অনলাইন ছবি- ২১ আগস্ট বিএনপি শাসনামলে শেখ হাসিনা গ্রেনেড হামলার শিকার
ভুলিনি ২১ আগস্ট বিএনপি শাসনামলে শেখ হাসিনা নজিরহীন গ্রেনেড হামলার শিকার

 

কবিগুরুর অজর গীতাঞ্জলির বাণী বাঙালিদের মনে যখন-তখন আসেই। সঙ্কটে তা আসে মনের প্রণোদনার উতস হয়ে। চারপাশের যত উদ্ভট অবাস্তব আজগুবির বয়ানে বচনে মন একদমই তিতিবিরক্ত … তখন কবিগুরুর বাণী-ই আউড়াই –

“তুমি দূত পাঠিয়েছো বারেবারে-

তারা বলে গেলো ভালোবাসো –

অন্তর হতে বিদ্বেষবিষ নাশো”।।

সঙ্গেসঙ্গেই আরও মনে আসলো অবিস্মরণীয় লাইনগুলি –

“যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু নিভাইছে তব আলো –

তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছো তুমি কি বেসেছো ভালো?”

 

ক্ষমা যাদের কিছুতে প্রাপ্য না, বিধাতার সংবিধানে ক্ষমাহীন নিশ্চয় তারা। আমরা  প্রায় সকল ধর্মগ্রন্থের মধ্যেই পাই – বিধাতা সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আমাদেরও অপছন্দ তাদের। কিন্তু সমস্যা এই যে তেনারা সেটি মোটেও বোঝেন না। তেনারা “উলটো বুঝিলি রাম”-এর দলের এক দঙ্গল অপরাজনীতির ধারক নেতানেত্রীগঙ। যাদের মুখনিসৃতঃ বিবৃতি হতে জনগণের জন্য কোনও দিকনির্দেশনার বদলে হাস্যকর উদাহরণ হিসেবে পাওয়া যায় সহস্র চিত্র সর্বত্র।  তেনাদের দলীয় চামচা ব্যাতীত অন্য কারও কাছে তাদের বচন আদৃত নয়। এদেশে বহুকাল ধরেই তাদের দৌরাত্মে নাভিশ্বাস জনগণের। তবু তাদের দেশপ্রেমের ভন্ডামো চলছেই। সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ ঔদ্ধত্য তাদের নেত্রী দেখিয়েছেন ইতোপূর্বে। অতঃপর গাঁটছাড়া বেঁধেই জোটাবদ্ধ রাষ্ট্রবিরোধীদের সঙ্গে। নেত্রীর জোটের প্রধান শক্তি জামায়াত-শিবির-হেফাজতী ধর্মান্ধগণ। দেশের মানুষ  এসব জানে। এবঙ দলীয় নেতারা বিভিন্ন উস্কানীময় দাঙ্গা বাঁধাতে ততপর। বিগত বছরগুলিতে সেইসব অন্যায় অপততপরতায় দেশ ও দশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার অন্তরায় হয়েই দেশের প্রধান বিরোধী দল আজও অবাস্তব সংবিধান অমান্যের দৃষ্টান্ত হলেন, প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক আহ্বানের  সম্পূর্ণ বিপরীতে। তাদের সীমাহীন অন্যায় কর্মকান্ড বেমালুমই ভুলে চরম ভন্ডের মুখোশেই আবৃত করলেন নিজেকে এবঙ বিবৃতিদান করলেন অবলীলায় – “অতীতে যত অন্যায় আচরণ আমার পরিবারের উপর দলের সদস্যদের সঙ্গে হয়েছে ক্ষমা করে দিলাম”!!! উল্টোরথেই সওয়ার তিনি ও তার জোটের দল!!! যাদের কাছে জাতির আর চাওয়াপাওয়ার অবশিষ্ট কিছুই নাই তারাই শোনাতে চাইছে জাতিরে ক্ষমার বাণী!!! ক্ষমাসুন্দর শব্দটাই যেন বা কলুষিত!!! আমরা ভুলিনি তাদের অন্যায়-অত্যাচারের কুকীর্তি। ২০০১-এ নির্বাচন জিতেই বিজয় উল্লাসে হিন্দু মেয়েদেরকে বেইজ্জত করার চরমতম অন্যায়। যেন একাত্তুরের পাকিস্তানী হায়েনাদের দল। আজও যারা বিবৃতি শেষে – “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলেই দলীয় শ্লোগান দেয়। এতে যে বাংলাদেশের চেতনার প্রথম সোপান একুশে ফেব্রুয়ারিকেও অবমাননা করে চলেছে দলটি তার কি ক্ষমা কোনওভাবে হয়???? প্রশ্নটি রাখলাম জাতির বিবেক তরুণ প্রজন্মের কাছেই। আরও একটি প্রশ্ন – ভোলা কি সম্ভব কিছুতে বিএনপি শাসনামলে শেখ হাসিনা  নজিরহীন গ্রেনেড হামলার শিকার??? আইভি রহমানের বোমায় অর্ধাংশের উড়ে যাওয়া রক্তাক্ত দৃশ্যটি??? আর আজও যারা শরীরে বয়ে চলেছে ক্ষত তারা কি বিএনপিকে করেছে ক্ষমা??? দুইটি প্রশ্ন রাখলাম আমার অনুজসম / সন্তানতুল্য প্রজন্মের নিকট। আমার বিশ্বাস তারা জবাবে রুখে দাঁড়াবে চেতনা ধ্বংসকারীদের অসত ভন্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে।

কার্তিক ১৪২০ বঙ্গাব্দ।।

২৮৪জন ২৮৪জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য