সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

আমার লাউবট

তৌহিদুল ইসলাম ১৭ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার, ১১:৫৯:১৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩০ মন্তব্য

যদি এমন হতো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, ডাক্তারের চেম্বার, হাসপাতালের গেট, হাট-বাজারে কিছু রোবট থাকতো। করোনা আক্রান্ত কেউ আশেপাশে পেলেই ক্যাঁ ক্যুঁ ক্যাঁ ক্যুঁ করে চিৎকার দিয়ে উঠতো।

এতে কিন্তু লাভ হতো দুটো- ভয়ে কেউ বের হতোনা। আর বের হলেও অন্যরা সাবধান হতাম।

আমরা মঙ্গলে রোবট পাঠিয়েছি আর এরকম একটা রোবট পৃথিবীর মানুষের জন্য বানাতে পারিনি এটা ভাবতেই মনে হচ্ছে এখনো ইবনে সিনার যুগেই বাস করছি। মানুষ না বাঁচলে মঙ্গল গ্রহে যাবে কে?

একবার আমিও কিন্তু একটা রোবট বানিয়েছিলাম, কচি লাউ দিয়ে। লাউয়ের পেটের মাঝে কাঠি ঢুকিয়ে দুই হাত, দুই পা বানিয়েছিলাম। রোবটের মুখে থার্মোমিটার ঢুকিয়ে সেটাকে থার্মো রোবটের রুপ দিয়েছিলাম। সেটার নাম দিয়েছিলাম লাউবট।

লাউবটটিকে ডিপ ফ্রীজের গায়ে ছোঁয়ালেই ধুম করে তাপমাত্রা মাপা যেত! মানে ঠান্ডা হয়ে থার্মোমিটারের পারদ নেমে আসতো আর কি! এতদিন এসব কথা শুধু আমার স্কুলের মিষ্টি ম্যাডাম জানতেন আর কাউকে বলিনি। যদিও ম্যাডাম মহা বজ্জাতিক স্মৃতি হিসেবে ক্লাসে সেটিকে বাজেয়াপ্ত করেছিলেন।

স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? যেমনটা দু’মাস আগে বীর বাহাদুর সাহেব স্বপ্নে দেখেছিলেন বাংলাদেশে করোনা হিজ আন্ডার কন্ট্রোল। সে কারনে গতকালই এদেশকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। স্বপ্নের মাঝেই চলছি আমরা। পিছে স্বপ্ন ঠেলে আমরা সামনে এগোই।

সাল ২০২০, বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে করোনা কারও কারও স্বপ্নে এসে নিজের ডিটেইলস বলে যাওয়ায় এখানে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক, পিপিই কিচ্ছু লাগছেনা। কারন ঘুমের ঘোরে সেই স্বপ্নেই আমরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। দিকনির্দেশনা দিয়েছিলো মিষ্টি ম্যাডামের বাজেয়াপ্ত করা আমার সেই লাউবটটি।

এসব স্বপ্ন লিখতে লিখতে নিজেকে সাইন্স ফিকশন লেখক মনে হচ্ছে। আমার লাউবট COVID-19 কে জয় করেছে। লাল-সবুজের একটি পতাকা উর্ধ্বাকাশে পতপত করে উড়ছে। স্বপ্নেই দেখছি সব…

৩৬৯জন ২৩৮জন
23 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য