সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়ার, মেঘ জড়িয়ে তারসাথে হুটোপুটি খেলার। কোন বাঁধাই যখন নেই, তখন তোমার কেন অনিচ্ছা হলো বুঝলাম না? আকাশ ছুঁয়ে মেঘ জড়িয়ে হুটোপুটি করতে চাওয়াটা কি খুব বেশি হয়ে গিয়েছিলো যে, তুমি পথরোধ করে দাঁড়ালে?

তুমি যা করো সব নাকি মঙ্গল। আমি তো এখানে তেমন মঙ্গলের কিছু খুঁজে পেলাম না।

যাকে অসম্ভব মেধা আর অসাধারণ মনের দুজন মানুষকে বাবা- মা হিসেবে সম্বল করে পাঠিয়েছিলে। একমাত্র ছোট্ট ভিটেটুকুই তাদের ঠাঁই। তবুও অল্প সময়ে মন জয় করা ছেলেটিকে সবাই ভালোবাসে। তার মেধা ও ব্যবহারে মুগ্ধ স্কুলের শিক্ষকরা যখন বললেন, “ছেলে তোমাদের পড়ানোর দায়িত্ব আমাদের।” পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আর। তবুও তার বাবা- মা কিছু সময় একেবারেই শূন্য হাতে ছেলের ভবিষ্যত সামনে নিয়ে তাকিয়ে ছিল তোমার পানে। ভরসা করেছে তোমাতে, তুমি ফেরাও নি।

অতপর একদিন ছেলেটি ভার্সিটি কমপ্লিট করে বিসিএস উত্তীর্ন হয়ে শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করলো। এখন সে হাজারো স্বপ্বের জন্ম দেয়। সমাজকে তার অনেক দেবার বাকি। প্রাণ ভরে সকলটুকু উজার করে দিতে চায়। সামনে আর কোন বাঁধাই যে নেই।

কিন্তু যে তুমি তাকে সব দিয়েছিলে আজ তুমিই কেন পথ রোধ করার প্লান করছো। আর সেই ভরসা করা বাবা- মা আর অল্প বয়সী বউ যার মেহেদীর রঙ এখোনো কাঁচা তাদের মনের অবস্থা কেমন যাচ্ছে ভেবে দেখো? কিছু হয়ে গেলে কিভাবে সইবে তারা এ দহন!

হে মহান মালিক, তুমিতো কতো পাপীদের পালন কর। তোমার বুকে অবাধে তারা বিচরণ করে। তাদের পাপী পায়ের দাম্ভিকতায় তোমার ধরনী কাঁপলেও তুমি মেনে নাও। আজ তোমার কাছে প্রার্থনা তাকে তুমি ভুল করে থাকলে মাফ করে দাও। নিস্পাপ মেয়েটির মেহেদী, তার স্বপ্ন, তার বেঁচে থাকার ছায়াকে অক্ষত রাখ। যাকে তুমি নিজ হাতে তৈরি করেছ তাকে নষ্ট হতে দিও না।

বলতো কোন কোন সময় সে- আমি আপনার ছেলে হবো?

-দুর এতবড় মানুষ ছেলে বানাবো না?

-তাহলে ভাই, কিছু তো একটা!!

-ভাইয়েরা শয়তান হয়।

-প্লিজ!

-ওকে, দেখা যাবে।

এমন হাসিখুশি সহজ মানুষটা, সে আমার যে কেউ হোক! সে যে কেউ হোক! হোক আমার ছেলে, আমার ভাই, আমার বন্ধু, আমার পরিচিত তবুও সে আমার কষ্ট। পরিচয়হীন এ সম্পর্কে কেন যেন বুকের ভেতরটা অসহ্য যন্ত্রনা করছে! একেবারে ছিঁড়ে- ফুঁড়ে যাচ্ছে। শুধু ভাবছি, তোমার এ কেমন বিচার!

তবুও হে মহান মালিক, তোমার কাছেই করজোড় মিনতি তুমি তাঁকে ভালো করে দাও, সুস্থ করে দাও, আগের মতো করে ফিরিয়ে দাও আমাদের মাঝে। যে কোন কিছুই তো তুমি ভ্যানিস করতে পারো। ক্যান্সার তো অতি সাধারণ কিছু!!!!

২৩০জন ৮৯জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য