আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-পাঁচ)

সুরাইয়া নার্গিস ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৫:৩৩অপরাহ্ন উপন্যাস ১৯ মন্তব্য

“আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-পাঁচ)

মিরার বাবা আজাদ সম্পর্কে খোঁজ নেয় তখন কয়েক গ্রামের প্রায় সবাই আজাদ এর প্রশংসা করে সব দেখেই মিরার বিয়ে দেওয়া হয়। এই ১৫ বছরে মিরা আজাদকে আবিষ্কার করেছে তার জানার চেয়ে আজাদ অনেক বেশি ভালো মানুষ, একজন ভালো স্বামী, মেয়ের কাছে একজন ভালো বাবা বিয়ের পর থেকে সে খুব সুখি এমন একজন মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসাবে আজাদকে পেয়ে, মৃত্যুর আগ মুহূত্ব পর্যন্ত এই মানুষটার পাশেই থাকতে চায়।
মিরা.. মিরা! আচমকা আজাদের এমন ডাকে মিরা চমকে যায় জ্বী বল, আমাদের খেতে দাও রাত কয়টা বাজে দেখছো স্যার রাতের খাবার খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। আজাদের এমন কথায় মিরা চেয়ে দেখে দেয়াল ঘড়িতে রাত ৮.১০ মিনিট বাজে। অনেক দেরি হয়ে গেছে, প্রিয়া মাকে একটু কাজে সাহায্য করো প্লেট গুলো কিচেন থেকে নিয়ে রাখ আমি আসছি বলেই মিরা শসা,টমেটো, লেবু কাটতে বসল।

প্রিয়া মায়ের আদেশ শুনে কিচেনে ঢুকল আরাফ প্রিয়ার সাথে কথা বলার জন্য পিচু নিল আরাফ বেসিনে হাত ধুতে গেল কিন্তু প্রিয়া ওর দিকে একবারও তাকাল না আরাফ নিরাশ হয়ে খাবার টেবিলে বসল বাবাও ফ্রেশ হয়ে টেবিলে খেতে বসলেন সাথে দাদুমনি,আজাদ আঙ্কেল বসল।
টেবিলে নানা রকমের খাবার, বড় মাছ ভাজি, ছোট মাছের ভুনা, মাগুর মাছের ঝুল, মুরগির মাংস,ডাল মিরা আবার খুব ভালো ডাল রান্না করতে পারে বিয়ের পর সবাই খাবারের পরে মিরার হাতের ডাল রান্নার খুব প্রশংসা করতো।
মিরা সবার প্লেটে ভাত দিচ্ছিল, প্রিয়া মা-মনি তুমিও আস আমাদের সাথে খাবে ডাকলেন আরাফের বাবা, প্রিয়া বাবার মুখের দিকে চেয়ে আছেন, মিরা মেয়েকে ইশারা করলেন আঙ্কেলের পাশে বসতে। আরাফ বাবার পাশের চেয়ারে বসা প্রিয়ার জন্য নিজের চেয়ারটা ছেড়ে দিল অন্য চেয়ারে বসল প্রিয়া আঙ্কেলের পাশে খেতে বসল সবাই নিজের মতো করে খাচ্ছে আজাদ দেখল প্রিয়ার প্রতি আরাফের বাবার ভালোবাসা এই অল্প সময়ে তিনি প্রিয়াকে অনেক আপন করে নিয়েছে তাই নিজের পাশেই খেতে বসালেন।
মম! আমাকে ছোট মাছের ভুনা দেও, মিরা প্লেট হাতে এগিয়ে আসলো আরাফের বাবা প্রিয়ার প্লেটে মাছ তুলে দিল সবাই মুগ্ধ হলো, আরাফ মুচকি হাসলো বাবা প্রিয়াকে ভালোবেসে ফেলছে।
তার মানে প্রিয়াকে সে ভালোবাসে এটা বাসায় জানালে বাবার মত পাওয়া যাবে, প্রিয়া দেখতে বেশ সুন্দর,চোখ দুটো টানা টানা,বয়সের প্রতি বেশ লম্বা,চওড়া, গায়ের রং ফর্সা সবমিলিয়ে তাকে অপরুপ সুন্দর করে দিয়েছে প্রিয়াকে দেখতে সুন্দর প্রথম যেখাতেই যে কারো ভালো লাগবে।

আচ্ছা আজাদ আজ তাহলে আসি জায়গা নিয়ে নতুন করে কোন ঝামেলা হলে আমাকে অবশ্যই জানাবে, না হলে আরমানকে জানাবে সে সেনাবাহিনী পাঠাবে ওরা বিষয়টা দেখতে বললেন আরাফের বাবা।
সব শুনে আজাদ বললো স্যার আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আমি সবদিক ম্যানেস করে নিব আশা করি আরমানকে জানাতে হবে না ও এমনিতেই ব্যস্ত মানুষ সাধারন বিষয়ে আরমানকে জড়াতে চাই না।
তোমার প্রতি সেই বিশ্বাস আমার আছে তাই তো নিশ্চিতে বাসার কাজ শুরু করলাম তুমি এখানে আছো বলে, আচ্ছা তাহলে আমরা বেড়িয়ে পড়ি রাত অনেক হয়েছে, প্রিয়া…!
মা-মনি কোথায়…? প্রিয়া ওর রুমে পড়তে বসছে স্যার বললেন মিরা।
আচ্ছা তাহলে পড়ুক ডাকতে হবে না, বললেন মিরা আজকে রাতটা আমাদের সাথে থেকে গেলে ভালো হতো না স্যার সকালে খেয়ে তারপর যেতে পারতেন। বাবা তোমাদের ছাড়তে আমার মন চাইছে না, আরাফকে আমার কাছে রেখে দেই বলেই হাসলেন দাদুমনি। তখন ও দাদুমনিকে জড়িয় ধরে আছে আরাফ মনে হচ্ছে কত বছরের চেনা কত আপন,আজাদ চেয়ে দেখল প্রিয়া ঠিক এভাবে দাদুমনিকে লতার মতো জড়িয়ে রাখে সারাক্ষন প্রিয়া যদি এই মুহূত্বে দেখতে তাহলে কান্নাকাটি জুড়ে দিত কারন প্রিয়া দাদুমনিকে খুব ভালোবাসে তার আদর,ভালোবাসার ভাগ কাউকে দিতে নারাজ।
আরাফ এদিক -ওদিনে বার বার তাকাচ্ছে প্রিয়া এখনো আসছে না এদিকে আমাদের যাবার সময় হয়ে গেল আরাফের খুব কষ্ট হচ্ছিল যে প্রিয়াকে এক নজর দেখার জন্য এতকষ্ট করে আসলো সেই প্রিয়ার সাথেই আজ মিট করতে পারলো না চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করছে প্রিয়া…!প্রিয়া তুমি কোথায়..? প্রিয় একবার সামনে আস আমি তোমাকে খুব খুব মিস করছি রে পাগলি মন বলছিলো বার বার কিন্তু তার আওয়াজ প্রিয়ার কান পর্যন্ত হয়তো যায়নি গেলে প্রিয়া ছুটে আসতো আরাফের বুকে।

মা আজ তাহলে আসি, আপনাকে খুব মিস করবো, আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন, ভেবেছিলাম পরে অন্য একদিন আসবো কিন্তু আরাফ গতকাল বাড়িতে গিয়ে বললো আজাদ অসুস্থ দু’দিন ধরে জ্বর কথাটা শুনে আর থাকতে পারলাম না মনটা অস্তির হয়ে পড়ল আজাদকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসলাম বললেন আরাফের বাবা। আন্টি দু-দিন ধরে আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম রান্না করা আমাদের আপায়ন করলেন খুব খুশি হলাম,সত্যি মায়ের মতো লেগেছে আপনার কথা মনে থাকবে আমার। আজাদ আঙ্কেল আসি তাহলে আমার জন্য দোয়া করবেন বলেই আজাদ এর পা ছুয়ে সালাম করলো, মিরা আন্টি আঙ্কেলের সাথে ঢাকা আমাদের বাসায় বেড়াতে যাবেন বলেই সালাম করতে যাবে মিরা সরে দাঁড়াল না বাবা সালাম লাগবে না তোমার স্থান তো পায়ে না মায়ের বুকে বলেই আরাফকে মায়ের স্নেহে বুকে জড়িয়ে নিল এতো ভালোবাসায় আরাফ সিক্ত মিরাও আরাফের আচরনে মুগ্ধ আবার এসো বাবা বলে বিদায় দিল।
দাদুমনিকে সালাম করে আরাফ বিদায় নিতে গিয়ে সে কেঁদেই ফেলল ছোটবেলা দাদা,দাদুকে চোখে দেখি নাই আপনার আদর,স্নেহে দাদুর ভালোবাসা অনুভব করলাম খুব ভালো লেগেছে..! এই দুদিন আপনার কাছাকাছি থাকতে পেরে..

….চলবে!

সুরাইয়া নার্গিস আলিফ।

৩৫১জন ২৩৮জন
0 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য