অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট
– নবকুমার দাস
অশ্বতর 
প্রৌঢ় বাবা বলতেন :
গাধা পিটিয়ে কখনো ঘোড়া হয়না ।
তবুও আমি গাধাদের সামনে থেকে ঘাসজল খাইয়ে গেছি
যদি তাদের মধ্যে দুই একটা ডারউইন সাহেবের  ভক্ত  হয়ে ওঠে।
অবাক হয়ে দেখলাম :
অশ্ব নয়,
বরং দিন দিন অশ্বতর হয়ে উঠছে
মহান রাষভকুল ।।
 
 
কুম্ভীর
ওঁত পেতে শুয়ে আছে বালুতটে
তল্লাট জুড়ে দেঁতো হাসির মখমল
ঘোলা জলে কেবল লেজের তরপানি ।
এক যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিমেষে হাপিস হাড়মাস নখ চুল
একাকার খাদ্য খাদক শৃঙ্খল,
পেটমোটা সর্বভূক সর্বহারা ।
আছে কিছু ঘড়িয়াল
সুবেশ তরুণ মেছো,
কদাকার নক্রের ভীড়ে
একক শিকারী ।
অতীব ধুরন্ধর, ক্ষুরধার নখ ও দাঁত ।
জলেতে বসত
তাই সাবধানে থেকো শুশুক ভাই
সান্ধ্যভাষায় চর্যাপদ লেখা
কাহ্নপাদ লুইপাদ ভুসুকপাদ শান্তিপাদ …
ঢোল
গভীর জঙ্গলে ঢোলের রাজত্ব ।
খুবলে খায় তৃণভোজী কোটরা নীলগাই
গউর বাইসন বারশিঙা হরিণী
তেমন সুযোগে মহাবলী ঐরাবতও  ।
ঢোলেরা দলবেঁধে থাকে,
প্যাকসের প্যাকেজ
অফুরান উৎসাহ,প্রেষণা প্রণোদনা ।
নিরন্তর লালাক্ষরণ
তাই প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্য অনল ।
শৃগালে-ঢোলে তুতো ভাই
যেন কানাই-বলাই,
ঢোলেরা ধুর্তশিরোমণি
মহারাজের জান-পেহচান  …
শৃগাল
এই সব শিয়ালেরা
মহাপন্ডিত বাগানো চশমা,
শেমলেস রিম অথবা রিমলেস শেম
সারাদিন অং বং চং
হুক্কা হুয়ার ক্যা হুয়া ধুয়া মন্ত্র।
এই সব শিয়ালেরা
কুমিরের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায়
বাঁশ চাষ করে পাড়ায়-বেপাড়ায় সম্বৎসর
দাতব্য বাঁশশ্রী ঘনশ্যাম বাজায় বেনু, বেণুবনে
শৃগাল রাজা উড়ো খই ছড়িয়ে দেন
গোবিন্দের নামে …
অন্ধকার ঘনায় চরাচরে নাকি
অন্ধ গায়ক গেয়ে যায় সুভাষিত নামাবলী  চৌদিকে
সেই সব শিয়ালেরা সন্ধানে থাকে ভুখা ছাগলের
তারপর কাঁকড়া চিবিয়ে
মিষ্টিজলের হদিস দিলাম বলে বারবার
বোকা পাঁঠার পিঠে ও মাথায় পা রেখে কেটেপড়ে,
উঠেপড়ে মগডালে
কাঁকড়া জনতা লড়তেই থাকে রোটি মকান কাপড়ায়।
৭৭জন ২৩জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ