অহম এবং —

শুন্য শুন্যালয় ১ মার্চ ২০১৬, মঙ্গলবার, ০৮:১০:২৮পূর্বাহ্ন গল্প ৩৯ মন্তব্য

20160229_105446 [] (3) []
রাত জাগার অভ্যাস আমার একদম নেই। কোন কোনদিন মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, রোমান্টিকতার চুড়ান্ত করে চা-এর কাপ নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসা? উহ্ অসহ্য। এসব আমার একদম চলেনা। ঘুম আমার প্রেমিক, ভীষন ভালোবাসি ঘুমুতে। আজ খুঁট করে একটা শব্দ হওয়াতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। বিরক্তি লাগছিল না বটে, তবে কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিলো। কিছু একটা হচ্ছে, কেউ কি আমার দিকে তাকিয়ে আছে? নাহ, নাতো। কেমন এক ঘোরে জানলার পাশটাতে চলে এলাম। চমকে রাস্তার সাথের লাইটপোস্টের নীচে তাকালাম। “অহম” দাঁড়িয়ে আছে সেখানে, আমার দিকে অদ্ভূত ভাবে তাকিয়ে আছে। মাথায় একটা চাটি মেরে নিজেকে জাগালাম, আমার হয়েছে টা কি? কে অহম? অহম দেখতে কেমন জানলাম কি করে আর সেই ব্যাটা তিরির ছাগল অহম এইখানে আমার জানলার পাশে এসে কি করবে? মাথাটা পুরাই গেছে আমার।
হঠাৎ চমকে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি আমি রান্নাঘরে চায়ের পাতা খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমি নিশ্চিত আরেকবার চমক ভাঙ্গলে আমি নিজেকে বারান্দায় খুঁজে পাবো।
লাইটপোস্টের নীচের জায়গাটা শূন্য। অহম নেই সেখানে। অহম বলে সত্যিই কি কেউ আছে?
*****************************************************
আবেগ আর বাস্তবতার সংমিশ্রন কি সম্ভব? নিজেকে একই সাথে বাস্তববাদী আর আবেগী বলে মনে হয়, দুটোই একটু বেশি বেশি। তবে এই মূহুর্তে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে গর্দভ বলে মনে হচ্ছে, হাতের মধ্যে লেটারবক্স থেকে এইমাত্র বের করে নিয়ে আসা চিঠি, প্রেরক “অহম”। আমার সাবকনসাস মাইন্ড কোন একটা খেলা খেলছে আমার সাথে, দিব্যি বুঝতে পারছি। কোন গল্পের চরিত্র আমাকে চিঠি লিখছে, হাসতে গিয়ে নিজের উপর রাগে গজগজ করে চিঠিটা না খুলেই কুচি কুচি করে বিনে ফেলে দিলাম।
*****************************************************
এই পাখি মেয়ে, বলতো Illusion r delusion র মধ্যে পার্থক্য কী? জানিতো ঠোঁট বাঁকিয়ে বলছো, জানিনা। আমার উপর এত রাগ কেন তোমার, রাগী মেয়ে? ভাবছো আমি সত্যি নই, তোমার মনের কল্পনা? সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই, বুঝলে খুকী?
চিঠি লেখার একটা মজা কি জানো? যা ইচ্ছে তাই লেখা যায়, অন্তত তোমার ফেরত চিঠি না আসা পর্যন্ত, বেশ আবেগে ফুরফুরে মেজাজে শিষ দিতে দিতে এক লাড়কি ভিগিভাগি ছি গাওয়া যায়। আর আমিতো জানি তোমার কোন চিঠি আমি পাবোনা, ঠিকানাটা যে তোমার অজানার বাইরেই রেখেছি। আমি জানি, চিঠির উত্তর লিখবার জন্য এক্ষুনি তেড়েবেগে ছুটে আসতে ইচ্ছে করছে তোমার। তোমায় কিনা খুকী বলে ডাকি? কিন্তু না, এই যন্ত্রণাটুকু তোমাকে আমি দিতে চাই। তুমি চাইলেও আমায় লিখতে পারবেনা, ইচ্ছে করলেও আমায় দেখতে পাবেনা। শুধু আমি-ই পারবো। জানোতো? আমার নাম অহম। অহংকার। একা একা এই স্বার্থহীন ভালোবাসাটুকুর ভাগ আমি কাউকে দিতে চাইনা।
******************************************************
এই নিয়ে ৪০ টি চিঠি এলো অহমের। আয়নাটা ভেঙ্গে ফেলেছি একদিন। নিজেকে আজকাল আর দেখতে ইচ্ছে করেনা, চিনতে ইচ্ছে করেনা।
অহমের শেষ চিঠিটি পড়ছি। কবে থেকে নিজের হাতেরলেখাও নিজের কাছে অচেনা হয়ে গেছে জানিনা, চিনতে পারলে দেখতে পেতাম, চিঠিগুলোর হাতেরলেখা আমারই——————

উৎসর্গঃ নীলাঞ্জনা নীলাপু, দুঃসাহসের সীমা লংঘন নয়, বরং সীমার দূরত্ব আরেকটু বাড়িয়ে দিয়ে লিখে ফেললাম কএক লাইন। এই আমি কিন্তু আমি না, আমি সেও না :p

১৭৮জন ১৭৭জন
4 Shares

৩৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য