আমার মনঃ আবোলা তাবোল-৭

মেহেরী তাজ ২৬ আগস্ট ২০১৫, বুধবার, ০৮:৫৬:২৮অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩১ মন্তব্য

আজ কিছু লিখতে বড্ড ইচ্ছে করছে। খাতা আর কলম নিয়ে বসেছি। কি লিখবো? কিছুই তো মনে আসছে না! একটা পাখি,সবুজ পাখি কয়েকটা পাতা, না এটা নয় অন্য কিছু। একটা কেল্লাপোকা আর তার অনেক গুলো পা,না এটাও নয় অন্য একটু ভালো লাগার বা মন্দ লাগার কথা একদম অন্য রকম কিছু।আমার রুমের জানালা টা খুলে দিলাম। বিছানায় বসে । একটা পুকুর অনেক গুলো গাছের প্রতিচ্ছবি, একটা আকাশ, একটা রাস্তা উফ হচ্ছে না বড্ড একঘেয়ে। রুমের জানালা মানে তো মনের জানালা। আজ আমি চাইছি মনের জানালার পাল্লাটা মেলে দিতে। কই পারছি না কেনো? নাকি দিয়েই ফেলেছি? ওর বলা কথা গুলো হয়তো প্রতিটি দেওয়ালে বারি খেয়ে কানে আসতে আসতেই বাতাসের ফিসফিসানি তে পরিনত হচ্ছে! হতে পারে তাই! এবার গভীর মনোযোগে কান পেতেছি। হ্যা এই তো শুনতে পাচ্ছি অস্পষ্ট – অস্পষ্ট – সামান্য স্পষ্ট – গোঙ্গানির শব্দ- না আবার ফিসফিসানি। আরো মনোযোগী হতে হবে। একাগ্রচিত্তে শুধু ওর কথায় শুনতে চাই। শুধু তোমার কথায় শুনবো অন্য সব বাদ। কি বলবে? আচ্ছা শুরু কর।
– তুমি……..
//হ্যা বল থেমে গেলে কেনো? শুনবো আমি তোমার কথা, বল।
-তুমি আমার কথা শুনবে?
// হ্যা, বললাম তো।
– অনেকেই তো তা চায় না। তুমি…..
// হ্যা সবটুকু বল।
-ভয় করে বড্ড ভয়।
// ভয়ের কিছু নেই বিনা দ্বিধায় বলে ফেলো।
-তুমি আমায় ভালোবাস?
// বাসি।
– মিথ্যে বল কেনো?
// মিথ্যে বলি? কিভাবে?
– ভালোবাস তো কষ্ট দাও কেনো?
//কষ্ট দেই?! সেটা কিভাবে?
– কাওকে ভালোবাসি বলার আগে আমায় প্রশ্ন কর?
// না। প্রশ্ন করার কি আছে।
– বলেছিলাম……
// কই গেলে? তোমায় পাচ্ছি না কেনো? আচ্ছা যাও আর মিথ্যা বলবো না। ফিরে এসো।
-মি-থ্যা আ-মা-র অ-প-ছ-ন্দ সে-টা তু-মি জা-নো?
//থেমে থেমে বলো না। আমি আর মিথ্যা বলবো না।
– ভেবে বলছো তো? এটা কিন্তু অনেক বড় প্রমিস। অনেকেই আছে বাহিরে সব সত্য বলে কিন্তু আমার কাছে মিথ্যা বলে।
//তাই? কি ভাবে সম্ভব?
– তুমিও বল!
// যেমন?
– তুমি তেলাপোকা ভয় পাও! কি পাও না?
// না পাই না।
– ফের মিথ্যে? চলে যাবো?
// না না যেও না। হ্যা ভয় পাই বড্ড।
– এতোদিন বলনি কেনো? পাছে আমি তোমায় ভিতু ভাবি তাই?
//হ্যা।
– হা হা হা।
// হেসো না। তোমার হাসি আমার অসহ্য লাগে।
– আচ্ছা আর হাসবো না যাও। এবার তোমার ভয় পাওয়ার লিস্টিটা আমায় দাও তো দেখি।
// কেনো তোমায় সেটা দিতে যাবো?
– আমি আগে থেকেই সাবধান হয়ে থাকবো।
// আচ্ছা। আলো আর মানুষ।
– আলো? সে তো তুমি বড্ড ভালোবাস।
// না সে মিথ্যে। আলোয় আমার দম বন্ধ লাগে। আমি অন্ধকার ভালোবাসি।
– সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু মানুষ? পাগল?
// না। পাগলে আমার ভয় নেই। আমার ভয় সব ভালো মানুষের। এরা ভালোর অভিনয় করে মাত্র।
– হুম জানলাম। তুমি একাকীত্ব ভালোবাস কেনো?
// তা না হলে তোমায় পেতাম কিভাবে? 🙂
– হা হা হা পাগল! এতো গেলো তোমার ভয়। এবার ভালোলাগা বল!
// উমমম সমুদ্র।
– ভেবে বলো।
// হ্যা ঠিক আছে।
– না তুমি আকাশ ভালোবাস সাথে পাহাড়। আকাশের বিশালতা তোমায় মুব্ধ করে দেয়, নেশা ধরায়ে দেয় আমি দেখেছি।
// সে না হয় ঠিক আছে। কিন্তু পাহাড়? সে কি ভাবে?
– সমুদ্রের ঢেউ যখন পাহাড়ের বুকে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যায় তখন তুমি ঘোর লাগা চোখে পাহাড় দেখো,ঢেউ নয়।
// কিন্তু সমুদ্রের ঐ বিশাল ঢেউ আমায় কাছে টানে। কি যেনো মনে করিয়ে দেয়। এই আছে বিশাল আকারে পরক্ষনেই শেষ।
//হু ঠিক আছে সমুদ্র হয়তো তোমায় তোমার ভবিষ্যত মনে করিয়ে দেয় এটা প্রেম না, ভয়। কিন্তু সব কিছুতেই দৃঢ়চিত্তে দাড়িয়ে থাকার প্রবনতা আছে পাহাড়ের সেই থেকেই পাহাড়ের প্রতি তোমার প্রেম। তুমি অনেকটা পাহাড়ের মত।
// কি যেনো!! আমার হয়তো সমুদ্র ভালো লাগা উচিৎ ছিলো। সমুদ্র ঢেউ এর মতই তো আমাদের জীবন।
– না তুমি যেমন আছো তেমনই থাকবে। অনেক কথা হয়েছে আজ যাই। আর একদিন আসবো।
// আর একটু থাকো দুচারটা কথা আরো বলি।
– উহম আজই সব কথা ফুরিয়ে গেলে পরে কি বলবে?
//আচ্ছা তবে যাও। ভালো থেকো প্রিয় “মন”  🙂
– নিজেকে বদলিওনা। তুমিও ভালো থাকো  🙂

৩৫৭জন ৩৫৭জন
0 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ