আমিই আলফা আমিই ওমেগা

তৌহিদ ১ জুলাই ২০১৯, সোমবার, ১২:০২:৫২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৬ মন্তব্য

আলফা আর ওমেগার ব্যাপ্তি খুঁজে পেতে শুন্যতায় ভাসমান পদচিহ্ন আঁকার সে মনুষ্য প্রয়াস, বারংবারই হয়েছে ব্যর্থ। হতেই হবে যে! তলাবিহীন গহ্বরের অতলে মিশে যাওয়া প্রাণহীন পিঞ্জর কখনো পায়না সত্যিকার মৃত্তিকার সংস্পর্শ। নিঃসন্দেহে বোকা মানুষ তারা, এসব সত্যি জেনেও করে না জানার ভাণ।

জীবিত আর জীবাশ্মের দ্বন্দ্বে দোদুল্যমান আমি-তুমি, কেইবা অনুভব করে সে বিশাল শুন্যতা? অথচ অন্ধকার কুঠুরি থেকে তারা ডাক দেয়, বাতাসে মিশে থাকে ধূপের নোনা ঘ্রাণ। চিৎকার করে শোনাতে চায় তাদের অব্যক্ত যন্ত্রনার গুঞ্জন। হায়! আমি যে নিজেই রক্তে মাংসে গড়া লিকলিকে তালপাতার সেপাই। জীবাশ্মের আহাজারি শোনার সেই শক্তি কি আমার আছে?

অনন্তকালের মহাপ্রলয়ে ঘূর্ণায়মান ধুলিকণারা সপাটে আঘাত করে প্রতিটি নিষ্প্রাণ দেহে। চুষে চুষে প্রাণরস বের করে পিপীলিকার সারি। ষোড়শপদী হায়নার দল মাংস খুবলিয়ে সাজে বহুরূপী ড্রাকুলা। ভালোবাসার পিঞ্জিরাটি লালাভ থেকে কালো, আবার কালো থেকে নীলাভে আচ্ছাদিত হয়। আকুন্ঠ অনুভাবী শবদৃষ্টি, কুয়াশার চাদরে ভিজে কালো গোলকধাঁধায় লুকোচুরি খেলে।

বিবর্তনের ধারায় আজন্ম যত্নে লালিত নিষ্পেষিত রুহে মরিচা ধরে। আটকুঠুরী নয় দরজার ছাওনী জরাজীর্ণতায় আক্রান্ত হয় বারংবার। শেষ বিদায়ে মানুষরূপী দো পেয়ে প্রাণ; তিন আজলা মাটি ছিটিয়ে দিয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। তাদের শেষকৃত্য সমাপিত হয় শেষ বিদায়ে- ম্যাড়মেড়ে দায়সারাভাবে।

দুমড়ে মুচড়ে ওঠা নিঃসাড় দেহে হুট করেই ভর করে কাঁটা জাগানো নিশ্চুপ শুন্যতা। শক্ত খাঁটিয়ায় শুয়ে থাকা অসীমের যাত্রী হিম আলিঙ্গনে চুপি চুপি আমার কানে কানে শিস কেটে বলে –
জানোনা কি? তুমিও যে শেষ পর্যন্ত আমারই মতন! প্রস্তুতি শুরু করে দাও বন্ধুবর; মহিরূহের এ অনন্ত যাত্রাপথে আমরা আবার মিলিত হবো, আলফা আর ওমেগার কোনও স্পর্শহীন অতলে।

তৌহিদ,রংপুর

৩০/০৬/২০১৯

(আলফা এবং ওমেগা-  নতুন টেষ্টামেন্ট গ্রীক ধর্মশাস্ত্রে প্রথম এবং শেষ অক্ষরদ্বয় গ্রীক ভাষায় বর্ণিত রূপ ৷ ঐ ভাষায় আলফা এবং ওমেগা চিহ্ন স্বরূপ শুরু ও শেষ ৷ আলফা হচ্ছে জন্ম এবং ওমেগা হচ্ছে মৃত্যুর পরে অসীম যাত্রা।)

৫১৪জন ৮৩জন
95 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য