আমাদের নগরী (২)

রুহুল ২৫ জানুয়ারী ২০১৬, সোমবার, ১২:০৯:০৩অপরাহ্ন বিবিধ ১২ মন্তব্য

সকালের চা খেতে খেতে সারাদিনের কর্মপরিকল্পনা মিলয়ে নিচ্ছিলেন রাজীব। রাজনৈতিক সভা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোথায় কতটা সময় থাকবেন তারই হিসাব।  আজ আবার শিরিনের আর রাজীব্রর বিবাহবার্ষিকী। । শিরিন তার বর্তমান তিন স্ত্রীর কনিষ্ঠ। তাকে নিয়েও বের হতে হবে। অন্তত একসাথে বসে কিছু খেতে তো হবে। বউটার নাম শিরিন হলেও রাজীব তাকে রাংা বলে ডাকেন। দুধে আলতা যার গায়ের রং তাকে রাংা বলাই ভালো। শিরিন ভালো নাচে এটা একটা গুন তার, এই গুনের পাশাপাশি রয়েছে তার চমতকার দেহ। ৩২/২৪/৩৫  তার শেপ।

গত বছর রাজীবের অন্যতম শত্রু বাংলাদেশ  আন্ডারওয়ার্ল্ড এর নরসিংদী জেলার ডন আলামিন হত্যা সেলিব্রেট করতে এক লেট নাইট পার্টির আয়োজন করেছিলেন রাজীব। কলাবাগান ড্যান্স ক্লাব থেকে এই মেয়েটিকে হায়ার করা হয়। লেট নাইট পার্টিতে এসেছিলেন মান্যগণ্য ব্যক্তি রা। আর প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের ক্ষমতাসীন মন্ত্রী শামিম সরকার। লোকে তাকে কানা শামীম বলেই ডাকে। অথচ চার নয়নের আলো  ভালোই রয়েছে। ঠিক কেনো লোকে তাকে কানা শামীম বলে তা বোধগম্য হয়না রাজীবের। সে রাতে শামিমের সাথে রাত কাটিয়েছিলো শিরিন। মধ্যরাতে মেয়েটির মধু ভোগ করে যাবার সময় রাজীব কে ডেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শামীম

“কাল্লু এই মালটারে তোর কাছেই রাখবি। রক্ষিতা না, বউ বানায়া রাখবি। বিয়া করবি। তিন কবুলের বিয়া। এই মেয়েটা রতির ষোলকলা জানে কি কইলাম বুঝচ্ছস?”

মাথা নেড়েছিলো রাজীব। বস কে খুশি করতে পরদিন সকালে মেয়েটিকে বিয়ে করে রাজীব। কাজি অফিসে গিয়েছিলো মন্ত্রীর গাড়ি নিয়ে। সাথে মন্ত্রী ও ছিলেন।

রাজীব ভেবেছিলো তার সেকেলে প্রথম আর দ্বিতীয় স্ত্রী যে বিকৃত যৌন সুখের সন্ধান তাকে দিতে পারেনি তা হয়তো দেবে এই নারী। আজ রাতেই হতে যাচ্ছে তার জীবনে চেয়ে আসা না পাওয়া কষ্টের অবসান।  সেদিন রাংার সাথে বাসর রাত হয়নি রাজীবের।  বাসর হয়েছিলো কানা শামিমের সাথে। রাজীব দরজার বাইরে বসে ছিলো সারারাত যদি বসের কিছু লাগে তা এনে দেওয়ার জন্য তার হাতে রয়েছে বসের মদের বোরল। রাত আড়াইটা হবে। বস বের হচ্ছেনা দেখে মদের বোতল খুলে ফেলে রাজীব।  একটু একটু করে খেয়ে ফেলে প্রায় অনেকটা। বোতল অর্ধেক হবার পর রাগ উঠে যায় রাজীবের।  শালা বিয়া করলাম আমি, ভরণ পোষণ দিমু আমি। গতকাল মধু খাইলি তুই। আজ রাইতে না হয় আমারেই খাইতে দিতি। ইচ্ছে করছে বোতল ভেংে তোর পেটে ঢুকিয়ে দেই। বাকি মদ টুকুর মায়ায় বোতল ভাংেনি ড়াজীব।  বাকি মদ খেয়ে বোতল ভাংার পরিকল্পনা করেছিলো সে। কিছুই করা হয়নি তার। মদ খেয়ে সিড়িতে উপুর হয়ে ছিলো রাজীব। চোখ মেলে দেখতে পেলো সে শিরিনের বিছানায় শুয়ে আছে। বিপত্তি টা বাজিলো পরেরদিন। শিরিনের সাথে সামান্য আদর সোহাগ করে শেষ পর্যায়ের কিছু আনন্দ নেয়ার আগে শিরিন জানালো  প্রকৃতি তার ভেতরের দূষিত রক্ত বের করার কাজ শুরু করেছে। মন খারাপ করে এক গ্লাস ভোদকা খেয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলো রাজীব।

 

পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ায় উদাস হয়ে গেলেন রাজীব।চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। বিরস বদনে মুখে সিগেরেট নিয়ে ড্রাইভার কে গারি বের করতে বললেন। যদিও তার এই প্রতিপত্তি,  ক্ষমতা, সম্পদ সব কিছুই হয়েছে শামীমের বদৌলতে। শামিমের সব অন্যায় আপত্তি মেনে নিয়েছে রাজীব। বিসর্জন দিয়েছে ভালোবাসাকেও। সব কিছুই ঠিক ছিলো কিন্তু শামীম একদিন বলেই বসল

“রাজীব,  তোর মেয়েটাতো বড় হয়ে গেলো। বিয়ে টিয়ে দেবার আগে একটু————-।

রাজীব সেদিন  ই বুঝেছিলো এই মাল টাকে খতম করা প্রয়োজন। উপায় খুজে বেড়াচ্ছে রাজীব।  নয়তো মেয়েটাকেও হারানোর আশংকা থেকেই যায়। তাছাড়াও রাজীবের টাকা পয়াসা পরিচিতি কম হয়নি। আগামীতে নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। শামীম বেচে থাকতে সেটাও সম্ভব না। না দলীয় সমর্থন না স্বতন্ত্র থেকে জয়ো হওয়া। স্বতন্ত্র থেকে করলেও শামিমের সাথে বিদ্রোহ করতেই হবে। একই এলাকার আসনের।  আর তা হলে বিজয় তো পরে শতকরা তিন ভাগ ভোট ও পাবেনা রাজীব। কানা শামীম কে সরিয়ে দেয়াই তার বুদ্ধিমানের কাজ মনে হয় রাজীবের।  কিন্তু কাজটা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য।  নিজের হাতে খুন করার মত সাহস নেই রাজীবের। তাছাড়া এ তল্লাটে যে সকলল সুপারি খোর আছে তারা শামিমের অনুগত। এরা কাউকে খুন করার জন্য শামীমের কাছ থেকে টাকা নেয়না। এমনিতেই তাদের মাসেহাড়া দেওয়া হয়। আর এদের কেউ প্রকাশ্যে শামীমের সাথে দেখা করেনা বলেই এদের চেনেনা রাজীব।এ শালা বহুত চাল্লু চিজ। একে বোধহয় নিজ হাতেই খুন করতে হবে। এর মাঝে সহকারি এসে জানালো বাহন প্রস্তুত রয়েছে। আর কোথাও না যেয়ে সরাসরি রাংার বাড়িতে যাওয়ার মনস্থির করলো সে।

 

 

স্থান: রাংার বাড়ি।

দরজা নক করতেই একটা কুতসিত দর্শন মেয়ে দরজা খুললো। কোমলল আর মায়াময় কন্ঠে জিজ্ঞেস করল কাকে চাই?

রাংা কই? ভিতরে প্রবেশ করতে করতে জানতে চাইলো রাজীব।

 

মেয়েটি তার উপরের ঠোট কামড়ে ধরলো। তারপর হুট করেই দৌড়ে ভিতরে চলে গেলো। কিছুই বুঝতে পারলোনা রাজীব। আরো একটি বিষয় চোখে পড়লো তার। মেয়েটি নিচের ঠোট না কামড়ে উপরের টা ধরেছে। সচরাচর এমন দেখা যায়না। মানুষ নিচের ঠোট কামড়ে ধরে। এই কুতসিত দর্শন মেয়েটি যদি উপরের ঠোট না কামড়ে নিচের ঠোট কামড়াতো তাহলে হয়তো তাকে সুন্দর ও লাগতে পারতো। নিচের ঠোট কামড়ে ধরা মানুষ অন্যের অনিষ্ট করার চিন্তায় থাকে এমন লোকশ্রুতি রয়েছে। এই মেয়েটি বোধহয় আগে নিচের ঠোট কামড়াতো।  এমনিতেই কুতসিত তারপর ঠোট কামড়ানো,  হয়তো মানুষের মুখের কথায় মেয়েটি এখন উপরের ঠোট কামড়ায়। অভ্যাস মানুষের দাস। মানুষ চাইলে সবই সম্ভব। এর মাঝেই ফিরে এলো মেয়েটি। আপা ভিত্রে পরিষ্কার হইতাছে। আপনেরে বইতে কইসে বড় বাবু।

বড় বাবু আবার কে? শামীম এলোনাতো? আসলে আসতেও পারে। আসবেনা কেনো? তার তো আজকে অন্যের বিয়ে করা বউ ভোগ বার্ষিকী।  শালার পুত।আস্তা একটা বাইঞ্চত। মনে মনে খিস্তি করে উঠলো  রাজীব ।

 

নাহশামীম আসেনি। কেয়ারটেকার এর নাম অতল বাবু। বয়স বেশী বলেই মেয়েটি তাকে বড় বাবু সমন্ধন করে। অন্যদিক রাংা তাকে নাম ধরে বলে। যদিও আপনি শব্দটাই ব্যাবহার করে। এটাকে স্মার্ট হওয়া নাকি কতৃত্ব দেখানো নাকি টাকার জোড়ে বেয়াদবি তা বুঝা হয়ে উঠেনা তার। যাই হোক এ বাড়ির সবাই কান্ডজ্ঞানহীন। কে আসলো র তা দেখার প্রয়োজন মনে করলোনা। কি অদ্ভুত।  অপেক্ষা করতে করতে ব্যাগ থেকে বোতল বের করলো রাজীব। ধীরে ধীরে খেয়েছে কিছুটা। কিছুটা নেশাও হয়েছে বটে। মনের ভিতর গুটগুটানি শুরু হয়েছে তার। কেমন যেনো অপরাধবোধ হচ্ছে তার। যতটুকু খেয়েছে তার দুই গুন বেশী খেলেও রাজীবের নেশা হবার কথা না। ১০০ মিলি খেয়ে নেশা!!! অসম্ভব। অবশ্য এটাতে হলেও হতে পারে। দামী মাল।

কানা শামিমের ছেলের বিয়েতে এটা চুরি করেছিলো রাজীব। ছেলে আমেরিকায় থেকে। সেখান থেকে মাল নিয়ে এসেছে। ছোটোবেলার চুরির অভ্যাস যায়নি শামিমের। আগে বাবার পকেটের টাকা চুরি করতো। এখন করে বিদেশী মদের বোতল।

তবে কি চুরির মাল বলেই এত নেশা? কিন্তু অপরাধবোধ হবে কেনো?  মদ রাজকীয় নেশা। মদ খেলে আনন্দ হবে। সুখের স্মৃতি মনে করে মুচকি হাসি নয়। উচ্চস্বরে হাসি। এতটাই আনন্দ যে লুংি খুলে মাথায় তোলে দু হাতে ঘুরিয়ে নাচ দেখানোর মত আনন্দ। আনন্দ বেড়ে গেলে মুখে চিল্লিয়ে চুল্লিয়ে বলা তুই বাইঞ্চত আমি বাইঞ্চত। সেরকম কিছু না হয়ে উল্টো হচ্ছে। স্বস্তা গাজা খাওওয়ার মত। বিশ টাকার পুরিয়া কিনে দু ষ্টিক গাজা খাওওয়ার মত। তবে গাজাও রাজকিয় জিনিস। খালি ভাং পাতাটা ফেলে দিতে হবে। একটু দেখতে কালো নামে সাদা পাতার মিশ্রণ করে খেয়ে নিতে হবে। এরকম ভাবে সিদ্ধি খেলে বুদ্ধির দোয়ার খুলে। এটাই শুনে এসেছে রাজীব। এর মাঝেই রাংা এলো। ঠোট টকটকে লাল। পান খেয়েছে কিনা কে জানে। দাত দেখা যাচ্ছেনা, পান খেয়েছে কিনা বুঝার উপায় নেই।

রাংার পাশে ঐ মেয়েটাও এসেছে।  দুজনের কেউ কথা বলছেনা। পিনপতন নীরবতা।  মেয়েটি গরুর মত জাবর কাটছে। পান খাচ্ছে নয় চুইংগাম চিবুচ্ছে। মানুষ যেহেতু ঘাস খাবার কথা তো নয়।  একটু আগে মেয়েটিকে কুতসিত লাগলেও এখন আর তা লাগছেনা। বরং সুন্দর লাগছে।  রাংাকে বুড়ি বুড়ি লাগছে। মনে হচ্ছে এখনই পানের পিক ফেলবে। ফেলার সময় জামায় লাগবে কিছু, থুতনি গড়য়ে পড়বে আর কিছুটা পিকের ছিটা লাগবে রাজীবের গায়ে। ক্রমশ উল্টাপাল্টা চিন্তায় মাথা ভার হয়ে আসছে রাজীবের। তাকে শাওয়ার নিতে হবে। শরীর গুলিয়ে উঠেছে রাজীবের। বমন করে দিয়েছে সে।

 

 

স্থান: মেয়েটির ঘর

 

রাজীবের শরীর পরিস্কার করে দিচ্ছে মেয়েটি। রাজীব চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। শরীর পরিস্কার শেষ করে রাজীবের গা টিপে দিচ্ছে মেয়েটি। রাজীব তার নাম দেওয়ার চেষ্টা করছে সে।  মেয়েটাত নাম দেওয়া দরকার।  কিন্তু কি নাম দেওয়া যায়?  মনে একটা নাম ধরেছে তার। নাহার। কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে রাজীবের শরীর মুছে সে কাপড় ধুয়ে তা নিংড়িয়েছে সে। নিংড়ানো থেকে নাহার হবে মেয়েটির নাম। নিংড়ানোর সময় তার দেহভংগি অন্যরকম ছিলো। রতিক্রিয়ার ষোলকলা শুধু যৌনাসন নয়। কাপড় নিংড়ানোর সময় তার দেহের অংভংি ছিলো আকর্ষণীয়।  এটাও এক কলা। রাজীব ঠিক করেছে সে মেয়েটিকে পরিক্ষা করে দেখবে। যদি তার মনে হয় এই নারী রতির  ষোলকলা জানে তবে তাকে বিয়ে করে নিবে সে। এর সাথেই বাকি জীবন ঘর সংসার করবে। বদলে যাবে জীবন।  বদলে নেবে পরিচয়। টাকা পয়সা যা আছে তা দিয়ে হজ্ব করা যাবে কয়েকবার। প্রথমততার নাম হবে হাজি রাজীব পাটোওয়ারি। তারপর আলহাজ্ব।  না  অতশত দরকার নেই। সে বউ সহকারে একবার হজ্ব করবে। বউ এর নাম হবে হাজি নাহার। উহু হাজি গুলনাহার। এই মেয়ে গুল খায় তাই নামের আগে গুল ব্যাবহৃত হবে। নাম ঠিক থাকলেও এর গুল খাবার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। প্রয়োজনে সিগেরেট খাবে। মার্লবোরো লাইট। দেশী টা নয় বিদেশ থেকে কিনে আনবে রাজীব।

৫৪৯জন ৫৪৭জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ