প্রতিষ্ঠান বনাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাঃ
কোন সমাজ কতটা প্রগ্রেসিভ সেটা নির্ভর করে সেই সমাজের অন্তর্গত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সামগ্রিক অবস্থানের উপর। মানব সভ্যতার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা টিকে ছিল। সেই সঙ্গে টিকে ছিল এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে ট্যাকল করতে প্রতিষ্ঠানপন্থীদের তৎপরতাও। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠান পন্থী বনাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিরা পরষ্পরের মুখোমুখি হয়েছে কিন্ত দিন শেষে জয় হয়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার। যে সমাজ এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে হৃষ্ট চিত্তে আলিঙ্গন করতে পারেনি তারা হারিয়ে গেছে। আর যারা টিকে গেছে তারাও এক সময় মুখোমুখি হয়েছে নুতুন কোন বিরোধিতার অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছে নুতুন কোন প্রতিষ্ঠানের, তারপর এক সময় সেই প্রতিষ্ঠানও বিরোধিতার সম্মুখিন হয়েছে। এভাবেই এই ক্রমানুকমিক বিরোধিতার উপর ভিত্তি করেই এগিয়েছে সভ্যতা। সমাজকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তাই এই প্রতিষ্ঠান পন্থী বনাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার দ্বন্দের গুরুত্বকে অস্বীকার করবার উপায় নেই। এই দ্বন্দটা থাকবে, আমাদের দেশেও আছে। যেমন আমাদের দেশের রক্ষনশীল সমাজে প্রেম ভালবাসাকে এখনো কিছুটা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হিসেবে দেখা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠান পন্থীরাও সুযোগ পেলে প্রেমিক যুগলকে কানে ধরিয়ে উঠ বস করিয়ে এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে কাউন্টার করে। ইউটিউবে খুঁজুন, এই টাইপের কানে ধরার ভিডিও অনেক পাবেন। সাম্প্রতিক কালে ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমাদের দেশে এই প্রেম ভালবাসা কেন্দ্রীক প্রতিষ্ঠানটিকে একটা নুতুন মাত্রা দিয়েছে, ফলে কানে ধরে উঠ বস করিয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালনের প্রবণতাও কিন্ত ভ্যালেন্টাইন্স ডে আগে পরে কাছাকাছি সময়ে বাড়ে। যাই হোক এবার আসল কথায় আসা যাক। কথা হচ্ছে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ম তথা ইসলাম একটা অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কোন একটি ঘটনাকে ইসলামের নামক এই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে বিচার করে। এই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদন্ডের কারনেই একসময় ব্লগার খুন হলে সে নাস্তিক ছিল কিনা সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক কালে গুলশান হামলার পরও এই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদন্ডের কারনে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ নীরবে নিভৃতে এই হামলাটিকে কোন প্রকারে জাষ্টিফায়াবল বানানোর চেষ্টা করছে অর্থাৎ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠান পন্থী বনাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার দ্বন্দে আপার হ্যান্ডটা এই মুহূর্তে কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠান পন্থীদের কাছে আছে। এটা অবশ্য আপনি পত্র পত্রিকা পড়লে বা টিভির খবর দেখলে খুঁজে পাবেন না, এর জন্য আপনাকে তৃণমুলে যেতে হবে। মনে রাখবেন এই প্রতিষ্ঠান পন্থী বনাম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার দ্বন্দে আপনি ঠিক কোন অবস্থানে থাকবেন তার উপরই আক্ষরিক ভাবে নির্ভর করছে আমার আপনার ভবিষ্যৎ। সিদ্ধান্তটা আপনার হাতে। থিংক টোয়াইস বিফোর ডিসাইড…

নর্থ সাউথ সমাচার
নর্থ সাউথের উদ্যোক্তারা জন সেবা করার জন্য ভার্সিটি খোলে নাই, খুলেছে ব্যবসার জন্য। সাম্প্রতিক কালে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতায় নর্থসাউথের শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ায় নর্থ সাউথের ইমেজ এখন মারাত্নক সংকটের মুখে। ফলে পুঁজির নিরাপত্তার খাতিরেই তিনারা এখন আক্ষরিক ভাবেই জঙ্গী বিরোধী নানা পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন অন্যথায় নামের আগে যতই উত্তর,দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম থাকুক না কেন দিক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নর্থ সাউথ বিরোধী আবহ শক্তিশালী হওয়ায় নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীরাও আবেগ প্রবণ ভাষায় তাদের ভার্সিটির গুণগান করে পোষ্ট লিখছেন। যদিও এতে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না কারন সমস্যার গোঁড়াটা অন্য খানে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখন এর গ্রাহক কাঠামোর ধারণাটা ছিল অনেকটাই উচ্চবিত্ত কেন্দ্রীক। ফলে উচ্চ বিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদেরকে কেন্দ্র করে সেসময় এর ব্রান্ডিং করা হয়েছে। পরবর্তীতে পাশের হার বৃদ্ধির ফলে নর্থ সাউথের মার্কেট এক্সপ্যান্ড হলেও এর উদ্যোক্তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডকে সেই অর্থে সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রতিকুল পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাবার আশা করাটা তাদের জন্য বাহুল্যই বটে। আপনি এটাকে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণী বৈষম্যের এক ধরনের বাহ্যিক প্রকাশ হিসেবেও ধরে নিতে পারেন। রাস্তায় গন্ডগোল তৈরী হলে প্রথম ঢিলটা কিন্ত বড়লোকের প্রাইভেট কারের উপরই গিয়ে পড়ে!!!

নৈতিকতার সংকট
উচ্চবিত্ত পরিবারের “কিউট কিউট” ছেলেদের জঙ্গী তৎপরতায় যুক্ত থাকার সংবাদে আপনারা অনেকেই অবাক হতে পারেন কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে এই ঘটনা নুতুন কিছু নয়। উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের জঙ্গী তৎপরতায় যুক্ত থাকার ইতিহাস আগেও ছিল। ওসামা বিন লাদেন নিজেও ছিল সৌদি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান, নাইন এলিভেনে টুইন টাওয়ারে বোমা হামলায় জড়িতদের অধিকাংশই ছিল উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। এক সময় সম্ভ্রান্ত জমিদার জোতদারদের সন্তানদেরও সর্ব হারা কমিউনিষ্ট বিপ্লবে নাম লেখানোর ইতিহাস ছিল। উচ্চবিত্ত পরিবারে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার ঝুঁকিটা বেশি কারণ এই পরিবার গুলোতে নৈতিক শিক্ষার সংকটটা সবচেয়ে বেশি থাকে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই সংকটটা আরো মারাত্নক কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ বড়লোকই ঘুষ দুর্নীতি লুটপাটের মধ্য দিয়ে বড়লোক হয়েছে। সন্তানকে ন্যায়-অন্যায়বোধ, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়ীকতা শেখানোর জন্য যে নৈতিক মেরুদন্ড প্রয়োজন সেই মেরুদন্ড তাদের অধিকাংশরই থাকে না। সন্তানের হাতে ক্রেডিট কার্ড ধরিয়ে দিয়ে উনারা সব দায়িত্ব সারতে চান। ফলে এদের ছেলেমেয়েরা এক ধরনের নৈতিক শিক্ষার শুন্যতা নিয়ে বড় হয়। পিতার অবৈধ অর্থে এরা এক ধরনের হীনমন্যতায়ও ভোগে। পরবর্তীতে এরা যখন জঙ্গীবাদী দের সংস্পর্শে আসে তখন এরা তাদের কাছ থেকে ধর্ম নির্ধারিত মানদন্ডের আলোকে এক ধরনের নৈতিক শিক্ষা পায়। প্রতিটি ঘটনাকে তারা তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যাকৃত ধর্ম নির্ধারিত নৈতিকতার আলোকে বিচার করে। এই নিজস্ব ব্যাখ্যাকৃত ধর্ম নির্ধারিত নৈতিকতার কারণেই তাদের কাছে ভিনদেশী নিরীহ নারী পুরুষ হত্যা মোটেও অন্যায় কাজ বলে মনে হয় না কারণ তাদের একটাই পরিচয়, তারা বিধর্মী। যেহেতু তারা তাদের ভাষায় বিধর্মী-কাফেরদের সাথে ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত, ইরাক আফগানিস্তানে আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনে অনেক নিরীহ মুসলমান মারা গেছে তাই পাল্টা আঘাত হিসেবে বিধর্মী-কাফের হত্যা করাও তাদের দৃষ্টিতে ঈমানী দায়িত্ব। এই “কিউট” জঙ্গীদের প্রতি ক্রাশ খাওয়াও অনেক মেয়ের কাছে ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে হতে পারে, অবাক হওয়ার কিছু নেই। ঈমানী দায়িত্ব জিনিসটা বড়ই আজব!!!

আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি
আগামী কয়েক দশকের মধ্যে জঙ্গীবাদের চারণভুমিতে পরিনত হতে পারে এমন ঝুঁকি পূর্ণ দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান বেশ উপরের দিকে, আপনি স্বীকার করেন কিংবা না করেন এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। জঙ্গীবাদ বিকাশের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই আছে আমাদের এই সোনার দেশে। এখানে দারিদ্র আছে, আছে সামাজিক বৈষম্য, আছে অশিক্ষা, আছে কুশিক্ষা, আছে সমাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত সাম্প্রদায়ীকতা। ৭১ সালে যে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল সেই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদও এখন মুসলিম জাতীয়তাবাদের কাছে হার মেনে কোন রকমে টিম টিম করে জ্বলছে। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ধব্জাধার বলে দাবীদার আওয়ামী লীগের মত দলও এখন মুসলিম বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন-“এদেশের মুসলমান এক সময় মুসলমান বাঙালি, তারপর বাঙালি মুসলমান, তারপর বাঙালি হয়েছিলো; এখন আবার তারা বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙালি, এবং মুসলমান বাঙালি থেকে মুসলমান হচ্ছে। পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ”। বাঙ্গালী সমাজের রাজনৈতিক আদর্শ পরিবর্তন বিষয়ে এর চেয়ে ভাল উক্তি আর হয় না। মৌলবাদী অর্থনীতিও বাংলাদেশে স্মরণ কালের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। বিপুল শক্তিশালী এই অর্থনীতির একটা বড় অংশ সরাসরি জঙ্গীবাদী কার্যকলাপে ব্যয় হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকাও আসছে দেদারছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্ম জাকিয়ে বসেছে প্রবলভাবে। বিবর্তনবাদকে অপাংক্তেয় করে রাখা হয়েছে। শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মৌলবাদী লোকদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মৌলবাদী অর্থে গরীব-এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য মাদ্রাসার পাশাপাশি, মিডলক্লাস-আপারমিডলক্লাস শ্রেণীর জন্য ইসলামীক কিন্ডারগার্ডেন, ইসলামীক ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। মোট কথা, ইসলামী আইন বা জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে জনভিত্তি প্রয়োজন তা ইতমধ্যেই দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। দেশের বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক মানুষ এখন নীরবে নিভৃতে ইসলামিক ষ্টেটের কার্যকলাপকে সমর্থন করছে। অনৈসলামিক ট্যাগ খাওয়ায় গ্রামাঞ্চল থেকে বাঙ্গালী সংস্কৃতি কেন্দ্রীক উৎসবগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বোরখা-হিজাব ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা দিন দিন বাড়ছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, উনসত্তরের গণঅভ্যুথানে শাড়ি পড়া বাঙ্গালী নারীদের বিক্ষোভের ছবিগুলো দেখি আর মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। এই ছবি গুলো দেখিয়ে আর আমাদের বর্তমান শহুরে শিক্ষিত মডারেট নারী প্রসঙ্গে প্রশ্নটা করেছিলেন এক বয়স্ক ভদ্রলোক- আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি? উত্তরটা দিতে পারিনি। আসলেই তো, সামগ্রিক ভাবে কি আমরা বলতে পারি স্বাধীনতা পরবর্তী গত ৪৪ বছরে আমরা সত্যিই এগিয়েছি?

৫০৭জন ৫০৭জন
0 Shares

৩২টি মন্তব্য

  • জিসান শা ইকরাম

    সামগ্রিক ভাবে আমরা আসলে পিছিয়েই গিয়েছি, অর্থনৈতিক ভাবে আমরা বর্তমানে বেশ ভালই আছি, কিন্তু সামাজিক ভাবে উন্নতি নেই কোন।
    ফেইসবুক বা সামাজিক সাইটসমুহই বাংলাদেশ নয়। ধর্মপ্রান মুসলিমরা মসজিদে গিয়ে ইমামের কাছে যা শুনে তাই মেনে নেয়। ইমাম অন্যায্য কোন কথা বললেও কেউ প্রতিবাদ করেন না। আর অধিকাংশ ইমামই মনে করে আইএস জিহাদ করছে।
    দেশের প্রায় সমস্ত মাদ্রাসা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে আছে এবং তারা প্রগতির বিরুদ্ধে। এমন কোন মাদ্রাসার নাম আমি অন্তত জানি না, যে মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা ১৯৭১ এ পাকিদের বিরুদ্ধে গিয়েছে, প্রকারন্তরে বর্তমানে দেশের প্রায় অধিকাংশ মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়না। প্রতিবছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে পাস করা ছাত্ররা কি করে? কোথায় জব করে এরা? প্রতি গ্রামে একাধিক মসজিদ এখন, আগে কয়েকগ্রাম মিলে পাওয়া যেত একটি মসজিদ। মসজিদ থাকায় সমস্যা নেই কোন, কিন্তু সমস্যা এটাই যে এই সমস্ত মসজিদের ইমমরা কোন না কোন মাদ্রাসার ছাত্র, যারা পাকিস্থানের প্রতি অনুরক্ত।

    ভবিষ্যতে কি হবে এই চিন্তাভাবনা না করেই দেশের ব্যাপক একটি জনগোষ্ঠি কিন্তু চায় লীগ সরকারের পতন হোক, তা আইএস দ্বারা হলেও সমস্যা নেই।

    লীগও বর্তমানে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ততটা জোর দিয়ে প্রচার করেনা। মুলত এসব শিকড় থেকে গড়ে ওঠে, কিন্তু লীগের শীকড় ছাত্রলীগে এর চর্চা আর নেই।

    সমসাময়িক বিষয়ে চমৎকার একটি পোষ্ট দিলেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

    • অপার্থিব

      এটা সত্য যে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কিছু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে কিন্ত এই উন্নয়নের সুফল প্রধানত ভোগ করছে মুষ্টি ময় কিছু ব্যক্তি। সামগ্রিক ভাবে দেশের প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার খুব বেশি উন্নয়ন ঘটেনি। ঘুষ, দুর্নীতি ,রাষ্ট্রীয় লুটপাটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত কয়েক দশকে দেশে দুই কোটিরও বেশি নুতুন কোটিপতি তৈরী হয়েছে। ধনী গরীবের মধ্যকার বৈষম্য আরো বেড়েছে। এই বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলেছে। দেশে এখন ধনীর সন্তানদের জন্য এক রকম ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা, গরিব , এতিম প্রান্তিক মানুষদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা আবার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য বাংলা মাধ্যম শিক্ষা প্রচলিত আছে। বলতে গেলে ইংরেজী মাধ্যম আর মাদ্রাসা মাধ্যম এই দুই শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাই মূলত মূল ধারার বাঙ্গালী সংস্কৃতির চর্চা করে না। ফলে এই দুই শ্রেণীর মধ্যেই জঙ্গীঝুকি তুলনামূলক বেশি। শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিভাজন সরকারকে দূর করতে হবে। শিক্ষাকে দেশের সকল মানুষের জন্য অবৈতনিক ও উন্মুক্ত করতে হবে। গরীব ছেলেমেয়েদের আর্থিক প্রনোদনা দিতে হবে। পড়াশোনা শেষে এরা যেন উৎপাদন শীল কাজে জড়িত হওয়ার সুযোগ পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বাঙ্গালী সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করতে হবে। রাষ্ট্র, রাজনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মকে পৃথক করতে হবে অন্যথায় আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

      • আবু খায়ের আনিছ

        সত্যিই কি আমরা এগিয়ে যাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর খোজাঁ এত সহজ নয়।

        কোথায় এগিয়েছি আমরা? এখনো মানুষ বরর্বর যুগের আদি কার্যকলাপগুলো ধারণ করে আছে। এখনো মানুষ মানুষকে বিক্রি করে, এখনো মানুষ ধর্মের নামে অন্যকে হত্যা করে।
        ভোগবাদী শ্রেণীর কাছে এখনো এক শ্রেনীর মানুষ নিগৃহিত।

        এগিয়ে আমরা যাচ্ছি, কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার ভিত আমাদের নড়বড়ে, তাই ত হঠাৎ আসা ঝড়ে আমরা তালমাটাল হয়ে যাই।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    আধুনিক সময়ে আমরা এসেছি নাকি, আমার দাদু বলতেন। কিন্তু আসলে আমরা অসভ্য সময়ে চলে গেছি। কিভাবে?
    ওই যে অতি আধুনিকতা মানে তো সভ্য সমাজের বিকৃতি।

    ভালো লিখেছেন।

  • শুন্য শুন্যালয়

    নৈতিকতার অবক্ষয়, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আধা আর কু শিক্ষা তো আছেই। সমসাময়িক যুক্তিনির্ভর পর্যালোচনা, লেখাটি স্টিকি করার জন্য মডুদের কাছে অনুরোধ রইলো, যাতে এড়িয়ে না যায় কারো চোখ।

  • মৌনতা রিতু

    আমরা কখনোই ধর্মীয় গোড়ামি থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। ধর্ম ব্যবসায়ীরা সব সময়ই এটাকে নিজেদের স্বার্থেই ব্যবহার করেছে। ইসলাম ধর্মের ভিল ব্যাখ্যা দিয়ে এটাকে শেষ করছে উগ্রবাদি ইসলামি ভন্ড পীর, মৌলবীরা। তেমনি হিন্দু ধর্মের মূল বিষয়বস্তু থেকে সরে এসছে ব্রাক্ষণদের জন্য। আমরক যদি মহাভারত, বেদ পড়ি এ ধারনা পাল্টে যাবে।
    যাইহোক, নর্থ সাউথ সম্পর্কে বলতে গেলে, আমার এক মামাত দেবর আছে, নর্থ সাউথে পড়ে। সে টোটালে পড়াশুনা করে না। সারাদিন বন্ধু বান্ধব, আড্ডা, ফ্যশন, নিয়ে ব্যস্ত। যদি বলি কিরে কেন এতো সময় নষ্ট করিস ? বলে” টাকা দিলেই স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যেতে পারব। পড়া লাগবে না, ওটা আমাদের জন্য না। তার ভিতর দেখেছি সামান্যতম ম্যানার্স নেই। শেষমেষ ফেসবুক থেকে ওকে ব্লকই মেরেছি। এইযে টাকা দিয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়াটাও দেখার বিষয়।
    সন্তানকে প্রকৃতির মধ্যেই বেড়ে উঠতে দিতে হবে। তাদেরস সাথে সময় কাটাতে হবে। একটা নির্দিষ্ট বয়স হবার পরে তাদের হাতে স্মার্ট ফোন দিন।
    শেষমেষ বলতে চাই, সময় উপযোগি দারুন একটা পোষ্ট।
    অনেক ধন্যবাদ।

    • অপার্থিব

      ম্যানার্স শিক্ষার জন্য আসলে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আসলে ভার্সিটিতে ভর্তির আগেই একজন ছাত্রের মধ্যে তৈরী হয়।
      পরিচিত দু একজন ছাড়া নর্থ সাউথ সম্পর্কে খুব একটা ধারণা নেই। তবে নর্থ সাউথের উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের মধ্যে জঙ্গী সমর্থক থাকার খবর আজকাল পত্রিকায় আসছে। শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে । বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুধু জ্ঞান বিতরন বা পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করানো না , তাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ বানানো। নর্থ সাউথের প্রক্রিয়ায় মনে হয় এই জাতীয় সমস্যা আছে।

      মন্তব্যের জন্যও আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

  • নাসির সারওয়ার

    সময় উপযোগী লেখা যা আমদের আবারও করে মনে করিয়ে দেয় “আমরা কোথায় আছি এবং কোন দিকে যাচ্ছি”।
    আপনার সাথে একমত হয়েই একটু যোগ করতে চাই। আমার মনে হয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এর জন্য অনেকটা দায়ী। আমরা স্কুল থেকেই সামাজিক একটা বৈষম্য তৈরি করছি। যেমন, কিছু মানুষ শিক্ষা নেবে মাদ্রাসায়, কিছু বাংলায়, কিছু ইংলিশ। এই তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় তিন ধরনের সমাজেরই প্রতিফলন দেখা যায়। সাধারণত একজন ধনীর সন্তান মাদ্রাসায় যাচ্ছেনা। আবার একই ভাবে, একজন গরীব ইংলিশ ভাষায় পড়তে পারছেনা।
    যদি এরকম না হতো, যদি একটাই মাধ্যম হতো আমাদের লেখাপড়ার, হয়তো এই বৈষম্য অনেক অংশেই কমে আসতো বলে আমার মনে হয়। এই সমাজ ব্যবস্তাই আমাকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, আমার গন্তব্য কোথায়। এর পরিবর্তন বেশ জরুরী …
    অনেক ভালো একটা লেখার জন্য আপনার জন্য শুভেচ্ছা।
    মোডারেটর কে ধন্যবাদ এটাকে সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য।

    • অপার্থিব

      ধন্যবাদ আপনাকে।

      রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক করা প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। আমাদের দেশে সরকার বদলালে শিক্ষা নীতি বদলায়। রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক না করা পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে অসাম্প্রদায়ীক করা সম্ভব নয়। সামাজিক ও অর্থ নৈতিক বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে । অর্থ নৈতিক বৈষম্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিভাজনও সমস্যার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

  • মিষ্টি জিন

    একটু যদি পিছে ফিরে দেখি ,আমাদের দাদা দাদী নানা নানী এনারা কেউ উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন না। সবাই ধর্ম পালন করতেন আমাদের ও করতে বলতেন।এদের মধ্য কোন গোরামী ছিল না। সামপ্রদায়ীকতাও ছিল না। দিন দিন আমরা শিক্ষিত হচ্ছি আর আমাদের ধর্ম্মিয় গোরামী বাডছে । ঠীক এই সুযোগটা নিচছে ধর্মিয় ব্যাবসায়ীরা। ধর্মে র ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জংগি সন্ত্রাসী তৈরী করছে।
    হ্যা এটা স্বীকার করতেই হবে সন্তান পালনে আমাদের কিছুটা তো ভুল আছে নইলে কি আর নিব্রাসদের মত জংগির জন্ম হঁয়? তবে কোন বাবা মা ই চায় না তার সন্তান জংগি/ সন্ত্রাসী হোক।
    নর্থ সাউথে আমার মেয়েও পড়ছে , আমরা যেভাবে ইউনিভার্সিটি তে দিন কাটাতাম আমার মেয়েও সেভাবে কাটাচ্ছ্। আমার মেয়ে বা ওর কোন বন্ধু্র মধ্যে গত তিন বছরে কোন অসাভাবিকতা চোখে পড়েনি । ভাল মন্দ সব জায়গায়ই আঁছে ।
    সঠীক সময়ের সঠীক পোষ্ট .,ধন্যবাদ ভাইয়া

    • অপার্থিব

      আমাদের বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষও ধর্ম পালন করতো, মূলত তাদের ধর্ম পালন ছিল নামায , রোজা হজ , জাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইসলামের ধর্মের পলিটিক্যাল রুপ সম্পর্কে তাদের কোন সচেতনতা ছিল না । মূলত গত শতাব্দী থেকেই পলিটিক্যাল ইসলাম ধারণা জনপ্রিয় হয় অর্থাৎ এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এমন ধারনা জন্ম নেয় যে শুধু নামাজ রোজা পড়লেই ধর্ম পালন হয় না, ধর্মকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সারা বিশ্বের মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে হবে ইত্যাদী। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ বিকাশের সুযোগ সব সময় ছিল । সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রভাবককে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশে এটা বেড়েছে।

      আর একটা কথা বলা দরকার, সাধারণ অর্থে আমরা অস্বাভাবিকতা বলতে যা বুঝি জঙ্গীবাদের ক্ষেত্রে সেই অস্বাভাবিকতার ধারণাটা পাল্টাতে হবে। জঙ্গীবাদীদের অস্বাভাবিকতা কি এই জিনিসটা নুতুন করে বুঝতে হবে। কাজটা কঠিন সন্দেহ নেই, আপনারা যারা গার্ডিয়ান তাদের এই বিষয়ে আরো সচেতনতা দরকার।

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  • মারজানা ফেরদৌস রুবা

    না, আমরা এগুতে পারিনি। একটা জাতির আলোকিত আভা ছড়ায় তার মানসিক বিকাশে। সেক্ষেত্রে আমরা কেবলই অন্ধকার থেকে অন্ধকারতর সুড়ঙ্গপথের মুখে এসে দাঁড়িয়েছি।
    এক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে দুর্নীতি একটা বড় কারণ। ছেলেমেয়েরা মা-বাবা থেকে এক ধরনের নৈতিক শিক্ষার শুন্যতা নিয়ে বড় হয়। আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও দুর্নীতি, এর সাথে যোগ হয়েছে মৌলবাদের থাবা। এক্ষেত্রে আমিও আযাদ স্যারের মৌলবাদ নিয়ে উদ্ধৃতির শেষ লাইনটাই উল্লেখ করবো, “পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ”।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ