স্বপ্নদেশের আজব স্বপ্ন

জিসান শা ইকরাম ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, ০২:০৩:৪০অপরাহ্ন অন্যান্য ২৬ মন্তব্য

বিশ্রামের দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত হয়ে হাবুডুবু না, একেবারে ডুবেই গিয়েছি। ডাক্তার, বন্ধু বান্ধব আত্মীয়স্বজনদের রক্ত চোখের উপদেশ- সব কিছু বাদ দিয়ে বিশ্রাম নাও, ঘুমাও আর ঘুমাও। চব্বিশ ঘন্টার চার ঘন্টা ঘুমালে কি হয় একজন মানুষের? সে ঘুম স্যাকারিন ঘুম হলেও হয় না। নিজেও বুঝি ঘুম দরকার আমার, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল।

ব্যাপক আয়োজন করে ঘুম এর চেষ্টা। বিছানায় চিত হয়ে পায়ের আঙ্গুল থেকে শুরু করে পা এর পাতা, মাংশ পেশী, উরু, কোমর, পেট হয়ে মুখ মাথা পর্যন্ত শিথিল করে ঘুমের ভাব আনার চেষ্টা। বেড়ার ওপাশ থেকে একশত ভেড়া একটি একটি করে অন্য পারে নেয়া আরম্ভ- ৯৯, ৯৮, ৯৭ …………… ২৮…..২২, ২১…… ৩ ঘুমিয়ে গেলাম গভীর ঘুমে।

কিন্তু একি! ঘুমের মাঝে এমন স্বপ্ন এলে বিশ্রাম হবে কি করে? শরীর থেকে আমি বের হয়ে দেখি আমি ঘুমিয়ে আছি বেঘোর ঘুম। আর একটা আমি ভেসে ভেসে উড়ে চলে গিয়েছি এক আজব দেশে। তিনটি ঘটনা দেখে তাজ্জব হয়ে গেছি, এ কোন দেশে আসলাম?

* দেশের অর্ধেক মানুষ জিহ্বার উপরে পলিথিন রেখে খাবার খায়! জিহ্বার মাপ মত পলিথিনের একটা খাপ জিহ্বায় লাগিয়ে নেয় খাবারের আগে। অবাক আর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম একজন কে ‘ ভাইসাব এই যে আপনারা জিহ্বার উপর পলিথিন রেখে ফুচকা, চটপটি, বিরিয়ানি, মিষ্টি খাচ্ছেন এতে কি এসবের স্বাদ ঠিক মত পাচ্ছেন?’  কিছুটা তাচ্ছিল্য নিয়ে তার উত্তর ‘ নতুন নাকি আপনি এদেশে? অভিজ্ঞতা না থাকলে এসব আপনি বুঝতে পারবেন না। এভাবে খেয়ে দেখুন, বুঝলেও বুঝতে পারেন ‘।
ধুর এভাবে খাবার খেতে আমার বয়েই গিয়েছে। আল্লাহ্‌ জিহ্বা দিয়েছেন কি পলিথিন দিয়ে আটকিয়ে খাবার খাবার জন্য?

* আর এক শহরে গিয়ে তো অবাকের উপরে তাজ্জব হয়ে গেলাম। শহরটি কলা গাছ চাষের জন্য বিখ্যাত। কলাগঞ্জ নাম হয়েছে একারণেই। এক ইঞ্চি জমিও অবশিষ্ট নেই কলা গাছ এর আওতা মুক্ত। যাদের ফ্লাট বাড়ি, তারাও বাড়ির ছাদে কলার চাষ করে। শহরের অর্ধেক মানুষ কলা খায় কলার ছোলা সহ, বাকি অর্ধেক কলার ছোলা ফেলেই খায়।
ছোলা ফেলে খাওয়া তো স্বাভাবিক, তাই তারা আমার আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে নেই। যারা ছোলা সহ খায় তাদের কাছে অনেক সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম ‘ ভাই এই যে ছোলা সহ কলা খাচ্ছেন আপনারা, এর রহস্য টা কি?’
রক্ত চোখে এমন চিৎকার দিয়ে আমাকে উত্তর দিলেন ‘ তুই এখানে এলি কিভাবে? পোলাপানের মত প্রশ্ন করো যা ভাগ’। ভয়ে আর রক্ত চোখ দেখেই এমন দৌড় দিলাম যে মুহুর্তের মধ্যে এলাম এক পার্কে।

* যাক পার্কে এসে সবুজের মাঝে বিশ্রাম নেয়া যাবে। এসব উলটাপালটা জিনিস আর আপাতত দেখতে হবে না।
কিন্তু একি? দুইজন এটি কি খেলছে? ক্রিকেট এমন করে খেলে? একটা ষ্ট্যাম্প দাঁড়িয়ে আছে। দুইজনে দুদিক থেকে বল ছুড়ছে স্ট্যাম্পের দিকে। মাঝে মাঝে স্ট্যাম্পের গায়ে লেগে ওটা পরে যাচ্ছে। একজন এসে আবার ওটা পুতে দিচ্ছে মাটিতে। হঠাৎ একজন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো ‘ আমার বল কই? আমি খেলবো কিভাবে? ‘ সে কি কান্না!
আমি আসলে গুটি সুটি পায়ে ওদের একদম কাছেই চলে এসেছিলাম। বলটি আমার পায়ের কাছে একটু বড় ঘাসের মাঝে লুকিয়ে ছিল। কুড়িয়ে কান্না রত ছেলেটির হাতে দিলাম। বল পেয়ে ছেলেটি যেন বড় এক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হলো। সারা মুখে হাসি। চলে এলাম পার্কে থেকে। খেলুক ওরা মনের আনন্দে।

এমন স্বপ্ন দেখলে আমার বিশ্রাম হবে কিভাবে? ঘুমের মাঝেও যদি টেনশন আসে, কি উপায়ে আমার বিশ্রাম হবে? টেনশন তো আরো বেড়ে গেলো? এমন আজব স্বপ্ন কেন দেখি? এই স্বপ্নের অর্থ কি? আছেন নাকি কোন স্বপ্ন বিশারদ এখানে? থাকলে বুঝিয়ে দিন এই স্বপ্নের অর্থ, প্লিজ লাগে।

৩৯১জন ১৭৬জন
19 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য