আমার বাবা অলরাউন্ডার

শুভ্রনীল ৪ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ০১:৩১:০৫অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩০ মন্তব্য

‘আমার বাবা অলরাউন্ডার’- কথাটা কেনো লিখছি তা বলি। পড়ালেখা ব্যতিত এমন কোনো কাজ নেই যা আমার বাবা পারেন না। (পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি কারণ পাঁচটা সন্তান রেখে যখন দাদা মারা গিয়েছিলেন তখন বাবা ছিলেন ১ বছরের) থাক সে সব কথা। এখন বাবার কথা বলি।

 

গেরস্ত/মধ্যবিত্ত সংসার হওয়ায় চতুর্মুখী কাজে অভ্যস্ত বাবা। নিজেদের জমির কাজ বাবা নিজেই করেন। ধান লাগা থেকে শুরু করে ধান মাড়াই, ঘরে তোলা সব গুলো হয় বাবার তত্ত্বাবধায়ণে। এছাড়াও সংসারের যাবতীয় কাজ সহ বাইরেও অনেক কাজ করতে পারেন। যেমন মাটির ঘর থেকে শুরু করে ইটের ঘর তৈরি, ঘর কার্নিশ করা লেপপোছ করা। আমার বাবা খুব সুন্দর আর সুস্বাদু রান্না করতে পারেন। বিয়ে বাড়ি কিংবা মজলিস বাড়িতে রান্না করেন। একটা মুহূর্ত বাবা বসে থাকেন না। ঘুমটুকু ছাড়া বিশ্রামের কথা তিঁনি ভাবতেও পারেন না। আমার জীবনে এতো পরিশ্রমী মানুষ খুব কম দেখেছি।

 

বাবার দৈনন্দিন জীবন- বাবা ভোরে উঠেন ঘুম থেকে। প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে জমিতে যান। বাবা জমি গুলোর খুব যত্ন করেন। যেমন যত্ন করে সন্তান লালন পালন করতে হয় বাবা ঠিক তেমন করেই ফসল ফলান। কোন জমিতে কোন সার, ওষুধ কতোটুকু লাগবে তা বাবা খুব ভালো করেই জানেন। জমির কাজ শেষ করে এসে সকালের খাবার খেয়ে মেজ ভাইয়ার স্টলে যান। সেখানে গিয়ে টিউবয়েল চেপে সারাদিনের জন্য পানি তুলে এবং আর যা কাজ থাকে করে দেন। তারপর বাসায় এসে সংসারের টুকটাক কাজ যা থাকে করে দেন। বৌমাদের প্রয়োজনী হাটবাজার বাবাই করে দেন। দুপুরের নামাজ পড়ে খেয়ে চলে যান জমিতে। আসরের নামাজ মাঠেই পড়েন। সন্ধ্যায় বাসায় এসে মাগরিবের নামাজ পড়ে খেয়ে এশার নামাজ শেষ করেই ঘুমিয়ে যান।

 

বাবা কবর খুঁড়েন। আত্মীয়-স্বজন সহ আশেপাশের সমস্ত প্রতিবেশীদের কবর বাবাই রেডি করে দেন। ১০০ উপরে কবর খুঁড়েছেন।

 

স্বভাবে-  বাবা ভীষণ রাগী কিন্তু অত্যন্ত নির্ভীক, সৎ ও ভদ্র মানুষ। আগ বাড়িয়ে কারো সাথে ঝামেলাতে জড়ান না। কেউ পায়ে পা লাগিয়ে ঝামেলা করতে এলে কিন্তু একদম ছাড় দেন না। আশেপাশের মানুষ খুব শ্রদ্ধা সন্মান এবং ভালোবাসেন বাবার সুন্দর ব্যবহারের জন্য। মায়ের ভাষ্যমতে আমি বাবার কার্বন কপি। স্বভাবে, আচার আচরণে, চালচলনে এমনকি দেখতেও একদম বাবার মতো। বাবা অনেক রাগী হলেও অনেক নরম মনের মানুষ। কাজের সূত্রে বড় ভাইয়া সিলেটে থাকেন পরিবার সহ। তো যখনই ভাইয়ার সাথে কথা বলেন তিনি কান্না করে ছোট বাবুদের মতো। আমরা সবাই কাছেই থাকি তবুও বড় সন্তানকে কাছে না পাওয়ায় কষ্ট পান ভীষণ। বাবা সব সন্তানকেই খুব ভালোবাসেন। তবে আমাকে বেশি ভালোবাসেন ভাইয়ারা বলেন (কথা কিন্তু সত্যি)। আবার মা বলেন আমি নাকি বাবাকে বেশি ভালোবাসি (এটাও কিন্তু নিদারুণ সত্য) মা বাবার মধ্যে রাগারাগী, চিৎকার চেঁচামেচি হলে আমরা সব ভাই বোন বাবার পক্ষ নিই। 

 

নিজের বাবা বলে নয়, সত্যিই বলছি এমন কোনো কাজ নেই যা বাবা পারেন না। আমার বাবা অলরাউন্ডার। আমি/আমরা সবাই গর্বিত এমন একজন বাবার সন্তান হয়ে। মহান রাব্বুল আলামীন আমার সহ পৃথিবীর সমস্ত বাবাদের ভালো রাখুন সুস্থ রাখুন। আমীন

২৭৪জন ৩০জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য