ্টি আন্টি, বলেই প্রিয়ার দু গালে দুটো চুমু একে দেয়।

প্রিয়া পরম মমতায় স্নেহের আঁচলে অমিকে জড়িয়ে নেয় তুমি খুব লক্ষি ছেলে খুব কিউট দেখতে।

বিয়ে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া পর্ব প্রায় শেষ, মেয়েরা রোহানের হাত ধুইয়ে এখানেও ২০০০ টাকা নিয়ে গেল।

আমাকে বাতাস কর মেয়ে পক্ষও যৌতুক নেয় আমি জানতাম, ওরে বাবা আমি বিয়েই করবো না বলেই আবিদ হাসতে হাসতে রোহানের কোলে শুয়ে পড়ল।

কেন রে দোস্ত এতক্ষন তো বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলে বলেই তনিমা খেপাল হি হি হি হি।

শোন এটা আনন্দ যৌতুক না রে পাগল রিদম আবিদকে বুঝাল, গেইট,হাত ধুয়া টাকা বড় বিষয় না সবাই মিলে আনন্দ করাই এটার উদ্দেশ্য।

রোহান সাইন করো আরাফ কাজী সহ তিন জন সাক্ষী নিয়ে আসলো রোহান কবুল বলে সাইন করে দিল।

…..চলবে।

৩২৬জন ২২৫জন
39 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ