আত্মাপাখি…

মুহম্মদ মাসুদ ২৫ জানুয়ারী ২০২০, শনিবার, ১১:৪০:৪৪অপরাহ্ন উপন্যাস ২৩ মন্তব্য

ঘুটঘুটে অন্ধকারে আলোছায়ার জাফরি চোখমুখের অলিগলির চিপায় চাপায় ছাপ পড়তেই দেহের নাড়িভুড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার মতো হয়ে যায়। বুকের ভিতর থেকে ধুকপুক ধুকপুক সাজসজ্জার তদারকি নিজ দায়িত্বে শরীরের মাংসপেশিতে ভয়ের অনুভূতির শিহরণে শরীর ঘেমে ঘেমে লবনাক্ত করছে নিমেষেই। এই প্রথম পৃথিবীতে নিজেকে সচলের অংশে অচলের ছায়ামূর্তি রূপে রূপবতী লাগছে।
দূরে, বেশ দূরে থেকে আবছা আবছা নিবু নিবু আলো দেখা যাচ্ছে। যতবার চোখের পলক পড়ছে ততবারই দেখছি আরও নিবু নিবু জ্বালা যন্ত্রণায় ছটফট করছে। মনে হচ্ছিল দেহ থেকে আত্মাটা বুঝি চলে যায়। আর আশপাশটা সুনশান-নিস্তব্ধ কবরের মতো একা এক পরিবারের মতো করে যায়।
ইস্! কবরের কথাটা মনে আসতেই শরীরের মাংসপেশি থেকে শুরু করে হাড্ডি-গুড্ডি এমনকি লোমগুলোও শিউরে ওঠে। ভেতর থেকে অতৃপ্তির আক্রমণ শরীরটাকে পেঁচিয়ে কুড়মুড় করে ভেঙে ফেলে। আর সহসাই একফালি কান্নার আওয়াজ, এক মুঠো বেঁচে থাকার আর্তনাদ, এক চিলতে হাসিখুশি প্রাণবন্ত প্রিয় পরিচিত মুখের ছায়া এসে ভিড় করে বৈদ্যুতিক খুঁটির মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। আর আমি…! আমি হকচকিয়ে উঠি।
নিবু নিবু আলোর খুঁটি পাশ ফিরে যেতেই মনে হলো কেউ একজন পিছু পিছু হাঁটছে। বিশেষ করে রাস্তার মোড়ে জরাজীর্ণ জীর্ণশীর্ণ বটগাছের কাছাকাছি যেতেই বুকের পর্দাগুলো নিজে নিজেই জড়োসড়ো গুটিসুটি হয়ে থেমে গেলো। কলিজায় বাকী যেটুকু জান কিংবা আত্মা লুকিয়ে আছে সেটাও যায় যায় অবস্থা। কিছুটা আত্মা ঠোঁটেঠোঁটে নড়বড়ে হয়ে নেতিয়ে পরেছে। আর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বাকী কলকব্জাগুলো ভয়ের অনুভূতির আগুনে পুড়ে পুড়ে জব্দ।
পকেট থেকে সিগারেট বের করেছি। কিন্তু জামাপ্যান্টের আনাচকানাচে তন্নতন্ন করে খুঁজেও ম্যাচ (দিয়াশলাই) বাবাজীর দেখা মিললো না। তখন যেন দেহ থেকে আত্মাপাখি ফুড়ুৎ করে উড়ে গেলো।

চলবে…

৩৭০জন ২৪৭জন
16 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

  • মুহম্মদ মাসুদ-এর চিহ্ন পোস্টে
  • মুহম্মদ মাসুদ-এর চিহ্ন পোস্টে
  • মুহম্মদ মাসুদ-এর চিহ্ন পোস্টে
  • মুহম্মদ মাসুদ-এর চিহ্ন পোস্টে
  • মুহম্মদ মাসুদ-এর চিহ্ন পোস্টে