আপনি চীন নাকি ভারত?

তৌহিদ ৩০ মে ২০২০, শনিবার, ০৯:০৩:০৯অপরাহ্ন আড্ডা ৮১ মন্তব্য

কখনো দেখেছেন কি দু’জন মানুষের ঝগড়া লাগলে একজন অন্যজনকে বলে- আয় দেখি কত সাহস, কাছে আয়! অথচ কেউ কারও কাছাকাছি যায়না? এখন সেইরকমই কান্ডকীর্তি হচ্ছে চীন ভারত দু’দেশের মধ্যকার উদ্বুদ্ধ সীমান্ত উত্তেজনায়। দু’দেশই সীমান্তে সৈন্য সামন্ত, গোলাবারুদ মজুদ করছে অথচ কেউ যুদ্ধ ঘোষণা করছেনা।

ফেসবুকে এই দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণধর্মী সব পোষ্ট এবং সেখানে অন্যদের করা মন্তব্যগুলি দেখে আমার মনে হচ্ছে যুদ্ধ না হলেও এরা দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়েই ছাড়বে। ভারত এবং চীনকে সমর্থনকারী ফেসবুকারদের তাদের সমর্থনের পিছনে পক্ষেবিপক্ষে কিছু উল্লেখযোগ্য কারন খুঁজে পেলাম।

🔵 কিছু মানুষের ধারণা চীনই করোনাভাইরাস বানিয়ে এই দুনিয়াতে নরক নামিয়ে এনেছে। যুদ্ধে ভারত যেন চীনকে কচুকাটা করে দেয়।

🔵 একদল হচ্ছে “মেরি মী আফ্রিদী” গ্রুপ। এরা চরম ভারত বিদ্বেষী এবং জন্মগতভাবে পাকিস্তানপ্রেমী। “চীন পাকিস্তান ভাই ভাই, আমরাও চীন আমরা ছাড়ি নাই” অনবরত এই শ্লোগান দিচ্ছে।

🔵 একগ্রুপের কাছে ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। যাই কিছু হোক এরা ভারতের পাশে থাকবে।

🔵 অন্য একগ্রুপের কাছে চীন হচ্ছে শত্রু রাষ্ট্র। এরা মনে করে চীন রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে সাপোর্ট করে রোহিঙ্গাদের এদেশে পাঠিয়েছে। তাই এরা চীনকে সাপোর্ট করবেনা।

🔵 একদল বিশ্বাস করে, যেহেতু চীনে উইঘূর মুসলিমরা বসবাস করে আর ভারত হিন্দু অধুষ্যিত দেশ তাই চীনকেই সাপোর্ট করা উচিত।

🔵 কিছু মানুষের কাছে ভারত হচ্ছে সেকেন্ড হোম। আত্মীয়স্বজন থাকেন সেখানে, বছরে তিনবার ভারতজুড়ে ঘুড়ে বেড়ানো সাথে চিকিৎসা। যুদ্ধে ভারত পরাজিত হলে তাদের আবার ইজ্জত থাকেনা। তারা ভারতের পক্ষে।

🔵 কিছু মানুষ চীনের অন্ধভক্ত। চিকন পিনের চার্জার থেকে শুরু করে আন্ডারওয়্যারের লোগোতে পর্যন্ত সারাজীবন মেড ইন চায়না লেখাতেই বিশ্বাসী।

🔵 সবচেয়ে স্পেশাল গ্রুপ হচ্ছে “ভারত বর্জন করো” আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী লোকজন যারা সন্ধ্যা হলেই ভারতীয় টিভি চ্যানেল না দেখলে রাতের খাবার হজম হয়না এবং সকালে ভারতীয় টুথপেস্ট, সাবান ছাড়া ওয়াশরুমের কার্যাবলী সুসম্পন্ন করতে পারেনা। এই গ্রুপ মুখে মুখে ভারত কিন্তু অন্তরে চীনকে নিয়েই আশাবাদী। এরা কিন্তু অত্যন্ত বিপদজনক গ্রুপ।

আর ফেসবুকের সবচেয়ে অভাগা জাতি হচ্ছে আমার মত মানুষ যারা যারা যুদ্ধ চাইনা। আমাদের ভারতকেও প্রয়োজন, চীনকেও প্রয়োজন। দেখি জল কোনদিকে গড়ায়। লাভের পাল্লা যেদিকে আমরাও সেদিকে। ঠিক সুবিধাবাদী নই তবে নিজের দেশের লাভ লোকসান দেখবো সবার আগে।

ভাগ্যিস এখন চায়ের স্টল খোলা নেই। অন্তত এইদেশে চায়ের টেবিলে ভারত চীন উত্তেজনা নিয়ে প্রতিদিন যে ধুমধাড়াক্কা আড্ডা চলতো তাতে হয়তো লাভের লাভ কিছুই হতোনা বরং হোটেল মালিকেরা করোনাবন্ধকালীন ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারতো।

মিস্টার মোদি এবং মিস্টার জিং পিং এর জন্য সোনেলার আপামর জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অনেক অনেক কেয়ার রিয়েক্টবেষ্টিত শুভকামনা। এরবাইরে কি আর কেউ আছেন যারা চীন ভারতে যুদ্ধের পক্ষে? আপনার মুল্যবান মতামত ব্যক্ত করুন।

২৬৩জন ৪৪জন
18 Shares

৮১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ