মহামারি ঘাতক করোনাকালে দেশের নিম্নাঞ্চলে বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত অবস্থায়ও গত হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উৎসব। তো সোনেলা ব্লগের সম্মানিত ব্লগারবৃন্দ কে কোথায় কোন অবস্থায় আছেন, তা আমার অজানা। তবুও ইসলাম ধর্মাবলম্বী সহ-ব্লগার ভাই ও বোনদের সবাইকে গত হওয়া পবিত্র ঈদ-উল-আজহা’র প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্লগ ব্লগিং ও ব্লগে মন্তব্য নিয়ে কিছুক্ষণ বকবক করতে চাই। আশা করি কেউ বিরক্ত না হয়ে আমার এই নগন্য লেখার সাথে থাকবেন এবং আমার দেখা ব্লগ ব্লগিং ও ব্লগে মন্তব্যের বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা জেনে নিন। 

বর্তমানে মোবাইল ফোন হাতে-হাতে ছড়াছড়ি। ঘরে ঘরে কম্পিউটার, ল্যাপটপ আর ওয়াই ফাই নামের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। একসময় কারোর হাতে মোবাইল ফোন দেখলেই, সামনে গিয়ে উঁকি মেরে দেখতাম। আর ভাবতাম, কী দিয়া যে তৈরি করলো এই মোবাইল! ঈশ! যদি আমি একটা কিনতে পারতাম!

এভাবে ভাবতে ভাবতে ২০০৬ ইং সালে নোকিয়া ১১১০ মডেলের ৩৬০০ টাকা দিয়ে একটা মোবাইল সেট নিজেই কিনে ফেললাম। সাথে ৫৫০ টাকা দিয়ে একটা বাংলালিঙ্ক সিম কার্ডও কিনলাম। এরপর থেকে শুরু করলাম, নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা অপরের সাথে কথা বলা এবং  মেসেজের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে বার্তা পাঠানো।

এরপর ২০০৭ ইংরেজি সালে নোকিয়া N-73 মডেলের পুরাতন একটা মোবাইল সেট কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে থাকি। তখনকার সময়ে নেটওয়ার্কভিত্তিক ইন্টারনেটের সুবিধা ছিল GPRS সার্ভিস। GPRS এর পূর্ণরূপ হলো, General Packet Radio Service.  সেসময় নোকিয়া বাটন মোবাইলের সেটিং থেকে কনফিগারেশন সেটিং করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতো। নিজেও সেভাবেই সেটিং করে ইন্টারনেট ব্যহার করতাম। অনেক সময় নিজে নিজে কনফিগারেশন সেটিং করেও যখন ইন্টারনেট সংযোগ পেতাম না, তখন সরাসরি ব্যবহার করা নেটওয়ার্ক কোম্পানির হেল্পলাইন 121– এ কল করে কনফিগারেশন সেটিং পাঠাতে বলতাম। তখন তাঁরা অটোমেটিক কনফিগারেশন সেটিং পাঠালে, তা মোবাইলে সেভ করে নিতাম। এরপর বুকেরপাটা টান করে অনলাইনে থাকা বিভিন্ন সাইটে প্রবেশ করতাম। এটাই ছিলো আমার নিয়মিত অভ্যাস।

কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পর মোবাইলটি আর ভালো লাগছিল না। ভালো না লাগার করণ ছিলো শুধু একটাই। তাহলে নোকিয়া N-73 মডেল মোবাইলে বাংলা লেখা যেতো না। আবার মোবাইল স্ক্রিনেও বাংলা লেখা প্রদর্শিত হতো না। এটাই ছিল ভালো না লাগার কারণ!

এরপর ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে নোকিয়া C-3 দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম। তাতেও বাংলা লেখা যেতো না। মনের আক্ষেপ আর আফসোস শুধু থেকেই যেতো। তারপরও বিশ্ববিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলে সার্চ করা ছিল আমার প্রতিদিনের রুটিনমাফিক কাজ। সেসব কাজের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ব্লগে উঁকি মারা সহ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া-সহ আরও অনেককিছু। তবে বেশকিছু অনলাইনভিত্তিক দিনলিপি বা ব্লগে সময়টা বেশি ব্যয় করতাম। বিভিন্ন ব্লগ সাইটে ব্লগারদের লেখাগুলো পড়তে খুবই ভালো লাগতো। এই ভালো লাগা থেকে নিজের লিখতে ইচ্ছে করতো।

একসময় নোকিয়া বাটন মোবাইল C-3 দিয়ে এক ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। কিন্তু নোকিয়া C-3 মোবাইলে তো বাংলা লেখা যায় না। কোনরকমভাবে ইংরেজি বর্ণ দিয়ে স্বল্পসংখ্যক শব্দের একটা লেখা জমা দিলাম। ব্লগে লেখা জমা দিয়ে বেশকিছুদিন আর ব্লগে প্রবেশ করিনি।

এরপর প্রায় দুই তিনমাস পর অনেক কষ্ট করে মনের স্বাদ মেটানোর জন্য সিম্ফনি W-82 মডেল-এর একটা মোবাইল কিনলাম। মোবাইলটা কিনেই, সেইদিনই ব্লগে প্রবেশ করলাম। উদ্দেশ্য হলো, আমার জমা দেওয়া লেখাটার অবস্থা দেখা। দেখি সম্মানিত মডারেটর লেখার শিরোনাম বাংলায় দেওয়ার জন্য বলছে। সিম্ফনি এন্ড্রোয়েড মোবাইলে বাংলা লেখা যেত। লেখার শিরোনাম দিলাম, “আমিও মানুষ”। লেখার শিরোনাম বাংলায় লিখে, ব্লগে জমা দিয়ে আবার কিছুদিনের জন্য গা-ঢাকা দিলাম। গা-ঢাকা দেওয়ার প্রায় কয়েকমাস পর আবার ব্লগে প্রবেশ করলাম। দেখি আমার লেখায় কয়েকজন সম্মানিত লেখকদের মূল্যবান মন্তব্য। সেসব মন্তব্যের উত্তর দিতে গেয়েই, আজ অবধি ব্লগ আর ব্লগিংয়ের মাঝেই আটকা পড়ে আছি। ব্লগে লিখছি, পড়ছি, দেখেও যাচ্ছি। অনেক সম্মানিত লেখক/লেখিকাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গড়েছি। শুরু থেকে এপর্যন্ত ব্লগ, ব্লগিং এবং ব্লগের পোস্টের মন্তব্য বিষয়ে সামান্যতম ধ্যানধারণাও মোটামুটি অর্জন করতে পেরেছি বলেও মনে হয়।

ব্লগ: আমার জানা মতে ”ব্লগ” শব্দটি ইংরেজী (Blog), এর বাংলা প্রতিশব্দ৷ যা এক ধরনের অনলাইন ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা। ইংরেজি (Blog) শব্দটি আবার (Weblog) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। যেটুকু জানা যায়, এই ব্লগের ইতিহাস এবং অনলাইন দিনপত্রী ১৯৯৭ ইংরেজি সাল থেকে শুরু হয়ে অদ্যাবধি চলছে। প্রায় ব্লগই মূলতঃ লেখায় আকিন, কিছু কিছু আছে শিল্প(আর্টব্লগ), ছবি(ফটোব্লগ)। ডিসেম্বর ২০০৭এর হিসাবে, ব্লগ খোঁজারু ইঞ্জিন “টেকনোরাটি” প্রায় এগারো কোটি বার লাখের ও বেশি ব্লগের হদিশ পেয়েছে।

ব্লগার: যারা আমার আগে থেকে ব্লগে লিখেন, তাঁরা অবশ্যই ব্লগ বিষয়ে আমার চেয়ে ভালোই জানেন। তা আর নতুন করে নতুন কিছু উপস্থাপন করার কোনও দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। তবে আমরা যারা ব্লগে লেখালেখি করছি, সবাই জানি যিনি ব্লগে লিখেন; তাকে “ব্লগার” বলে। তবে সহ-ব্লগারগণ একে অপরকে লেখক লেখিকা বলেই বেশি সম্বোধন করে থাকে, করিও। যেহেতু একই প্লাটফরমে একে অপরের সাথে লেখা শেয়ায় করছে, তাই। তারপর পছন্দ অপছন্দের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যাঁর যাঁর মনের ভাব জানান দিচ্ছে। লেখা কেমন হয়েছে, তাও মন্তব্যের মাঝে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লেখার মাঝে কোনও বানান ভুল থাকলে তাও সহ-ব্লগারগণ জানিয়ে দিচ্ছে বা দেয়ও।

ব্লগিং: যিনি যেকোনো অনলাইনভিত্তিক দিনলিপি ব্লগে নিবন্ধিত হয়ে ব্লগে পোষ্ট করেন, তাকে বলে “ব্লগার”। আর ব্লগে পোস্ট করা বা লেখালেখি করাই হচ্ছে “ব্লগিং”।

মন্তবব্যের মাঝে সুসম্পর্ক: ব্লগাররা প্রতিনিয়ত তাদের পছন্দের ওয়েবসাইটে কনটেন্ট যুক্ত করেন। আর পাঠক সেখানে লেখার উপর ভিত্তি করে তাদের মন্তব্য করতে পারেন। মন্তব্য দানকারী পাঠককে অবশ্যই ব্লগের নিবন্ধিত পাঠক হতে হবে। মানে হচ্ছে, একজন ব্লগারের লেখনীয় পোস্টে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার আগে তাকে সেই ব্লগে লগইন করতে হবে। নিবন্ধিত সদস্য ছাড়া কিছুতেই মন্তব্য করতে পারবে না, পারেও না। ব্লগের পোস্টে আর ব্লগার অথবা লেখক-লেখিকার লেখায় মন্তব্য হলো একরকম চুম্বকের আকর্ষণের মতন। চুম্বক যেমন লোহাকে কাছে টানে, তেমনিভাবে মন্তব্যকারীকে পোস্টদাতা বা লেখক-লেখিকা ভালোবেসে ফেলে। তারপর একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাব গড়ে উঠে এবং খুব অল্পদিনের মধ্যেই সুসম্পর্কও গড়ে উঠছে।

সহ-ব্লগারদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে, একমাত্র একে অপরের লেখায় বা পোস্টে গঠনমুলক মন্তব্যের কারণে। এটা আমরা অনেকেই বুঝি, আবার অনেকেই বুঝেও বুঝি না। শুধু নিজের পোস্টে অন্যের করা  মন্তব্যেগুলোর দায়সারা মন্তব্য “ধন্যবাদ, শুভকামনা, সাধুবাদ, ভালো থাকবেন” ইত্যাদি লিখেই সরে যাচ্ছি। এরপরও যদি কোনও ব্লগার প্রত্যুত্তর মন্তব্য করে থাকেন,সের মন্তব্যের আর জবাব দেওয়া হয় না। এতে  সম্মানিত মন্তব্যকারীর মনে খুব কষ্ট পাওয়া ছাড়া শান্তি পাচ্ছে না বলেই আমার মনে হয়। তাই ব্লগের ব্লগারদের উচিৎ নিজের লেখা পোস্ট-সহ সহ-ব্লগারদের করা মন্তব্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া এবং যথাসময়ে মন্তব্যের জবাব দেওয়াটাই ভালো বলে আমি মনে করি। অনেক সময় নিজেও কারোর পোস্টে মন্তব্য করা মন্তব্যের জবাবের অপেক্ষায় থাকি।

ব্লগ পোস্ট: সাম্প্রতিক কালে অনলাইনে থাকা বেশিরভাগ ব্লগ সাংবাদিকতার একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে। একজন দায়িত্বশীল ব্লগার নিজের এলাকার সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ নিয়ে এক বা একাধিক লেখা ব্লগে আপডেট করেন বা পোস্ট করে থাকেন। অনেক সময় কোন খবরের শিরোনামের উপরও ব্লগার তার মতপোষন করে লিখে ব্লগে পোস্ট করে থাকেন। আবার কেউ কবিতা লিখেন। কেউ ইতিহাস লিখেন। কেউ সাহিত্য নিয়ে লিখেন। কেউ আবার ছোটগল্প ও রম্য লিখে ব্লগে পোস্ট করেন। যে যা-ই লিখুক-না-কেন, ব্লগে পোস্ট প্রকাশ হলেই সেটাকে বলে ব্লগপোস্ট।

সোনেলা ব্লগে আমি: তবে আমার মনে হয়, আমাদের এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগের জন্মকাল ১ অক্টোবর ২০১২, সোমবার। ব্লগে প্রথম পোস্ট করেছিলেন, সম্মানিত লেখক “জিসান শা ইকরাম।” পোস্টের শিরোনাম ছিলো, “বলিষ্ঠ ভাবে বলতে পারিনা……!” এরপর পোস্ট করেন, সম্মানিত ব্লগার “নাজমুল আহসান”। সম্মানিত ব্লগার “নাজমুল আহসান”-এর লেখার শিরোনাম ছিলো, “আমাদের বীরেরা, আমাদের মীর জাফরেরা।” এপর্যন্ত সোনেলা ব্লগে  পোস্টের সংখ্যা ১১৭০৪ এর-ও উপরে। 

ব্যক্তিগত: আমি এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগে নিবন্ধিত হয়েছি, ২০১৭ ইং সালের মার্চ মাসের মাসের ২ তারিখ। লেখার শিরোনাম ছিল, “সোনেলা ব্লগ ডটকম এর সকল ব্লগার/লেখকবৃন্দকে নমস্কার!” ১৮+১৮+১=৩৭ টি। আমার নগণ্য লেখনীয় পোস্টে ১৮ জন সম্মানিত লেখক-লেখিকার করা মন্তব্যের উওর দিয়ে গিয়েই হয়তো এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগে মায়াজালে আটকা পড়েছি। মনে হয় আর কখনো সোনেলা ব্লগ থেকে নিজেকে আড়াল করা যাবে  না।

দুঃখ আমার: আমার চেয়েও হৃদয়বান সম্মানিত ব্লগার এই সোনেলা ব্লগে আরও অনেক আছে। তাঁরা প্রতিদিন নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে সোনেলা ব্লগে পোস্ট করে যাচ্ছেন। কিন্তু আমি অধম শুধু সময়ের অভাবে এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগে নিয়মিত হতে পারছি না। কারণ, আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ, তাই। তবে আমার হাতে থাকা ব্যবহারিক মোবাইল থেকে প্রতিদিন কয়েকবার ব্লগে উঁকি দিই। সবার পোস্ট ফলো করি। সময়ের অভাবে পোস্টে মন্তব্য করতে বা দিতে পারি না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখিত! এতে যদি কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে হাতজোড় করে মিনতি করছি, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য। পরিশেষে সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ, সবাই সবার লেখা পড়ে গঠনমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে সহ-ব্লগারকে আরও বেশি বেশি লিখতে উৎসাহিত করবেন বলে আশা করি।

২৮১জন ৫৩জন
0 Shares

৩৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য