সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

আজ এক চড়ে বদন বিগড়ে দিবো।
মনে রাখিস এখনো জমিদার হরিবাবু চিতায় উঠে নি।
যখনতখন ঘাড়চেপে ধরবে।
ভূতের বাচ্চা ভূত!
তোদের কাজকাম নেই। যখনতখন এসে আমায় জ্বালাতন দিয়ে থাকিস।
অনেকদিন পর হরিবাবু ভূতপ্রেতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে এসব কথা বলছেন।
পাশের ঘর থেকে এমন কথা শুনে হিন্দুবালা চিৎকার দিয়ে বলছেন ওরে ওরে,
ওঠো তোরা।
সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে আমার তেনার।
কোথায়রে মোহন,
কোথায়রে বিনু ওঠো।
তোমরা সবাই তাড়াতাড়ি আসো।
মোহনরে ভাই মোহন..
ডেকে তুল নগেন জ্যোতিষী মশাইকে।
আমার তেনাকে আজও ধরছে।
হিন্দুবালার চিৎকার শুনে বাড়িতে একটা হুলুস্থুল লেগে গিয়েছে। লালমোহন বিছানা থেকে ওঠে নগেন জ্যোতিষীকে টেনেটুনে তুলতে লাগলো।
জ্যোতিষী মশাই দীর্ঘদিনের ভুক্তভোগী নিদ্রারোগী।
যদিও কয়েকদিন পর ঘুম পেয়েছে কুম্ভকর্ণের ন্যায়।
তাই তাঁকে ডেকে তুলতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে মোহনের।
সবাই চিৎকার করে বলছে ভূত এসেছে ভূত এসেছে,
জমিদারবাবুর ঘরে।
চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভূতের সাথে দেখা না করে ডাক্তার নীলুদা ও রাঘব দৌড় দিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
হরিবাবু হিন্দুবালাকে ডেকে বলছেন কি হলো
গো কাকে ভূতে ধরেছে?
তোমাকে না তোমার সোহাগী ভাইকে?
ওগো এ কি বলছেন আপনি?
এইতো কিছুক্ষণ আগে ভূতের সাথে তর্ক করছিলেন।
আর এখন বলছেন কাকে ভূত ধরেছে!
সত্যি তুমি কি আমার পতি না ভূতপ্রেতের কোন সহযোগী।
ছিঃ ছিঃ!
এ কী বলছ গো গিন্নি?
ভূতপ্রেতের নাম ধরে আমায় তো একেই খেয়ে ফেলেছ। আজ বলছ আমি তোমার পতি কি না!
এই কথা কি
আমার শুনার ইচ্ছে ছিলো।
মিস্টার নগেন জ্যোতিষী এসেই তন্ত্রমন্ত্র বলতে লাগলেন। ঘুমঘোরে জ্যোতিষী মশাইয়ের আবোলতাবোল মন্ত্র শুনে জমিদারবাবু হাসছেন।
বিনু ভাবছে সত্যিই আজ জমিদার মশাইকে ডাইনি ধরেছে। না হলে এমন করে কেউ কী খিলখিলিয়ে হাসে।
গতকাল রাতে রহমত আলী কোথায় বের হয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফিরেন নি।
রহমত আলীর স্ত্রী সাকিনাবিবি তন্নতন্ন করে চারদিক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কোথাও রহমত আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সাকিনাবিবি অনেক গণনা করেছেন মসজিদের ইমামকে দিয়ে। তাতে কোন ফল পান নি।
এইবার এসে ঠেকলেন জমিদারবাড়িতে নগেন জ্যোতিষীর কাছে।
রহমত আলী প্রবীণ লোক এছাড়া তুখোড় দাবাড়ু।
কত রাত কত দিন কেটেছে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে না বাড়ি ফিরে। কিন্তু সাকিনাবিবির গতকাল থেকে বড্ড সংশয় জেগেছে।
শনিবার দিন ভূতপ্রেতের আনাগোনা।
তন্ত্রমন্ত্রের প্রাচীন ইতিহাস সব গল্পবইয়ে আছে।  কতটুকু সত্য তা নিয়ে ছোটবেলা থেকে রাঘবের একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
ভোর হতে না হতেই সাকিনাবিবি এসেই জমিদারবাড়িতে হাজির।
নগেন জ্যোতিষী হরিবাবুকে ফুঁ ফাঁ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। বিছানা থেকে শুয়ে শুয়ে বলছেন রহমত আলীকে ভূত ধরছে। চিন্তার কারণ নেই।
কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিবে।
আরেকটা বিয়ে দিয়ে!
সাকিনাবিবি বলছেন আরেকটা বিয়ে মানে কী জ্যোতিষী মশাই?
রহমত আলীর আরেকটা বিয়ে ভূতের সাথে হতে চলছে।
এ কী বলছেন?
সর্ব্বনাশ।
উপায় কী জ্যোতিষী মশাই।
উপায় কিছু নেই। রহমত আলীকে বিয়ে করতেই হবে।
আর তা না হলে উপায় থাকবেনা।
শীতের সকালে এক গ্লাস খেঁজুর রস খেতে খেতে উনুনের পাশে বসে বিনু ও রাঘব দুজনি ডাক্তার নীলুধাকে নিয়ে ভূতে গল্প শুনতে লাগলো।
শীতের সকালে মজাদার খাবার ছিল মিঠাই, সাদ্দাম, পলাশ আরো কত কিছু।
উনুনে বড় একটা হাঁড়িতে খেজুরের রস ফুটছে,সে গন্ধে বাগানবাড়ির ভূতগুলা মুগ্ধ হয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছে!
গতদিনের চেয়ে আজকের ভূতের গল্প ছিলো বেশ রসিকভাবের। বিনু ও রাঘব দুজনি হাসতে হাসতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
আজকের গল্পটা ছিলো ভূতের বিয়ে নিয়ে।
ভূতের বিয়ে নাকি হয় তেঁতুলগাছে।
এক ডাল হতে আরেক ডালে লাফিয়ে লাফিয়ে।

৩৮৫জন ২৯৫জন
10 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য