** মাত্র দুই বছরের ছোট বড় পিঠাপিঠি ভাইবোন আমরা। বড় হয়েছি একই আলো বাতাসে । ১৯৭১ এর যুদ্ধের দিনগুলোতে ওর ছোট হাত আমার ছোট হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে হেটেছি গ্রাম থেকে গ্রাম। শুধু যে আমার ছোট বোন তা নয় – বন্ধুর মতই বড় হয়েছি। আমাদের দুজনের সব কথাই আমরা একে অন্যের কাছে শেয়ার করেছি। ওর বিয়ে হবার পর ভীষণ শুন্যতা অনুভব করেছি। সব সময় হাহাকার , জমাট কষ্ট বুকের ভিতর। ওর জামাই খুব বেশী ভালো মানুষ । খুব অল্প সময়েই আমার ভগ্নীপতি আমার বন্ধু হয়ে যায় । ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা , ঘোরাঘুরি , বাসায় বসে কার্ড খেলা , বাজার , রান্না ইত্যাদিতে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সাথে। তিন দিন আগেও আমাদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে দাওয়াত দিয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে আতিথেয়ত করেছে । কিছুটা অস্থির আর বিচলিত মনে হয়েছিল তখন তাঁকে আমার। সব সময়ের চেয়ে একটু ভিন্ন। সে কি বুঝতে পেরেছিল কিছু ? বিদায়ের সময় আমার খুব খারাপ লাগছিল।

আজ ৩১-১২-২০১২ রাত ১ টায় পরলোকে চলে গেল আমার বোনের বর। কতটা কষ্ট পাচ্ছে আমার সেই আদরের বোনটি , বুঝতে পারছি আমি। যখন ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম , শুধু বলতে পারলো ” দাদা ………. ” . অনুচ্চারিত ভাষা থেকে আমি তো বুঝতে পারি , একসাথে ১৯ টা বছর বেরে ওঠা ছোট বোনটার কথা। অনেক দিন পর কাঁদলাম আজ । না কেঁদে পারিনি। আল্লাহ ওকে এই শোক বহন করার শক্তি দিক। আর আমার ভগ্নীপতির আত্মাকে শান্তি দিক।

 ** ২০১২ তে নিকটাত্মীয়দের মাঝে হারিয়েছি আমার বড় খালাকেও। মায়ের পর যার কোলটি ছিল আমার কাছে মায়ের মতই। ১৯৭১ এ তাঁর বাড়িতে ছিলাম অনেক দিন।

**  হারিয়েছি নিকটাত্মীয়া এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মাকে ।  ১৯৭১ এর দিনগুলোতে যে মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতাম মাঝে মাঝে কালো পোশাক পরে হটাৎ বাড়িতে উপস্থিত হতে রাতে।

প্রাপ্তিও কম নয় এই চলে যাওয়া বছরে । আমার বড় ছেলে SSC পাশ করলো এবছর । মেঝ ছেলে JSC । ছোট ভাই প্রায় তিন বছর পরে দেশে ফিরলো । এই প্রথম আমরা আমাদের পরিবারের প্রায় সব সদস্য একত্রে মিলিত হয়েছি। মা , ভাই, বোন , ভাগ্নে -ভাগ্নি , ভাতিজা-ভাতিজি সব ।  অসীম আনন্দে ডুবেছিলাম কয়েকটি দিন।

বিদেশ ভ্রমণ হয়েছে এবার মাত্র একটি দেশে। তবে এবারের ভ্রমণটি বেশ ব্যতিক্রমী ছিল। শুধু ছবি তোলা নয় – জানতে চেয়েছি এবং সেভাবে দেখেছি , দেশটির কিছু কিছু বিষয়।

বেশ কয়েকজন নতুন বন্ধু পেয়েছি । এদের মাঝে একজন আমাকে ছায়া দিয়ে রেখেছেন , যদিও বয়সে অনেক ছোট তিনি। বয়স যে বন্ধুত্বে কোন বাধা নয় , তা প্রমান করেছেন তিনি। আর কৃতজ্ঞতা সেই সব বন্ধুদের প্রতি – যারা প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য বন্ধু হয়ে ছিলেন আমার পাশে।

নিঃস্বার্থ উপহার পেয়েছি বেশ কিছু। আমার কিছুটা আগ্রহ ফটোগ্রাফিতে , এটা জানে আমার ছোট ভাই। আমার জন্য নিয়ে এসেছে – CANON , EOS 1100D . খুব খুশী আমি।

পেয়েছি একটি কাশ্মীরি শাল। অদেখা এক বন্ধু পাঠিয়েছেন ভারত থেকে। ভারতে গিয়ে সামনা সামনি তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে হবে।
এখানে জানালে আমি নিজেই সন্তষ্ট হতে পারবো না ।

পেয়েছি একটি মানি ব্যাগ , খালি নয় একেবারে । খালি মানি ব্যাগ নাকি গিফট করতে নেই ।  খুব ছোট কিন্তু আন্তরিকতায় জড়ানো এই গিফট এবং গিফট প্রদানকারীর দুজন বন্ধুর সাথে পরিচিত হওয়াও আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত আনন্দের । আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ ত্রিরত্ন , ভালো থেকো তোমরা । ইচ্ছে করেই নাম দিলাম না তোমাদের। তোমরা তো বুঝবেই ।

আমার হাফ সেঞ্চুরি পার হওয়ায় ৫০ টাকার ফ্লেক্সি দেয়া বন্ধুকেও অভিনন্দন এমন অভিনব গিফট দেয়ার জন্য।

আর বিজনেস রিলেটেড গিফট শত শত এর মাঝে । খাটি সরিষার তেল , ঘি , আলু , বিস্কিট , চানাচুর , লাচ্চা সেমাই ইত্যাদি দিয়ে বোঝাই এক বিশাল বস্তা গিফট পেয়ে সবচেয়ে আনন্দ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু ভক্ত এই রসিক লোকটির সাথে এবার প্রথম পরিচয় , তিনি FBCCI এর একজন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় এবছর দেয়া  হবে , এটিও ছিল এক আনন্দের বিষয় আমার কাছে। এবছর হয়নি , আশাকরি ২০১৩ সন এর আনলাকি ১৩ টা রাজাকারদের বেলায় প্রযোজ্য হবে ।

সবশেষে সোনেলা ব্লগ ছিল এবারের আনন্দ এবং সন্তুষ্টির এক বিষয়। খুশী আমি খুব , নিজের কিছু চিন্তা ভাবনা এখানে লিখতে পেরে।
কৃতজ্ঞতা সেই সব মানুষদের প্রতি , যারা এই সোনেলায় লিখে আমাকে উৎসাহিত করেছেন ।

১১৪জন ১১৩জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য