আমার ছেলেবেলার মজার স্মৃতি

ইঞ্জা ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৪:২৬:৫৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৫৩ মন্তব্য

আমার ছেলেবেলার কত মজার স্মৃতি না রয়ে গেছে, যা বলে শেষ করা যাবেনা, এমনই কিছু স্মৃতি আজ তুলে ধরছি আপনাদের জন্য।

ঘটনাঃ ১

 

বয়স হয়ত ছয় সাত হবে, আমার ফার্স্ট কাজিনরা জীপগাড়ি (ছাদ ছাড়া) কিনেছে, সেটাই নিয়ে কক্সবাজার যাবে।

ছোট বলে আব্বা তো যেতেই দেবেনা, কাজিনরা বলে কয়ে নিয়ে গেলো সাথে।

প্রথম দিন কক্সবাজার পোঁছেছি বিকেলের আগে আগে, প্রথমেই ড্রাইভার জীপগাড়ি সি বীচের বালির মধ্যে নামিয়ে দিয়ে সাই সাই করে চালাতে লাগলো, আমাদের সে কি আনন্দ, জীবনের প্রথম একটা গাড়ী নিয়ে বীচে নেমে গেছি, বুঝতেই পারছেন আনন্দ কেমন হতে পারে।

 

একসময় ড্রাইবার গাড়ী পানির পাশাপাশি, বলতে গেলে পানির উপর দিয়েই চালাচ্ছে, বেশ ঘুরাঘুরির পর হটাৎ জীপের চাকা ভেজা বালিতে গেলো আটকে, গাড়ীর চাকা বারবার স্লিপ কাটছে কিন্তু ফোর হুইল গাড়িটা আর উঠেনা।

বড় কাজিন গিয়ে লোকজন ডেকে নিয়ে গাড়ি ধাক্কা লাগালেন, আমি ছাড়া সবাই ধাক্কাচ্ছে, দেখা গেলো গাড়ি আরও বালিতে দেবে যাচ্ছে, এদিকে জোয়ার শুরু হয়ে গেছে, গাড়ী তুলতে না পারলে পুরা গাড়ীই পানির নিচে ডুববে।

কেউ একজন দৌঁড়ে গেলো ক্রেন আনার জন্য, একসময় ক্রেন এলে গাড়ী টেনে তোলা হলো।

সবাই হাফ ছেড়ে গাড়িতে উঠে বসে ফিরে এলাম পুরাতন সাইমন হোটেলে।

 

পরদিন সবাই হৈ-হুল্লোড় করতে করতে বীচে গেলাম, সবাই পানিতে নামছে দেখে আমারও আগ্রহ হলো পানিতে ঝাপাঝাপির কথা কিন্তু পানিতে নামার মতো কোন কাপড় আমার আনা হয়নি, তাহলে নামবো কি করে?

কাজিন সব এক জোট হয়ে কুবুদ্ধি দিতে লাগলো সব খুলেই পানিতে নামবো, আমি তো রাজিই না, একসময় কুবুদ্ধি মনে ধরলো, আশে পাশে কোন মানুষ নেই, তখনকার সময় মানুষ এখনকার মতো যেতোনা।

আমি পুরো নাঙ্গা হয়ে দিলাম দৌঁড়, পানিতে শুয়ে পড়লাম, ঝাপাঝাপি করছি, এই সুযোগে বড় কাজিন আমাকে ক্যামেরা বন্দী কিরে নিলো।

এখনো সেই ছবি বড় কাজিনের এলবামের শোভা বাড়াচ্ছে।

 

ঘটনাঃ ২

 

তখন প্রচলিত ছিলো, ভূমিকম্পের সময় পায়ে সমস্যা আছে এমন কারো পা টেনে ধরলে এবং আরেক পা দিয়ে চেপে ধরলে পায়ের সমস্যা ঠিক হয়ে যায়।

একদিন হটাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে আমার নানা আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে চেপে ধরলেন আর আমাকে বললেন, “এই টান দে, টান দে”, আমি তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি, বলেন বুঝে উঠার আগেই ভূমিকম্প ফুরুৎ।

না দিলে এক বকা, ” শালা তোকে বললাম তুই টান, অথচ তুই বেয়াক্কেলের মতো চেয়ে রয়েছিস, যাহ তোকে দিয়ে কিচ্চু হবেনা”।

আমি অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর হয়ে রইলাম।

 

ঘটনাঃ ৩

 

নানার শখ হলো নাতি নাতনিকে সাঁতার শেখাবেন, নানার শ্যালক মানে আমার আম্মার মামাদের বড় একটা পুকুর আছে, দিঘির চেয়ে ছোট হলেও পুকুর হিসাবে বড়ই, সেইখানেই নিয়ে গেলেন, আম্মার মামা মানে আমার আরেক নানা টায়ার টিউব নিয়ে রেডি, আমরাও রেডি।

গোলমাল লাগলো যখন শুনলো আমি ফুল প্যান্ট পড়ে নামবো, নানাদের মাথায় হাত, ছোট নানা খুঁজে পেতে এক আন্ডারওয়্যার এনে দিয়ে বললেন, “এইটা পড়ো”।

শুনেই আঁতকে উঠলাম, পারলে ভৌঁ দৌঁড় দিই।

বড় নানা (আম্মার বড় মামা) খ্যাঁক করে মুরগীর মতো ধরে জোর করে ধরে পড়তে বাধ্য করলেন।

কি আর করা, বাধ্য হয়ে রওনা দিলাম পুকুর ঘাটে, লজ্জায় আমি মাথা তুলতে পারছিলাম না, নানা আমাদেরকে টিউব ধরিয়ে দিয়ে পানিতে নামিয়ে দিলেন।

আমরা সাঁতার শিখছি, ইতিমধ্যে পাড়ার পোলাপাইন সব হাজির তামশা দেখতে, কিছু পোলাপাইন তো আরেক কাঠি বাড়া, তখন ৭০৭ নামের সাবান বিক্রি হতো যার টিভি এড বেশ পপুলার ছিলো, যে এডে ৭০৭ গানের সাথে সুইমিংপুলের পানিতে ঝাম্প করতো।

সেই শয়তান পোলাপাইনও সেই স্টাইলে ৭০৭ বলেই পানিতে ঝাপিয়ে পড়তে লাগলো, বুঝতেই পারছেন টার্গেট আমি।

ঐ দিনের পর তওবা পড়ে আর যায়নি সাঁতার শিখতে।

 

সমাপ্ত।

৩০৩জন ৭০জন
39 Shares

৫৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য