অস্ট্রেলিয়ায় নারী নির্যাতন

শিশির কনা ১ এপ্রিল ২০১৩, সোমবার, ১১:০৫:০১পূর্বাহ্ন অন্যান্য, বিবিধ ৮ মন্তব্য

অস্ট্রেলিয়ার মত একটি দেশে নারী নির্যাতন কল্পনাই করা যায় না । লেখাটি পড়ে শেয়ার না করে পারলাম না।

সঙ্গী সোজা বলে দিচ্ছেন, ‘‘এমন পোশাক পরা চলবে না৷’’ ধর্ষণ-নির্যাতন চলছে হরদম৷ ঘরে-বাইরে মেয়েদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নিত্যদিনের ঘটনা৷ দেশের নাম কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ নয় – অস্ট্রেলিয়া!

অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েরা কেমন আছেন?  বাইরে থেকে মনে হয় স্বর্গসুখে আছেন তাঁরা৷ আসলে যে ঘরের কোণে, পথে-প্রান্তরে, অফিস-আদালতে অস্ট্রেলীয় নারী আর উপমহাদেশ, আফ্রিকা বা আরব অঞ্চলের নারীদের মাঝে খুব বেশি পার্থক্য নেই, তা পরিষ্কার আইপিএস-এর এক প্রতিবেদনে৷ অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সি নারীদের অনেকে পাঁচ বছর আগেই জানিয়েছেন পুরুষ কতটা নির্মম আচরণ করে আসছে তাঁদের ওপর৷ সে দেশের ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিকস এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে দেশময় নীরবে চলছে ভয়াবহ নারী নির্যাতন, ধর্ষণ,যৌন নীপিড়ন৷ শারীরিক নির্যাতন মুখ বুঁজ সহ্য করতে হচ্ছে নারীদের৷ এ ধরনের নির্যাতনের এক তৃতীয়াংশই হয় বাড়িতে৷

বিয়ে করলে বিবাহিত জীবনে নারীদের অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা বলতে তেমন কিছু থাকেনা৷ সন্তান হলে অস্ট্রেলিয়ার অনেক মেয়েও ছেড়ে দেয় চাকরি৷ তারপরই শুরু হয় বিপদ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেছেন স্বামী সবরকমভাবে তাঁদের বন্দি করে রাখতে ক্রেডিট কার্ড কেড়ে নিয়ে বাতিল করেছে, মোবাইল ব্যবহারেও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, যখন তখন বাইরে বেরেনো অনেক মায়ের কাছে যেন বেশি কিছু চাওয়া, এমনকি বাবা-মায়ের কাছে যাওয়াও নিষিদ্ধ৷

বিয়ে না করলেও রেহাই নেই৷ ‘বয়ফ্রন্ড’ বা ‘পার্টনার’-ও সম্পর্ক একটা পর্যায়ে গেলেই খুলে ফেলে মুখোশ৷ চলে অকথ্য নির্যাতন৷ নারীর বিরুদ্ধে সহিংশতা জরিপ সংস্থা আইভিএডাব্লিউএস জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় অবিবাহিত নারীরাও সাবেক বা বর্তমান ছেলে বন্ধু বা সঙ্গীর কাছে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অহরহ৷ কোনো সম্পর্ক নেই এমন পুরুষের নির্যাতনের শিকার হারই বরং কম, কোথাও কোথাও নাকি ছয় জনে মাত্র একজন৷ নির্যাতকদের কদর্যতা ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের কথাই মনে করিয়ে দেয়৷ প্রেমিকা বা সঙ্গিনীকে বলা হচ্ছে, ‘‘শরীর দেখা যায় এমন পোশাক কখনো পরবেনা, অন্য পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করবেনা, টেলিফোনে যার-তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ” – এমন কথা অস্ট্রেলিয়ার পুরুষরা ভাবতেও পারে তা কি কল্পনা করা যায়!

অবশ্য নারীর অবস্থা এবং অনেক পুরুষের আচরণের সঙ্গে মিল দেখা গেলেও নারীর নিরাপত্তা বিধানে সরকারের ভূমিকা দেখলে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পার্থক্য মানতেই হবে৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু আইন করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার৷ ঘরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে জানালে পুলিশি ব্যবস্থার নিশ্চয়তা তো আছেই, এ কারণে বিশেষ ছুটিও অচিরেই পাবেন নির্যাতিতারা৷ এছাড়া নারী এবং শিশুদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে ১২ বছর মেয়াদি এক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার৷ উপমহাদেশ, আফ্রিকা বা আরব দেশগুলোতে এমন দিন আসবে কবে?

এসিবি/ডিজি (এএফপি)
লেখার সুত্র

২১৫জন ২১৫জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য